‘এনআইডি সংশ্লিষ্ট কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৪৪, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:২২, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

স্মার্ট কার্ডকোনও ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত না হতে নির্বাচন কমিশনের আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ নির্দেশনা সংক্রান্ত আইডিইএ প্রকল্পের উপ-পরিচালক মো. নুরুজ্জামান খানের সই করা একটি চিঠি রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ইসির মাঠ প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি কতিপয় ডাটা এন্ট্রি অপারেটর বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়াসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি জালিয়াতির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার সবুজবাগ ও গুলশান থানা নির্বাচন কার্যালয়ে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দ্বৈত, জাল ও ডুপ্লিকেট এনআইডি কার্ড তৈরির কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। ইতোমধ্যে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেছে। এছাড়াও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মাদকদ্রব্য ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবৈধ রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির কাজের সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিন জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়।

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পূর্বেকার ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, এ ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত আট বছরে বিভিন্ন সময়ে ৩৯ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড আইডিইএ প্রকল্প এবং নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শতভাগ আনুগত্য, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকার জন্য নির্দেশনা প্রদান করছে। এক্ষেত্রে যেকোনও পর্যায়ের যেকোনও অপরাধ এবং দুর্নীতি রোধকল্পে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

এক্ষেত্রে প্রকল্পের কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারীর যে কেউ যেকোনও ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যদি কেউ জালিয়াতি ও দুর্নীতির সুস্পষ্ট তথ্য ও প্রমাণ প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করতে পারে, তবে তাকে যথাযথ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

আইডিইএ প্রকল্পের ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিরুদ্ধে কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানোর জন্য ইসির মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়, কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারী দোষী প্রমাণিত হলে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, আইডিইএ প্রকল্পের ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা থানা/উপজেলা/ আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস এবং প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়ে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ, সংশোধন, ভোটার রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য দাফতরিক কাজ ও ইভিএমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কারিগরি সহায়তায় দায়িত্ব পালন করেন।

/ইএইচএস/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X