বাবাকে হারিয়ে খাদিজার বিলাপ‘আব্বা, তুমি কিয়ারে আইছিলা আব্বা’

Send
আমিনুল ইসলাম বাবু
প্রকাশিত : ২১:০২, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০২, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

‘আব্বা, তুমি কিয়ারে আইছিলা আব্বা’—বাবা হারানোর শোকে এভাবেই বিলাপ করে কাঁদছিলেন খাদিজা। নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ফরিদ মিয়া ভর্তি ছিলেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মারা যান তিনি। লাশ নিতে হাসপাতালে আসা খাদিজার কান্নায় চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
মৃত ফরিদ পেশায় দিনমজুর ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার আসিয়ান ডাংগড়ি গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে তিনি। মৃতের স্ত্রী রিনা বেগম জানিয়েছেন, ফরিদ ঘটনার আগের দিন নারায়ণগঞ্জের তল্লায় মেয়ে খাদিজার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। পরদিন শুক্রবার এশার নামাজে গিয়েছিলেন। সেখানে দগ্ধ হন তিনি। দুই মেয়ে দুই ছেলের জনক ছিলেন ফরিদ মিয়া। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

একই দিনে প্রায় আট ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনের মৃত্যু হয়। ভোর সাড়ে পাঁচটায় মারা যান আব্দুল আজিজ। দুপুর দুটার দিকে ফরিদ। এনিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। ভর্তি রয়েছেন আরও তিনজন। দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি  নিশ্চিত করেন আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল।

অপরদিকে, সকালেই আব্দুল আজিজের স্বজনেরা মরদেহ বুঝে নিয়ে যান। তার শরীরের ৪৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তিনি পেশায় ছিলেন লন্ড্রি দোকানি। ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার মনু মিয়ার ছেলে আজিজ। তার ছেলে আবু সাঈদ (১৬) ও মেয়ে সামিয়া (১০)। দুজনই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

হাসপাতালে বর্তমানে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা হলেন আমজাদ হোসেন, শাহাদাত হোসেন সিফাত ও মো কেনান।

আমজাদ হোসেন (৩৯) একটি গার্মেন্টসের গাড়িচালক। তার শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তিনি আইসিইউর ১৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জে। বর্তমানে পশ্চিম তল্লা এলাকায় থাকেন। রায়সা (৫) নামে এক কন্যা সন্তানের জন তিনি। স্ত্রীর নাম মৌটুসী আক্তার।

শাহাদাত হোসেন সিফাত স্থানীয় স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি চেষ্টা করছিল। তার শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।  তার বাবা সপন শেখ ডেকারেটরের কাজ করেন। মো. কেনান (২৪) গার্মেন্টস কর্মী। তার ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।পটুয়াখালী জেলার বাহেরচড় উপজেলার চুন্নু মিয়ার ছেলে তিনি।  পার্থ শঙ্কর পাল বলেন, ভর্তি তিনজনের মধ্যে কারেও অবস্থাই আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।

 

/ইউআই/এমআর/

লাইভ

টপ