শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল হবে বিশ্বমানের: বেবিচক চেয়ারম্যান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:২০, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৫, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে বেবিচক চেয়ারম্যান

বিশ্বের সেরা বিমানবন্দরগুলোর মতো হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম বসানো হবে। টার্মিনাল নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি স্থাপনে কোয়ালিটির বিষয়ে কোনও আপস  করা হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান।

তিনি বলেন,প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প তৃতীয় টার্মিনাল এটি, তাই এর নির্মাণ উপকরণের মান নিয়ে আমরা কোনো আপস করিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলেও জানান তিনি।

বেবিচকের চেয়ারম্যান জানান,প্রায় ৩০ লাখ বর্গফুট জায়গায় এ টার্মিনাল নির্মাণ হলে বছরে দুই কোটি (২০ মিলিয়ন) যাত্রীকে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সেবা দেওয়া যাবে।

মফিদুর রহমান বলেন, প্রকল্পের ১৬ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করবে জাপানি উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) এবং বাকি পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৮ সালে এই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। তখন ২২টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র নেয়। এটা জাইকার ফান্ডের প্রকল্পটি হচ্ছে। তাদের কিছু বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। সেই হিসেবে দুটি কোম্পানি এখানে যোগ্যতা অর্জন করে। এদের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মিতসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন ও স্যামসাং নামের তিনটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামকে (এডিসি) কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ প্রকল্পের মূল ব্যয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। নকশায় পরিবর্তন ও ভ্যাট বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে নির্মাণ খরচ ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বেড়েছে বলে জানান তিনি।

টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মফিদুর রহমান বলেন, খরচ বৃদ্ধির কারণের মধ্যে একটি হলো সময়। এ ছাড়া কাঠামোগত পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে আগের নকশায় ভিভিআইপি টার্মিনাল আলাদা করার কথা ছিল। এখন সেটি একসঙ্গেই হবে। বিমানবন্দরের মূল ভবনের সঙ্গেই এটি থাকবে। আমদানি-রফতানি কার্গো হ্যান্ডেলিং আগের ডিজাইনে একসঙ্গে ছিল। নতুন ডিজাইনে এ দুটি আলাদা স্থানে হবে। যে সব ইকুইপমেন্টস আসবে, সেগুলোর ওপর আরোপিত ভ্যাটের কারণে খরচ বেড়েছে। টাকার মূল্যায়ন বেবিচকের দায়িত্ব না। দাম কেন বাড়ল, প্রকল্প শুরুতে কেন দেরি হলো, এসব তথ্য জানতে জাইকা তিনবার তাদের টিম পাঠিয়েছে। এসব জাইকা মূল্যায়ন করেছে। সরকার অনুমোদন দিয়েছে জাইকার কনফার্মেশনে ভিত্তিতেই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) মো. হাফিজুর রহমান, সদস্য (অর্থ) মো. মিজানুর রহমান, সদস্য (অপারেশন) এয়ার কমোডর মো. খালিদ হোসেন, সদস্য (এটিএম) গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সাঈদ মেহবুব খান,সদস্য (নিরাপত্তা) মো. শহীদুজ্জামান ফারুকী , সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন) গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর, প্রধান প্রকৌশলী সুধেন্দু বিকাশ গোস্বামী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক তৌহিদ-উল-আহসান, এভসেক পরিচালক ওবায়দুর রহমান।

 

 

/সিএ/টিএন/

লাইভ

টপ