পুরান ঢাকায় একাত্তরের নিপীড়নের ঘটনা শোনেন বঙ্গবন্ধু

উদিসা ইসলাম
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:১৩আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৩৯

পুরান ঢাকা পরিদর্শনে বঙ্গবন্ধু একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যে নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, সরেজমিনে তা এলাকাবাসীর মুখে শোনেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। তাদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ নেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে জানান যে, এবার একুশে ফেব্রুয়ারি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হবে। তত দিনে ৭৮ লাখ উদ্বাস্তু ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। তাদের পুনর্বাসন ও দেশ পুনর্গঠনের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা।

পুরান ঢাকায় বঙ্গবন্ধু

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার মানুষের সঙ্গে কুশলাদি ও তাদের অসুবিধা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বাসসের সংবাদে প্রকাশ, এলাকাবাসী বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭১ এর মার্চ থেকে ৯ মাস পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনের কাহিনী বর্ণনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন গণপরিষদের সদস্য গাজী গোলাম মোস্তফা, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ও গণপরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা শহর আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফজলুল করিম।

বঙ্গবন্ধু যেসব এলাকা পরিদর্শন করেন সেগুলো হলো— নবাবগঞ্জ, লালবাগ, চকবাজার, মৌলভিবাজার, শাঁখারীপট্টি ও বংশাল।

পুরান ঢাকায় একাত্তরের নিপীড়নের ঘটনা শোনেন বঙ্গবন্ধু

একুশে ফেব্রুয়ারি জাতীয় শোক দিবস

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে স্বাধীন বাংলাদেশে একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে জানান, এবার একুশে ফেব্রুয়ারি জাতীয় শোক দিবস।

তিনি বলেন, ‘১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার বুকে প্রাণ দিয়েছে লাখো সালাম, বরকত। শুধু ভাষা আন্দোলনে শহীদানের তর্পণের দিন নয়, স্বাধীনতার লাখো শহীদের আত্মাকে শ্রদ্ধা ও সংগ্রামী সালাম জানানোর দিন। এই একুশে ফেব্রুয়ারি তাদের তাজা রক্তে সিক্ত জননী বাংলাকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করার দায়িত্ব নিয়ে এসেছে।’ তিনি এও বলেন, ‘একচেটিয়া পুঁজিবাদী শোষণ থেকে মুক্ত এক সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার শপথ সবাইকে নিতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টোর ধর্ণা

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো তখনও বাংলাদেশের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র স্বীকার করে নিতে পারেননি। নানাভাবে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত্র তিনি তখনও করে যাচ্ছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান বারবারই তার জনগণকে সাবধান করে দিয়ে বলছিলেন— শত্রুপক্ষ ষড়যন্ত্রের ছক কষছে। প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে। দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ভুট্টো নিক্সন সরকারকে জানিয়েছে যে, ১৯৬৭ সালে ওয়াশিংটন কর্তৃক খারিজ করে দেওয়া পাক-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে তিনি পুনরুজ্জীবিত  করার পক্ষপাতি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছর বলে নিক্সন সরকারের পক্ষে যদি অসুবিধাজনক না হয়, তাহলে অবিলম্বে তিনি এ ব্যাপারে সব রকম আলোচনা শুরু করতে তৈরি রয়েছেন বলেও জানান।

পুরান ঢাকায় একাত্তরের নিপীড়নের ঘটনা শোনেন বঙ্গবন্ধু

উদ্বাস্তুদের জন্য হচ্ছে আদর্শ গ্রাম

মুক্তিযুদ্ধকালে ঘরবাড়ি হারিয়ে নির্যাতনের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন যারা, তারা দেশ স্বাধীনের পর ফিরতে শুরু করেছেন। পশ্চিম বাংলা প্রশাসন প্রতিদিন ঘরে ফেরা উদ্বাস্তুদের সংখ্যা ও তাদের পুনর্বাসনে সহায়তার উদ্যোগের কথা জানাতো সেসময়। ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭৮ লাখ উদ্বাস্তু দেশে ফিরেছে। তাদের জন্য আদর্শ গ্রাম গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ বছর মে মাসের মধ্যে গোটা দেশে বাসযোগ্য আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়ে বলেন, ‘গত ৯ মাসে পাকিস্তান দখলদার বাহিনী ৬০ লাখ বাড়ি ধ্বংস করেছে। অল্প সময়ে এতগুলো গৃহ নির্মাণ করা সম্ভব নয়। কাজেই সরকার পরিকল্পিত পন্থায় গৃহ পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

তিনি জানান, ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশ সরকারকে বিনামূল্যে গৃহনির্মাণের সরঞ্জাম সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত থেকে এ পর্যন্ত ৭৮ লাখ উদ্বাস্তু বাংলাদেশে ফিরেছে।’ চলতি মাসের শেষ নাগাদ তাদের ফিরে আসার কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

 

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
মুজিব বর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগের খরচ ১২৬১ কোটি
ভূমিহীনমুক্ত হচ্ছে সাতক্ষীরার ৬ উপজেলা, প্রস্তুত ৩৬৪টি ঘর
‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে’
সর্বশেষ খবর
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি