X
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
৭ বৈশাখ ১৪৩১
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

বারবার সংঘর্ষ, লাগাম টানবে কে?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০১আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০১

কখনও চেয়ারে বসা নিয়ে, আবার কখনও কথা কাটাকাটির জেরে, কখনও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়েকদিন পরপরই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। পান থেকে চুন খসলেই রামদা, হকিস্টিক, রড, চাপাতি ও স্টাম্প নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে যান সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, হলের কক্ষ দখল, সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের মারধর, যৌন হয়রানি, গাড়ি ভাঙচুর এবং শিক্ষক-ঠিকাদারকে হুমকি দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন তারা। এসব ঘটনায় কার্যকর কোনও নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হলের কক্ষ দখল, সিনিয়র-জুনিয়র বাগবিতণ্ডা, ক্যাম্পাস ও কেন্দ্রে শক্তি প্রদর্শন এবং চাঁদার ভাগ-বাঁটোয়ারাসহ নানা কারণে গত ১৪ মাসে অন্তত ২০ বার সংঘর্ষে জড়িয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রতিবারই ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধারালো অস্ত্রের মহড়া দিয়েছেন তারা। এতে আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক নেতাকর্মী।

শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের দেড় মাসে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাতবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সংগঠনের তিন গ্রুপের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ আহত হয়েছেন ৫৪ জন। সংঘর্ষের নেপথ্যে রয়েছে আসন্ন ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে আর্থিক সুবিধা আদায়, প্রশাসনের নিয়োগে অনিয়ম, শিক্ষকদের দলাদলি ও ছাত্রলীগের গ্রুপগুলোতে অছাত্রদের দাপট। দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় শাখা ছাত্রলীগের লাগাম টানতে কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ফলে তাদের কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

সর্বশেষ ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির এক নেতাকে কোপানোর জেরে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় সিক্সটি নাইন ও চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) গ্রুপ। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। যদিও এই ঘটনার রেশ ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এর আগে গত ৩০ মে ও ২১ সেপ্টেম্বর সিক্সটি নাইন ও সিএফসির নেতাকর্মীরা কয়েক দফায় সংঘর্ষে জড়ান। ৬ অক্টোবর খাবার হোটেলে দুই কর্মীর মধ্যে তর্কাতর্কির জেরে সংঘর্ষে জড়িয়ে গিয়েছিল দুটি পক্ষ। এসব সংঘর্ষের সময় অন্তত শতাধিক নেতাকর্মীর হাতে ছিল রামদা, লোহার রড ও ক্রিকেট স্টাম্প।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সংগ্রহকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারধরের শিকার হোন প্রথম আলোর এক সাংবাদিক। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

গত ১৯ জুন চায়ের দোকানে বসা নিয়ে এক সাংবাদিককে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় দুই ছাত্রলীগ নেতাকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হলেও চার মাসের মাথায় ‘মানবিক কারণ’ দেখিয়ে বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার আগে ৯ ফেব্রুয়ারি পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হোন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক নারী সংবাদকর্মী। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখনও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

প্রতিবারই ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও ধারালো অস্ত্রের মহড়া দিয়েছেন নেতাকর্মীরা

গত ২৮ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজলকে মারধর করেন বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু মুন্সি। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাককে লাঞ্ছিত করেন। এর আগে ২৬ আগস্ট চাঁদা না পেয়ে ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এই নেতা।

গত ১৭ জুলাই রাতে ক্যাম্পাসে পাঁচ তরুণের হাতে এক ছাত্রী যৌন নির্যাতন ও মারধরের শিকার হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকায় পাঁচ তরুণ ওই ছাত্রীকে বেঁধে অশ্লীল ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এক বন্ধু প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে দুজন ছাত্রলীগের কর্মী ছিল। তাদের বিরুদ্ধেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাইয়ে ৩৭৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে সংগঠনের কেন্দ্রীয় দফতর। ওই কমিটির অন্তত ২০ নেতারই ছাত্রত্ব নেই। তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হলের কক্ষ দখল করে থাকছেন। এমনকি হলের নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে। তারা জড়িয়েছেন নানা অপকর্মে। পরে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সংঘর্ষের ঘটনা বেড়ে যায়। যেসব ঘটনার জেরে সংঘর্ষ হচ্ছে, সেগুলো দুই পক্ষ বসেই ঘটনাস্থলে সমাধান করা যায়। কিন্তু তা না করে তুচ্ছ ঘটানাকে গ্রুপের নেতারা ব্যক্তি স্বার্থে সংঘর্ষের পর্যায়ে নিয়ে যান। এছাড়া প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার আগে ছাত্রলীগের উপ-গ্রুপের কোন্দল ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করে তোলে। এর কারণ ভর্তি পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রশাসন থেকে সুবিধা আদায়, টেন্ডার ভাগ-বাঁটোয়ারা, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে নিজের প্রয়োজনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে। ফলে প্রশাসনও অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের সবগুলো ঘটনাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত। প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করেছেন বর্তমান উপাচার্য শিরীণ আখতার। ফলে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতি দুই পক্ষে বিভক্ত। একটি পক্ষ নিজেদের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। আরেকটি পক্ষ সাবেক সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। এই দুই পক্ষ আবার ১১ উপদলে বিভক্ত। উপদলগুলোর নাম মূলত শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন থেকে এসেছে। এগুলো হলো—একাকার, কনকর্ড, রেড সিগন্যাল, উল্কা, বাংলার মুখ, সিক্সটি নাইন, এপিটাফ, ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স), সংগ্রাম, বিজয় ও সিএফসি। একেকটি হলের দখল এখন ছাত্রলীগের একেকটি উপদলের নিয়ন্ত্রণে। এগুলোর নেতৃত্বে আছেন চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসান দিনার, সংগঠনের সাবেক সহসভাপতি নাছির উদ্দিন সুমন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ, সাবেক সদস্য সাইদুল ইসলাম, ভার্সিটি এক্সপ্রেসের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী, বাংলার মুখের নেতা ও সাবেক পাঠাগার সম্পাদক আবু বকর, সিক্সটি নাইনের নেতা রাজু মুন্সি ও শামসুজ্জামান সম্রাট, একাকার উপদলের নেতা মঈনুল ইসলাম। নেতাদের বেশিরভাগের ছাত্রত্ব নেই অথবা নেতা হওয়ার আশায় বছরের পর বছর ড্রপ দিচ্ছেন। নিজেরা হলে থাকার পাশাপাশি অনুসারীদেরও জায়গা করে দিচ্ছেন। সামনে কমিটি গঠন ঘিরে গ্রুপগুলা নিজেদের শক্তি প্রমাণে মরিয়া।

গত বছরের ৩১ জানুয়ারি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে নিয়োগ না দেওয়ায় উপাচার্যের কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছিল। সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেননি উপাচার্য।
এরই মধ্যে শুরু হয় উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন। গত বছর প্রশাসন থেকে একযোগে প্রক্টরসহ ২০ জনের পদত্যাগের পর চলতি মাসে আরও দুজন সহকারী প্রক্টর পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষক সমিতি আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে এক শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনা। এমন সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে উপাচার্য তাদের সহযোগিতা পাবেন না। ফলে চেয়ার টিকিয়ে রাখতে উপাচার্য নীরব ভূমিকায় বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

গত শনিবার সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উপাচার্যকে নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানান। এতে ইতিপূর্বে যারা এ ধরনের সহিংসতায় জড়িত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে একাডেমিক-প্রশাসনিক এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে যেন কোনও দায়ী ব্যক্তি নিষ্কৃতি না পায়, এ বিষয়ে সচেতন থাকতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার মনে হয় এসব ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অদক্ষতার পরিচয়। শুধু ছাত্রলীগের সংঘর্ষ নয়, ছাত্ররাও নানা ধরনের অগ্রহণযোগ্য কার্যকলাপে যুক্ত হয়। নতজানু মানসিকতার কারণে কোনও ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একজন প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত লোকজন বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে পানির লাইনসহ সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল। তার মানে হলো, আইনের প্রয়োগ বা নিয়মনীতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার ক্ষেত্রে যে ক্ষমতা থাকা দরকার, এটি নেই বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এই দুর্বলতার কারণে যে যার মতো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব সামলাতে পারছেন না উপাচার্য। দুর্বলতা বলতে নিজের বিরুদ্ধে যেসব অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, সেগুলো পাহাড়সম। ফলে প্রশাসনকে জিম্মি দশায় ফেলছে যে কেউ। এখানে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। কোনও বিষয়ে কোনও বিচার এখানে নেই।’ 

এসব ব্যাপারে জানতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য শিরীণ আখতারকে কল দিলে ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

ছোটখাটো ঘটনা সমাধান না করে সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সিএফসি গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মির্জা খবির সাদাফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানের শিক্ষার্থীদের একেবারেই ধৈর্য নেই বললে চলে। তারা সহনশীল নন। নেতাকর্মীদের সহনশীল হতে হবে।’ 

গত শুক্রবার সংগঠনের তিন গ্রুপের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ আহত হয়েছেন ৫৪ জন

অপর পক্ষকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘সিক্সটি নাইন পক্ষ আগের দিন বিজয় পক্ষের সঙ্গে ঝামেলা করেছে। ওই দিনই আবার আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করেছে। দুই পক্ষের অনেক সিনিয়র ক্যাম্পাসে রয়েছেন। তাদের মধ্যে নেতৃত্ব না থাকায় কারও সঙ্গে কথা বলে সমাধানে যাওয়া যাচ্ছে না। এটাই সমস্যা।’

কমিটি না থাকার বিষয়ে মির্জা খবির সাদাফ বলেন, ‘কমিটি থাকলে অবিভাবক থাকে। কর্মীদের একটা দায়বদ্ধতা থাকে। কমিটি হলে আশা করছি, অনেক ক্ষেত্রে এসব সমস্যা কমে যাবে।’

সংঘর্ষের কারণ জানতে সিক্সটি নাইনের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম সাঈদকে একাধিকবার কল দিলে রিসিভ করেননি।

চবি ছাত্রলীগের কমিটিতে কেন এত গ্রুপ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মুহূর্তে কোনও কমিটি নেই। কাজেই সেখানের পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা যাচাই-বাছাই করে কমিটি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি।’

শাখা ছাত্রলীগের এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বিষয়ক সম্পাদক রাইসা নাসের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কোনও কমিটি নেই, তাই এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব ব্যাপারে আমরা অবগত। আমাদের বিবেচনায় আছে। যত দ্রুত সম্ভব শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে শান্তিপূর্ণভাবে শাখা কমিটি পরিচালনার চেষ্টা করবো আমরা। সেখানে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখাতে যোগ্য নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই করছি। সেজন্য আমরা সময় নিচ্ছি।’

যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তাদের এ ধরনের ঘটনায় না জড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি উল্লেখ করে রাইসা নাসের বলেন, ‘অসাংগঠনিক ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কার্যক্রমে জড়াতে কখনও আমরা উৎসাহিত করি না, বরং নিরুৎসাহিত করি। এ ব্যাপারে আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কী হবে, তা দ্রুত জানানো হবে। প্রশাসন থেকে যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেই ব্যাপারেও আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।’

/এএম/
সম্পর্কিত
উপজেলা নির্বাচন নিয়ে যুবলীগ নেতার ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ
চাঁদপুরে লঞ্চে আগুন, হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত ১০
ঈদযাত্রার সময় দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত: জরিপ
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কোনও নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয় না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিএনপির কোনও নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয় না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গরমে সুপেয় পানি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে পুলিশ
গরমে সুপেয় পানি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে পুলিশ
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিললো রেকর্ড ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিললো রেকর্ড ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতির অভিযোগ: সাবেক আইজিপি বেনজীরের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
দুর্নীতির অভিযোগ: সাবেক আইজিপি বেনজীরের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
সারা দেশে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা
সারা দেশে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা
সোনার দাম কমেছে, আজ থেকেই কার্যকর
সোনার দাম কমেছে, আজ থেকেই কার্যকর
শিল্পী সমিতির নির্বাচন: সভাপতি মিশা, সম্পাদক ডিপজল
শিল্পী সমিতির নির্বাচন: সভাপতি মিশা, সম্পাদক ডিপজল
দেশের ৯ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির বেশি, পারদ উঠতে পারে আরও
দেশের ৯ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির বেশি, পারদ উঠতে পারে আরও