পিবিআই’র গ্রাফিক্সে নুসরাত হত্যা

Send
রাফসান জানি
প্রকাশিত : ১৮:১২, মে ২৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৮, মে ২৯, ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপর পুরো ঘটনার একটি গ্রাফিক্যাল প্রেজেন্টেশন তৈরি করেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৮ মে) পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তদন্তের পুরো বিষয়টি ভালোভাবে বোঝানোর জন্য আমরা এটি করেছি। এটা পরীক্ষামূলক। ভবিষ্যতে (তদন্তে) এ ধরনের জিনিস অ্যাড করা যায় কিনা, সেটা বিবেচনায় থাকতে পারে।’

চিত্র-১

চিত্র ১: নুসরাতের শ্লীলতাহানির অভিযোগের পর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে-বিপক্ষে মানববন্ধন হয়। প্রথমদিন তার বিপক্ষে মানববন্ধন হলেও ২৮ মার্চের পর আর হয়নি। মানববন্ধন না হওয়ার কারণ হলো- হুমকি দেওয়া হয়েছিল মানববন্ধনের আয়োজক ও অংশগ্রহণবকারীদের। শিক্ষার্থীদের আইসিটি পরীক্ষার ভাইভায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। ফলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কর্মসূচিতে যায়নি শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে না যাওয়ায় অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীরা ভেবে নেয়- যাই ঘটুক না কেন, কিছুই তাদের বিপক্ষে যাবে না।

চিত্র-২

চিত্র ২: আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ১ এপ্রিল অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে জেলখানায় দেখা করে আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম, নুরু উদ্দিন, ইমরান, হাফেজ আব্দুল কাদের ও রানা। সেখানে সিরাজউদ্দৌলা তার মুক্তির বিষয়ে জোর প্রচেষ্টা চালাতে ও মামলা তুলে নিতে নুসরাতের পরিবারকে চাপ দেওয়ার নির্দেশনা দেয়।

চিত্র-৩

চিত্র ৩: অধ্যক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পর মাদ্রাসার টিনশেডের হোস্টেলে প্রথমে ‘মুক্তি কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক ছিলো নুর উদ্দিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন শামীম। বৈঠকে তারা যা বলত, তাই ছিল অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির নেতাদের বক্তব্য। ফলে তাদের কথা মেনে নিত অন্যরা। এই দুজনই ঠিক করত যে, কে প্রশ্নপত্র আগে থেকে পাবে আর কে পাবে না। কে নকল করতে পারবে, কার টাকা বেশি দিতে হবে প্রভৃতি।

চিত্র-৪

চিত্র ৪: সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার গেটের সামনে পাহারার দায়িত্বে ছিল একটি দল।

চিত্র-৫

চিত্র ৫: সাইক্লোন সেন্টারের গোড়ায় পাহারায় ছিল দুজন। এছাড়া অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার ভাগ্নি পপিও ছিল এই গেটে। নুসরাত যখন পরীক্ষার হলে যায়, তখন পপিই বলেছিল ‘তোমার বান্ধবীকে ছাদে কারা যেন মারছে’। এরপর নুসরাত দৌড়ে প্রথমে গেট থেকে ১০-১৫ গজ দূরের পরীক্ষার হলে এবং তারপর সেখানে ফাইল রেখে ছাদের ওঠার সিঁড়ির দিকে যায়।

চিত্র-৬

চিত্র ৬: নুসরাত পরীক্ষার হলে প্রবেশের আগেই সাইক্লোন সেন্টারের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে রাখা বোরকা ও হাতমোজা পড়ে প্রস্তুত হয় শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ ও জোবায়ের। বেলা সাড়ে ৯টার দিকে অবস্থান নেয় তারা।

চিত্র-৭

চিত্র ৭: নুসরাতকে ছাদে নিয়ে যাওয়ার সময় নিচে ছিল মনি।

চিত্র-৮

চিত্র ৮: ছাদে যাওয়ার পর নুসরাতকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। অন্যান্য আলামত পাওয়া গেলেও এই কাগজটি পাওয়া যায়নি।

চিত্র-৯

চিত্র ৯: পাঁচজন নুসরাতকে ধরে রাখে। এরপর কালো পলিথিনে থাকা কেরোসিন গ্লাসে করে ঢেলে দেওয়া হয় নুসরাতের গায়ে।  

চিত্র-১০

চিত্র ১০:  আগুন দেওয়ার পর শম্পা ও মনি ছাদ থেকে নেমে পরীক্ষার হলে ঢুকে যায়। জাবেদও পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার আগে তার গায়ে থাকা বোরকাটি দিয়ে যায় শাহাদাত হোসেন শামীমকে। শামীম মূল গেট দিয়ে না বের হয়ে ভেতরের গেট দিয়ে বের হয়। জোবায়ের পরীক্ষার্থী নয়। সে বোরকা পড়া অবস্থাতেই প্রকাশ্যে মাদ্রাসার গেট দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

চিত্র-১১

চিত্র ১১:  নুসরাত গায়ে আগুন নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসার পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও গার্ড তাকে উদ্ধার করেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল নুসরাতকে কৌশলে ওই মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নেয় অধ্যক্ষের সহযোগীরা। সেখানে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান নুসরাত। এই ঘটনায় নুসরাতের ভাই মামলা করেন। ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। সব আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অভিযুক্ত ১৬ আসামি হলো- এসএম সিরাজউদ্দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আল কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), মোহাম্মদ শামীম (২০), রুহুল আমিন (৫৫), ও মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।

গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে ১২ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়াও ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ২৯ মে আদালতে এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।

আরও খবর: নুসরাত হত্যায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড চাইবে পিবিআই 

 

 

 

/আরজে/এএইচ/

লাইভ

টপ