খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপি নিজেরাই দ্বিধান্বিত: তথ্যমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪৩, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৮, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০

খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপি নিজেরাই দ্বিধান্বিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শরীরচর্চা কলেজ ময়দানে অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপি একদিকে বলছে আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে, অন্যদিকে তারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে ফোন করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করতে চেয়েছে। তারা কি আন্দোলন থেকে সরে আসছে? আবার শোনা যাচ্ছে খালেদা জিয়ার পরিবার চায় প্যারোলে মুক্তি। এ ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া শুধু প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলেই সরকারের বিবেচনা করার সুযোগ থাকে। এছাড়া তাকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও এখতিয়ার নেই। বিএনপি নেতারা প্রতিদিন বেগম জিয়ার জামিন নিয়ে কথা বলেন। আর বলেন, সরকার বাধা দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া কোনও রাজনৈতিক বন্দি নন, তিনি দুর্নীতির দায়ে সাজা ভোগ করছেন। এবং বাংলাদেশে আইন ও আদালত স্বাধীন। সুতরাং তাকে জামিন পেতে হলে আদালতের মাধ্যমেই পেতে হবে। তারা (বিএনপি) আইন আদালতের তোয়াক্কা করেন না, কিন্তু সবাইকেই আইন মেনে চলতে হয়।’
প্যারোলের বিষয়টি স্পষ্ট করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্যারোল হচ্ছে তার অপরাধ ও শাস্তি মেনে নিয়ে মুক্তির আবেদন। তবে এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্যারোলের আবেদন করা হয়নি।’
প্রতিহিংসার রাজনীতি করে বিএনপি, আওয়ামী লীগ নয়—এমন দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘২০০৪ সালে বিএনপির আমলে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়, তার ছেলে তারেক রহমানের পরিচালনায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা পরিচালিত হয়েছিল শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে।’
ড. হাছান আরও বলেন, ‘আবার যখন খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় ছেলে মারা যান, তখন খালেদা জিয়ার বাড়ির দরজায় ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দরজা খোলেননি। এগুলো আমরা মনে রাখিনি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনে রাখেননি।’
খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালেই রেখে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা দিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজ দলের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভাই যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, তখন তিনি বিএসএমএমইউ-তেই ছিলেন। বিদেশ থেকে যে চিকিৎসকরা এসেছিলেন, তারাও বলেছেন, বিএসএমএমইউ যে চিকিৎসা দিয়েছে, তা বিশ্বমানের এবং সঠিক।’
এসময় হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পছন্দের গৃহপরিচারিকাকে রাখা হয়েছে, সার্বক্ষণিক নার্স রয়েছে। নিয়মিত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও তাকে সময়ে সময়ে পরীক্ষা করেন।’ সুতরাং খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপির কথাগুলো জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা ছাড়া কিছু না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সামস-উল ইসলামসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

/এসএমএ/এইচআই/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ