ওজোন স্তর রক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫১, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৯, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

পরিবেশ, বন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, বর্তমান সরকার বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রমে সফল হতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সমাজের সব স্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সবুজ ও সোনার বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার  অঙ্গীকারাবদ্ধ। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের পরিবেশ অধিদফতরের অডিটরিয়ামে ‘প্রাণ বাঁচাতে ওজোন: ওজোন স্তর সুরক্ষার ৩৫ বছর’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে ‘বিশ্ব ওজোন দিবস ২০২০’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসানের  সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবেশ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, অতিরিক্ত সচিব মাহমুদ হাসান,  অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুল হক চৌধুরী, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদ এবং ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জিসহ আরও অনেকে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘ওজোন স্তর রক্ষায় ১৯৮৫ সালের ২২ মার্চ গৃহীত ভিয়েনা কনভেনশন ও ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর নেওয়া মন্ট্রিল প্রটোকল অনেক সাফল্যে গাঁথা। ১৯৯০ সালেএ দুটিতে স্বাক্ষরের পর এর জন্য নেওয়া কার্যক্রমের কারণে বিশ্ববাসীর সঙ্গে বাংলাদেশও এই সাফল্যের অংশীদার। প্রটোকল অনুযায়ী বাংলাদেশে অন্যতম ওজোন স্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য সিএফসি, হ্যালন, কার্বনটেট্রাক্লোরাইড, মিথাইল ক্লোরোফরম ও মিথাইল ব্রোমাইড-এর ব্যবহার বিগত ১ জানুয়ারি ২০১০ সালে রোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১২ সালে ওষুধ  শিল্পে ব্যবহৃত অবিশিষ্ট সিএফসি-র ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়েছে। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় বাংলাদেশ মন্ট্রিল প্রটোকল বাস্তবায়নের সব কয়টি ধাপ যথাসময়ে সঠিকভাবে অতিক্রম করেছে এবং প্রটোকলের বাধ্যবাধকতা পালনের ক্ষেত্রে সচেষ্ট রয়েছে। ওজোন স্তর সংরক্ষণ ও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি হতে প্রাণ-মণ্ডল রক্ষায় বিগত ৩৫ বছর পৃথিবীর সব দেশ যে ভূমিকা রেখেছে, তার সমন্বিত ফলশ্রুতিতেই আজ ওজোন স্তর অনেকটাই সুরক্ষিত। ‘

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মন্ট্রিল প্রটোকলের আওতায় হাইড্রোক্লোরোফ্লোরোকার্বন (এইচসিএফসি) ফেজ আউট করার কাজ চলছে, যা এয়ারকন্ডিশনার, অগ্নি নির্বাপণ ও ফোম সেক্টরে ব্যবহৃত হয়। মন্ট্রিল প্রটোকল সংশোধন করে এগুলোর ফেজ আউট সিডিউল ১০ বছর এগিয়ে আনা হয়েছে। উক্ত এইচসিএফসি এর ফেজ আউটের লক্ষ্যে আমরা এইচসিএফসি ফেজ আউট ম্যানেজমেন্ট প্লান তৈরি করেছি। এইচসিএফসি ফেজ আউটের জন্য এমন সব বিকল্প প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা একইসঙ্গে ওজোন স্তর এবং জলবায়ু বান্ধব হবে। এ ধরনেরই একটি বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে আমরা অনেকটাই সফলভাবে এগিয়েছি। শুধু ওজোন স্তর রক্ষাকল্পেই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও মন্ট্রিল প্রটোকল একইভাবে সাফল্য লাভ করবে। বাংলাদেশ বিগত ৮ জুন মন্ট্রিল প্রটোকলের কিগালি সংশোধনী অনুস্বাক্ষর করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

মন্ত্রী জানান, ওজোন স্তর ক্ষয়কারী দ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অরগানাইজেসনস, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, এবং ওজোন সেক্রেটারিয়েট কর্তৃক এবছর পরিবেশ অধিদফতর এবং ওজোন সেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শেখ ওবায়দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রশংসাসূচক মেডেল ও প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়।

উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, ‘মন্ট্রিল প্রটোকল অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ এবং ২০১৭ সালে জাতিসংঘ পরিবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। বিশ্ব ওজোন দিবস ২০২০ উদযাপন উপলক্ষে পরিবেশ অধিদফতরের নেওয়া নানা কর্মসূচিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্যান্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে  জনগণকে ওজোন স্তরের গুরুত্ব ও তা রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি জানানো হয় ‘  তিনি বলেন, ‘ওজোন স্তরের ছিদ্র এখন অনেক ছোট হয়ে এসেছে। এটি আরও ছোট হয়ে আসবে, যদি সারাবিশ্ব এটি নিয়ন্ত্রণে একসঙ্গে কাজ করে। আমাদের সমন্বিতভাবে কাজের কোনও বিকল্প নেই। ’

সচিব জিয়াউল হাসান বলেন, ‘ইউএনডিপি ও ইউএনএফপি উভয়েই পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের সহযোগী। এরমধ্যে পরিবেশের প্রায় সব বিষয়ে আমরা ইউএনডিপির সহায়তা পেয়ে থাকি। ওজোন স্তর রক্ষায়ও ইউএনডিপি এ পর্যন্ত আমাদের প্রায় ২১টি প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে। মন্ট্রিল প্রোটোকল একটি সময় সীমাবদ্ধ, আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তি । পৃথিবীর সব দেশ এটি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বাস্তবায়ন করছে। আমরা এ ব্যাপারে আরও যত্নবান এবং যথাসময়ে এর প্রত্যেকটি বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

 

/এসএনএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ