শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অজয় রায়ের মরদেহ বারডেমে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:৫৫, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৯, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

 

ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে শেষ বিদায় নিলেন অধ্যাপক অজয় রায়। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসার পর শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। এরপর অজয় রায়ের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী মরদেহ বারডেম হাসপাতালে দান করা হয়।

শহীদ মিনারে অজয় রায়ের ছোট ছেলে অনুজিৎ রায় বলেন, ‘আমার দাদা অভিজিৎ রায়ের হত্যকারীদের বিচার হলে বাবা স্বস্তিবোধ করতেন। সেই বেঁদনা নিয়েই বাবা চলে গেলেন। ইচ্ছা করলে বাবা স্বপরিবারে বিদেশে থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটি করেননি। তিনি বাংলাদেশে থেকেছেন। তিনি বলতেন, এটা আমার দেশ, আমি দেশ ছেড়ে কেন যাবো?’

এর আগে সকালে হাসপাতাল থেকে মরদেহ প্রথমে তার নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মরদেহ নিয়ে আসা হয়।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে অজয় রায়কে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এসময় ঢাকা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই শ্রদ্ধা জানান জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ ও অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ সামাদ, চিত্রশিল্পী আবুল বারক আলভী, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম, জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি শামসুজ্জামান খান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান দলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, শামসুন্নাহার চাঁপা, সুজিত রায় নন্দী এবং উপ-দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির পক্ষে সভাপতি এ এস এম মাকসুদ কামাল, ওয়ার্কার্স পার্টি, যুব মৈত্রী, ঐক্য ন্যাপের পক্ষে পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), আদিবাসী ফোরাম, বাসদ (খালেকুজ্জামান), হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, জাতীয় কবিতা পরিষদ, ন্যাপ, গণসংহতি আন্দোলন, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

ঢাকাস্থ রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতির পক্ষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতারুজ্জামান এবং ঢাকাস্থ দিনাজপুর জেলা সাংবাদিক সমিতির পক্ষে আহ্বায়ক মুর্জতা হায়দার লিটন, সদস্য এ কে এম ওবায়দুর রহমান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অজয় রায়ের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। সেখানে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে।

পরে তার শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী মরদেহ রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। অজয় রায়ের ছোট ছেলে অনুজিৎ রায় বারডেম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন। অজয় রায়ের ছাত্র মারুফ রসূল জানান, মঙ্গলবার দুপুর পৌঁনে দুইটায় অনুজিৎ রায় মরদেহ বারডেম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। বারডেম হাসপাতালের পক্ষে মরদেহ গ্রহণ করেন ডায়েবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক (প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড কর্পোরেট) মুহাম্মদ আবু তাহের খান।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক অজয় রায় সোমবার (০৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আরও পড়ুন: 

অধ্যাপক অজয় রায় আর নেই

অজয় রায়ের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী মরদেহ দান করা হবে

‘ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি অজয় রায়, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য’

শেষবারের মতো বাড়িতে নেওয়া হলো অজয় রায়কে

/এসও/এনএস/

লাইভ

টপ