‘হামলাকারী ফয়জুল মিশতো না কারও সঙ্গে’

Send
আমানুর রহমান রনি ও রাফসান জানি
প্রকাশিত : ০১:১৫, মার্চ ০৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫০, মার্চ ০৪, ২০১৮

ড. জাফর ইকবালের পেছনে দাঁড়ানো হামলাকারী (বৃত্ত চিহ্নিত), ডানে আটক হওয়ার পরড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীর নাম ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৫)। তার অন্য ভাইয়েরা স্থানীয়দের সঙ্গে মেলামেশা করলেও সে কারও সঙ্গে মিশতো না। তাদের একভাই কুয়েত প্রবাসী।

সিলেটের জালালাবাদ উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের শেখেরপাড়া ওয়ার্ডের  সদস্য গিয়াস উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘ফয়জুলের বাবার নাম মাওলানা আতিকুর রহমান। তারা এই এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেছে। মাওলানা আতিকুরের তিন ছেলে। আবুল, হাসান ও ফয়জুল। এদের মধ্যে একজন কুয়েতে থাকে। ফয়জুলকে কারও সঙ্গে মিশতে দেখতাম না। সে মাঝে-মাঝে বাড়ির বাইরে আসতো, তবে কারও সঙ্গে মিশতো না। তাকে স্থানীয় কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও যেতে দেখিনি। সে কোথায় লেখাপড়া করেছে, তা এখনও নিশ্চিত না।’

তিনি বলেন, ‘ফয়জুল বুকের ওপর হাত দিয়ে নামাজ পড়তো। আমাদের মতো নামাজ পড়তো না। স্থানীয়রা অনেকে বলছেন, সে নিয়মিত বাড়িঘরে থাকতো না। মাঝেমধ্যে আসতো আবার চলে যেত।’

এই ইউপি সদস্য বলেন, ‘ঘটনার পর টুকেরবাজারের শেখপাড়ায় ফয়জুলদের বাসায় র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালায়। তবে বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল।’ 

টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হামলাকারীর পিতা টুকেরবাজারে মুখলেসিয়া মহিলা মাদ্রাসায় চাকরি করেন।’ 

রাত পৌনে বারোটার দিকে টুকেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ আরও বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত। মহল্লা সার্চ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ’

এদিকে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী যে এলাকায় ছিল, সেই এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চলছে। তবে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন আর কেউ আটক হয়নি।

র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তিন চারটি পরিচয় এপর্যন্ত পেয়েছি। সবগুলো তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছি। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালাচ্ছি। যেখানে যেখানে তথ্য পেয়েছি, সেখানেই আমরা অভিযান চালাচ্ছি। নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলেই সবাইকে জানাবো।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশেও আমরা অভিযান চালিয়েছি। তদন্ত করছি, এখনই সবকিছু জানানো যাবে না।’

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়া  বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তার একাধিক নাম পেয়েছি। সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। একেক সময় আমরা একেকটি নাম পাচ্ছি। সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি, যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, শনিবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ২৪-২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। এরপর তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়েছে। এর আগে, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. দেবপদ রায়।

 

 আরও পড়ুন:

‘ড. জাফর ইকবাল শঙ্কামুক্ত’

জাফর ইকবালের চিকিৎসায় বোর্ড গঠন

শাবিতে ড. জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত

জাফর ইকবালকে দেখতে শিক্ষামন্ত্রী হাসপাতালে

জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীকে র‌্যাবে হস্তান্তর

জাফর ইকবালের পেছনেই দাঁড়িয়েছিল হামলাকারী যুবক

হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সিলেট যাচ্ছে সিটিটিসি

অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বলছে আ. লীগ, বিএনপি’র দাবি চক্রান্ত

জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ

জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

জাফর ইকবালকে হত্যার টার্গেটে রাখা হয়েছিল সবসময়: গণজাগরণ মঞ্চ

‘নিরাপত্তার মধ্যে তাৎক্ষণিক সুযোগ পেয়ে জাফর ইকবালের ওপর হামলা করা হয়’

/এসটিএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ