ভারত- পাকিস্তান বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশ

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, জুন ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, জুন ২৯, ২০২০

১৯৭২ সালের জুনে ৪ দিনব্যাপী ভারত ও পাকিস্তানের বৈঠক জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশের কাছে  পাকিস্তানের পরাজয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা মিলিয়ে দুদেশের মধ্যে বাংলাদেশই বারবার প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছিল ততদিনে। সিমলায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে আলোচনা শুরুর পরও সেটি লক্ষ্য করা যায়। যদিও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুরুতেই কেবল দুদেশকে শুভ কামনা দিয়েই থেমে গেছেন। রয়টার্সের সংবাদদাতা জিরাল্ড রাপৎসিন এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শীর্ষ সম্মেলন সম্পর্কে সরাসরি কোনও মন্তব্য প্রকাশ করতে অপারগতা জানান বঙ্গবন্ধু। এটা ভারত-পাকিস্তানের নিজেদের ব্যাপার ও এ বিষয়ে শুধু তাদেরকেই কথা বলতে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ওই বৈঠক চারদিন চলার কথা। দুদেশের শীর্ষনেতা সাত দফা বৈঠকে মিলিত হবেন এবং পহেলা জুলাই বিকেলে শেষ দফা আলোচনা হবে। আলোচনায় তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধির মাধ্যমে মধ্যে হবে বলে জানানো হয়। প্রয়োজন হলে আলোচনা চারদিনের অতিরিক্ত সময়েও গড়াতে পারে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়।

ভারত-পাকিস্তান আলোচনায় বসার বিষয়ে শুরু থেকেই আন্দাজ করা হচ্ছিল জলুফিকার আলী ভুট্টো ভারতে আটক যুদ্ধবন্দিদের মুক্তির বিষয়ে কথা বলাতে চাইবেন। বিচার কীভাবে হবে, বিচার আদৌ করা সম্ভব হবে কিনা সেসব নিয়ে আলাপ চলেছে মাসব্যাপী। যুদ্ধাপরাধের বিচার বাতিল করার কোনও সম্ভাবনা আছে কিনা এই প্রশ্নে মাসের শুরুতে যখন গণমাধ্যমগুলো জানতে চেয়েছিল জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ৩০ লাখ নিরীহ লোককে হত্যা করা হয়েছে, পাকিস্তান বাহিনী দুই লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে এবং এক কোটি মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন আর দেড় কোটি মানুষ প্রাণ ভয়ে স্থান হতে স্থানান্তরে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। সুতরাং কী ঘটেছে তা বিশ্ববাসীর জানা উচিত। তিনি বলেন, পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের ভারত থেকে কারও হাতে তুলে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ তারা প্রথমে বাংলাদেশ বাহিনীর কমান্ডারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।

বৈঠকের বিষয়ে বক্তৃতার গুরুত্ব দিয়ে ভুট্টো বলেন, পারস্পরিক বিরোধ মেটাতে খুব দেখেশুনে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের অতীতের সব বিভেদ ভুলে যেতে হবে। তিনি বলেন, কোনও কোনও ভারতীয় পত্রিকায় বলা হয়েছে যে তিনি সম্মেলনে নাটকীয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ভাবাবেগে আপ্লুত হবেন। তবে তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়।

প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যোগদানকারী সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে শ্রীমতি গান্ধী তার সংক্ষিপ্ত ভাষণে ভুট্টোর ভাষণের কোনও কোনও অংশকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপারে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে পরিবর্তন হচ্ছে কাজেই এই উপমহাদেশ সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে থাকার কারণ থাকতে পারে না।

সিমলায় পাক-ভারত শীর্ষ বৈঠক সম্পর্কে  চিন শুরু থেকেই নীরব দর্শকের ভূমিকা গ্রহণ করেছে বলে দৈনিক পূর্বদেশের খবরে বলা হয়।

১৯৭২ সালের ৩০ জুন দৈনিক পূর্বদেশের খবরে বলা হয়, ঢাকায় এলে মাথাপিছু ১৫ পয়সা করে দিতে হবে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করে। রাজধানী শহর ঢাকা পৌরসভা ৭২-৭৩ অর্থবছরের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে। বাজেটে ১৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার উদ্বৃত্ত দেখানো হয়। ঢাকা কর্তৃপক্ষ চলতি আর্থিক বছর থেকে ঢাকায় আগমনকারীদের জন্য জনপ্রতি ১৫ পয়সা করে করা দেওয়ার প্রস্তাব করে। ঢাকা পৌরসভার প্রশাসক আশিফুর রহমান এক বিবৃতিতে পৌরসভার বাজেট ঘোষণা করেন।

এদিকে ১৯৭২ সালের ২৯ জুন ঢাকায় কোনও কার্ফু ছিলনা, পুলিশ ও রক্ষীবাহিনীর তল্লাশি চলেনি। এরপরও কার, চারটি চোরাই মোটরসাইকেল প্রচুর পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছিল নয়তো পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এদিন মোট ৩৭জনকে আটক করা হয়।

 

 

/এমআর/

লাইভ

টপ