আপিল শুনানিতে বিচারপতি হাজির করে হাঙ্গামা বাঁধান মীর কাসেম

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৩০, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১০, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৬

মীর কাসেম

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলী তার মামলার আপিলে হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে মামলা পরিচালনা করতে এনে হাঙ্গামা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। আপিল বিভাগে বিচার প্রক্রিয়ার পুরোটা সময়ই তিনি নানা কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে ‘কালক্ষেপন’ ও ‘বিতর্ক’ তৈরি করতে চেয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে মীর কাসেম আলীর আপিল  শুনানির দ্বিতীয় দিনে তার পক্ষে শুনানির জন্য দাঁড়ান সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে অবসরে যাওয়া বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। একজন বিচারপতি সুযোগ সুবিধা নেওয়াকালীন এধরনের মামলায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্নও ওঠে সেসময়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনও মামলায় কোনও বিচারপতির আসামির পক্ষ নিয়ে আদালতে দাঁড়ানোর এটিই প্রথম ঘটনা।এর আগে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ আরও ছয় মামলার আপিল শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাহজাহান। শুধুমাত্র ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার পক্ষে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক শুনানি করেছিলেন।

ওই দিন মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানির জন্য বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী দাঁড়ালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং তিনি এখনও সরকারি জাজেস কমপ্লেক্স, সরকারি গাড়ি এবং গানম্যানসহ সব সুবিধা পাচ্ছেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করবেন তা চরম নীতি-নৈতিকতাবিরোধী।’

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর এ অবস্থান নিয়ে পরবর্তীতে চরম সমালোচনা শুরু হলে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। সেসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম বলেছিলেন, ‘বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী অবসরে যাওয়ার পর এর আগে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে আরও পাঁচটি ব্যক্তিগত মামলা পরিচালনা করেছেন । সেসব মামলার বিপরীত পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আইনজীবী হিসেবে থাকলেও তখন কোনও প্রশ্ন তোলা হয়নি।’

প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনারও আগে থেকে মীর কাসেম আলী এই বিচার নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে অর্থ ব্যয় করেছেন। বিচার চলাকালীন তিনি নানা বিষয়ে হাঙ্গামা তৈরি করে বিচার বিলম্বিত করতে চেয়েছেন।তার মামলাটির ক্ষেত্রে আমাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে।কেননা মীর কাসেম অর্থ খরচ করে নানাভাবে সংশ্লিষ্টদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী মামলায় সব আসামিই তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক যে ক্ষমতা সেটা বিনিয়োগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ, এইসব চিহ্নিত মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার জাতির কাছে পরম কাঙ্ক্ষিত।’

/ইউআই/টিএন/

আরও পড়ুন: মীর কাসেমের ফাঁসি: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার

 

লাইভ

টপ
X