উচ্চপদে চাকরিরত দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: বঙ্গবন্ধু

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, জুন ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, জুন ০৫, ২০২০

পররাষ্ট্র দফতরের চারজন রাষ্ট্রদূত, একজন মন্ত্রী ও একজন উচ্চপদস্থ অফিসারসহ মোট ৮ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ১৯৭২ সালের ৬ জুনের পূর্বদেশ পত্রিকায় ৫ তারিখের বাসসের বরাত দিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আট অফিসারের বরখাস্ত আদেশে স্বাক্ষর করেন।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বৈরী মনোভাব গ্রহণ করায় এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বরখাস্ত অফিসাররা সবাই পাকিস্তান সরকারের পররাষ্ট্র সার্ভিসে চাকরি করেছেন। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপদে চাকরিরত দালালদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এটা এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অনুরূপ ব্যবস্থা আরও নেওয়া যেতে পারে। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ও ইসলামাবাদের শাসকদের দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার এর আগে দিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সেই ব্যবস্থার সূচনা মাত্র। আরও বহু রুই-কাতলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বহিষ্কৃত অফিসাররা হলেন, ব্রাসেলসের রাষ্ট্রদূত জনাব এম মাসুদ, প্রাগের রাষ্ট্রদূত কামাল উদ্দিন আহমদ, টোকিওর রাষ্ট্রদূত মোতাহার হোসেন, লন্ডনস্থ ডেপুটি হাইকমিশনার সুলিমুজ্জামান, দুবাইস্থ বাণিজ্য এজেন্ট আজহারুল আনোয়ার চৌধুরী, প্যারিসস্থ দূতাবাসের মন্ত্রী মনজুর আহমদ চৌধুরী, বনে নিযুক্ত তৃতীয় সেক্রেটারি তোফায়েল করিম হায়দার এবং টোকিওতে নিযুক্ত তৃতীয় সেক্রেটারি নাসের আহমদ। উল্লেখ্য, প্যারিসস্থ দূতাবাসের মন্ত্রী মনজুর আহমদ চৌধুরী, বনে নিযুক্ত তৃতীয় সেক্রেটারি তোফায়েল করিম হায়দার পাক সামরিক জান্তার নামজাদা দালাল জামিদুর রহমানের জামাতা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতি: সারাদেশ বঙ্গবন্ধুর পেছনে

সারাদেশ ও জাতি বঙ্গবন্ধুর পিছনে ঐক্যবদ্ধ। শোষক শ্রেণীকে উৎখাত করার জন্য কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা বঙ্গবন্ধুর গতিশীল ও বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বে একতাবদ্ধ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজ ১৯৭২ সালের ৫ জুন এক যুক্ত বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন।

চোখ ঐতিহাসিক জনসভার দিকে

ঐতিহাসিক সাত জুন পালন উপলক্ষে গণবিপ্লব তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিক দিনটিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা শোনার জন্য অধির আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব জিল্লুর রহমান ৭ জুন পালনের আহ্বান জানিয়ে একটি বিবৃতি দেন। এতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে পৃথিবীর বুকে স্বাধীনতার মর্যাদা দিতে পেরেছে সেই মহান সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৭ জুন। তিনি বলেন, দেশের মাটিতে আমাদের কাছে এই দিনটি নতুন সংগ্রামের ডাক নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ আজ যুদ্ধবিধ্বস্ত, নানা সমস্যায় জর্জরিত ধ্বংসস্তূপ। এর সঙ্গে দাঁড়িয়ে আজ বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তার মহান আদর্শ মুজিববাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রামের শপথ নিতে যাচ্ছে।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিদর্শনে বঙ্গবন্ধু

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫জুন ভোরে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য তালিকা দেখেন। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, দেশের নানান অংশ থেকে প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য তালিকা আসতো।

এর আগে ৪জুন নারায়ণগঞ্জ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের স্কাউটরা বঙ্গবন্ধুর হাতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের জন্য ৬০১ টাকা দান করেন। সে ছবি পূর্বদেশের শেষের পাতায় প্রকাশ করা হয়। ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, এই টাকা স্কাউটরা একটি বিচিত্রা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে।

 

/এমআর/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ