বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ ৫ দশমিক ৪ ভাগ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:২৩, জুন ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৬, জুন ১৩, ২০১৯




জ্বালানি-বিদ্যুৎনতুন (২০১৯-২০) অর্থবছরের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট ২৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৪ ভাগ। প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই প্রস্তাব করেন। এ সময় বছরভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

২০১৯-২০ অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে দেখা যায়, মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৪ ভাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। এই খাতের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য মোট ২৮ হাজার ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জন্য ১ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা আর পরিচালন ব্যয় রাখা হয়েছে ৭০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে আছে এক হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এবং বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য ২৬ হাজার ৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আর পরিচলন ব্যয় ৫০ কোটি টাক। চলতি অর্থবছরে যার পরিমাণ ২৪ হাজার ৯২১ কোটি টাকা।

গত বছর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট ২৪ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে সংশোধিত বাজেটে তা আরও বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৫০২ কোটি টাকা।

‘সমৃদ্ধির সোপান বিদ্যুৎ‘ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবার অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বিদ্যুৎ খাত নিয়ে আলোচনা শুরু করা হয়। বিদ্যুতের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে যথাক্রমে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণকল্পে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। যার সুফল আমরা ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছি।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ২১ হাজার ১৬৯ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি এবং দেশের প্রায় ৯৩ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া ১৪ হাজার ২০২ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প নির্মাণাধীন, ৫ হাজার ৮০১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়াধীন (এলওআই এবং এনওআই দেওয়া হয়েছে), যেগুলো শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করবে বলে আশা ব্যক্ত করছি। এছাড়া ১ হাজার ৪১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে আরও ১৯ হাজার ৬৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। পুরাতন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সংরক্ষণ, মেরামত বৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

এছাড়া আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিদ্যুৎ আমদানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, দক্ষ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক, তেল গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম ও বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ও অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অনুমোদন দেওয়া হলেও সে বৈঠকেও আধঘণ্টা দেরিতে পৌঁছান অর্থমন্ত্রী। দুপুর ১টা ২১ মিনিটে বৈঠকে যোগ দেন তিনি। এবার অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের এটিই প্রথমবারের মতো বাজেট পেশ। এটি দেশের ৪৮তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম বাজেট। বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পক্ষ থেকে সংসদে বাজেট বক্তৃতা পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট সংসদে পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে না পারা ও উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ খরচ করতে না পারায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট হয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকারের চেয়ে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি। আর চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ ও সংশোধিত বাজেটের আকারের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বেশি।

/এসএনএস/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X