বাংলা ট্রিবিউনকে বাণিজ্যমন্ত্রীআমাদের মানবিকতা ও নৈতিকতার সংকটও দেখা দিয়েছে

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ১৮:৪৮, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪৮, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্‌শিদেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে আরও সাড়ে পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এই মুহূর্তে দেশে পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ মজুত আছে। কাজেই পেঁয়াজের কোনও সংকট নেই। পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই। এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হয়ে বেশি দামে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেঁয়াজ না কেনারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর নিজ দফতরে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে আমদানি করা পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন বন্দরে আসতে শুরু করবে, যা আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আশা করছি আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ পর্যায়ক্রমে দেশের বাজারে আসবে। আমরা এমন লক্ষ্য ঠিক করেই কাজ করছি। কাজেই পেঁয়াজের সংকট হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নাই।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, যদিও নভেম্বরের শেষ দিকেই নতুন পেঁয়াজের পাতা (পেঁয়াজ পাতার গোড়ায় ছোট ছোট পেঁয়াজসহ) বাজারে আসতে শুরু করবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বাজারে আসবে মুড়িকাটা পেঁয়াজ। ফেব্রুয়ারিতে বাজারে উঠবে নতুন পেঁয়াজ। কাজেই যেকোনও ধরনের সংকট মোকাবিলায় কোনও ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের সরবরাহ রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, দেশের এই সময়ে জনগণের কথা বিবেচনা করে সরকারের অনুরোধে বিনা মুনাফায় দেশের শীর্ষ ৫টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান প্রতিমাসে ৩২ হাজার টন হিসাবে আগামী পাঁচ (৩১ মার্চ পর্যন্ত) মাসে ১ লাখ ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করে বাজারে ছাড়বে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো গত বছরও সরকারকে এ ধরনের সহযোগিতা করেছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে মেঘনা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, টিকে গ্রুপ এবং বিএসআরএম গ্রুপ। এর বাইরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেশের ছোট ছোট ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ ব্যবসায়ীকে ছোট ছোট লটে মোট চার লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেসব পেঁয়াজও পর্যায়ক্রমে মার্চের মধ্যে আসবে। এত পরিমাণ পেঁয়াজ একসঙ্গে আমদানি করা হলে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলেই পর্যায়ক্রমে ছোট ছোট লটে আমদানি করা হবে।

ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন ব্যবস্থা  নেওয়া হলো না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানি অব্যাহত রাখা অবস্থায় অন্য কোনও দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি উদ্যোগ নেওয়া অর্থহীন। কারণ, ভারত থেকে আমদানি করা হয় ২৭ টাকা কেজি দরে। আর অন্য কোনও দেশ থেকে তা আমদানি করলে দাম পড়বে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে যদি আগেভাগেই অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করি, আর যদি ভারত রফতানি বন্ধ না করে তাহলে কি ক্রেতারা ২৭ টাকার পেঁয়াজ রেখে ৪২ টাকার পেয়াজ কিনবেন? তখনকার ওই লোকসানের দায় কে নেবে? এমন লোকসানের কথা মাথায় রেখে কি কোনও ব্যবসায়ী অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে রাজি হবে? কাজেই আমরা পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের বিকল্প দেশ বাছাই করি তখন, যখন ভারত রফতানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে করার তো কোনও সুযোগও নাই। লাভও নাই।

ভারত পেঁয়াজ রফতানি করবে না—এমন সিদ্ধান্তে নেওয়ার পর এক রাতের ব্যবধানে দেশে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হলো কি করে, এমন প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি জানিয়েছেন, সত্যি কথা বলতে কী, হয়তো আমাদের মানবিকতা ও নৈতিকতারও সংকট দেখা দিয়েছে, তাই।

টিপু মুনশি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় আমদানি নির্ভরতা কমানোর কোনও বিকল্প নেই। আমরা পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বেসরকারি খাতে হিমাগার নির্মাণে ব্যবসায়ীরেদর উৎসাহিত করার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে দেশবাংলা গ্রুপ ৪০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ সংরক্ষণে সক্ষমতা সম্পন্ন ১টি হিমাগার নরসিংদীতে নির্মাণ করছে। এভাবে আরও যদি ৪-৫টি হিমাগার নির্মিত হয় এবং তাতে যদি ২ থেকে আড়াই লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারি তাহলে যেকোনও সংকট মোকাবিলা সহজ হবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

/এসআই/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X