দেশের অগ্রগতিতে জাতীয় পার্টির ভূমিকা কম নয়: রওশন এরশাদ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:২৫, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩১, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

রওশন এরশাদ (ছবি: সংগৃহীত)সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, বাংলাদেশের অগ্রগতিতে বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টির ভূমিকা কোনও অংশে কম নয়। সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয় করে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছি। আর এ কারণেই দেশে নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থেকেছে, দেশ এগিয়ে গেছে দুর্বার গতিতে।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আনা আলোচনা ও অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বলেন, আমরা জানি, একটি দেশের অগ্রযাত্রার মূল শক্তি হিসেবে প্রয়োজন সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়। অতীতের বিরোধী দলগুলো সরকারকে কখনও সহযোগিতা ও সমন্বয় করেনি, যে কারণে দেশ আশানুরূপ এগিয়ে যায়নি। ২০১৪ সাল থেকে আমাদের দল জাতীয় পার্টি এবং আমি, বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকে সরকারের সমালোচনা করেছি, ভুল-ত্রুটি তুলে ধরেছি, জনগণকে সচেতন করেছি।
রওশন এরশাদ তার ভাষণে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন নেই বলে অভিযোগ তুললে সংসদ সদস্যরা মাইক ছাড়াই জাতীয় সংসদে নারী ক্ষমতায়নের থাকার কথা জানান।
তিনি এর জবাবে বলেন, সংসদে ভাগ্যচক্রে হয়ে গেছে। গুটিকয়েক নারী নিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলা যাবে না। আমি লাকিলি বিরোধী দলীয় নেতা। আপনি প্রধানমন্ত্রী, সেটা নির্ধারিত। কেউ প্রধানমন্ত্রীকে সরাতে পারবে না। সংসদে কয়েকজন আছি, ছিটেফোঁটা। এখানে পুরুষ সদস্য বেশি। বুঝতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নেই।
এসময় সংসদে হাসির রোল পড়ে। সরকারি দলের বেঞ্চ থেকে তার বিরোধী দলীয় নেতা হওয়ার বলা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসময় তার নিজের দিকে, রওশন এরশাদের দিকে এবং স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর দিকে ইশারা করেন।
রওশন এরশাদ বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দল সংসদে যেমন সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে, ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে, তেমনি সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করে। সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল কথা হচ্ছে, সরকার ও বিরোধীদলীয় পারস্পরিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। এ বিবেচনায় বাংলাদেশের সব অগ্রগতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই ইতিহাস একদিন তার সাক্ষ্য দেবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বিরোধীদলীয়ে নেতা বলেন, ছোট ছোট বাচ্চাকে ধর্ষণ করছে। এত নিচে নেমে গেছে মানসিকতা। চিন্তা করলে লজ্জা লাগে।
অধিবেশনে উপস্থিত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রওশন এরশাদ বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াকে আমরা অতিক্রম করবো। কীভাবে করবো, সেটা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে আছি। কোন বিষয়ে এগিয়ে যাবো? ব্যাংকে টাকা নেই। ঋণ নিয়ে ফেরত দেয় না। এখানে বিনিয়োগ করে না। টাকা বাইরে নিয়ে গেছে। রিজার্ভ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকে সোনার বদলে তামা। কীভাবে এগিয়ে যাবো, এর একটা ব্যাখ্যা অর্থমন্ত্রীর দেওয়া উচিত। শেয়ার বাজারে ধস। কোন দিকে কী হলো, অর্থমন্ত্রী, সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দিলে ভালো হয়।
কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক দেশে কালো টাকা বিনিয়োগ করতে দেয়। বিনিয়োগ করলে এর উৎস জানতে চাওয়া হয় না। যদি জিজ্ঞেস না করেন, তবে হয়তো বিনিয়োগ করতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে কোনও সময় সংসদে দেখা যায় না। উনি সবসময় বিদেশে থাকেন। খুবই কম দেখেছি সংসদে, কোনও সময়েই তাকে পাওয়া যায় না। আজকেও নেই। জিপিএ-৫-এর দিকে সবার নজর। যে নমুনা দেখেছি, কারও কোনও জ্ঞান আছে বলে মনে হয় না। বিদেশে থেকে এখানে এসে চাকরি করছে। দেশের লোক চাকরি পায় না। কারণ, যোগ্যতা নেই। ভাষা শিখতে হলে গ্রামার জানতে হবে। এখন গ্রামার নেই। কী করে ভাষা শিখবে? শিক্ষামন্ত্রী বদলে গেলে শিক্ষার পদ্ধতি যদি বদলে যায়, তাহলে কীভাবে হবে?
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের কচুরিপানা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন বলেন, কিছু কচুরিপানা নিয়ে এসেছিলাম। প্ল্যানিং মিনিস্টার এখানে নেই। গরুর খাবার কি মানুষ খেতে পারে? ঘাসে তো ভিটামিন আছে। আমরা কি খাই?
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এখন ড্রেন পরিষ্কার করে না। মশার যন্ত্রণা। কথা বলতে গেলে মুখে মশা ঢোকে! আমরা ওয়াসাকে ট্যাক্স দিই। সিটি করপোরেশনকে ট্যাক্স দিই। তাহলে ট্যক্স বন্ধ করে দেবো? যদি সেবাই না পেলাম তাহলে কেন দেবো?
তরুণ প্রজন্ম রাতে ঘুমায় না, পড়শোনা করে না দাবি করে রওশন রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ফেসবুক বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন।

/ইএইচএস/এইচআই/

লাইভ

টপ