মাহিরের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদমুখর শাবি

Send
শাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:৪০, জুন ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৫, জুন ১৮, ২০২০

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাহির চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা অযৌক্তিক ও হয়রানিমূলক আখ্যায়িত করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন তারা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়।


প্রতিবাদস্বরূপ বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ডসহ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেছেন। ‘মাহিরের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের করা মামলা প্রত্যাহার কর, মাহিরের বিরুদ্ধে প্রহসনমূলক মামলা প্রত্যাহার চাই, মাহিরের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করো, বাক স্বাধীনতা বিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল কর, মাহিরের বিরুদ্ধে শাবিপ্রবি প্রশাসনের মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার চাই’- ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড শিক্ষার্থীরা অনলাইনে শেয়ার করেন।
এছাড়া বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনলাইন প্লাটফর্ম ‘শিক্ষার্থীবান্ধব শাবিপ্রবি চাই’ নামক একটি ফেসবুক পেজসহ সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা নিজ ফেসবুক ওয়াল থেকে মাহিরের মামলা নিঃশর্তে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
১১২০ জন বর্তমান শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক মাহিরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮৬ জন সাবেক শিক্ষার্থী এক বিবৃতিতে অবিলম্বে মাহির চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলের বাক-স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, কারো দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভিভাবকসুলভ আচরণ নিশ্চিতকরণ ও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ চারদফা দাবি জানিয়েছেন। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ১৫টি সংগঠন এ মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি করে। এছাড়া শাবিপ্রবি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাথে একাত্মতা পোষণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন মাহিরের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। 


শাবিপ্রবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, শিকড়, সাস্ট সাহিত্য সংসদ, সাস্ট-স্কুল অব ডিবেট, শাহজালাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি,  রোবোসাস্ট,  জিডিএন সাস্টসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিঃশর্তে মাহিরের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আলোচনা-সমালোচনা করবে, এটা দোষের কিছু না। তবে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার একটা ভাষা আছে। সেই ভাষা হতে হবে সুন্দর ও সাবলীল। আমার কাছে এটা লজ্জাজনক যে, একজন শিক্ষার্থী কাউকে নিয়ে কটুক্তি করেছে। একজন শিক্ষার্থীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সম্মানের বিষয় জড়িয়ে আছে, এজন্য হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করেছে।’
অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পদচারণা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে ড. রাশেদ তালুকদার বলেন, ‘আমাদের অফিসিয়াল একটা মাধ্যম আছে, সেখানে চাইলে শিক্ষার্থীরা যেকোনো বিষয় জানাতে পারে। ফেসবুক, অনলাইন বা পত্রিকা এগুলো কোনও অফিসিয়াল মাধ্যম না। এগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যা সব সময় মেইনটেইন করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।’ তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বা অন্য কোনও শিক্ষার্থী যোগাযোগ করেনি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। মামলা বিচারাধীন। আর বিচারাধীন কোন বিষয় নিয়ে কথা বলা যায় না। এজন্য আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’
উল্লেখ্য, সদ্য প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গত ১৪ জুন সমালোচনামূলক পোস্ট দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (২০১৬-১৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থী মাহির চৌধুরী। এর প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে গত ১৫ জুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে স্ট্যাটাসটি দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ঐ শিক্ষার্থী তার ফেসবুক থেকে পোস্টটি মুছে ফেলেন। পাশাপাশি পোস্টটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

/এনএ/

লাইভ

টপ