টিসিবি’র কার্যক্রম পর্যালোচনায় বঙ্গবন্ধু

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

দৈনিক বাংলা

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ২৮সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণভবনে এক উচ্চপর্যায়ে সম্মেলনে বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন- টিসিবি’র কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এম আর সিদ্দিকী, টিসিবি’র চেয়ারম্যান সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বাইরে থেকে বিভিন্ন দ্রব্যাদি আমদানিতে টিসিবি যেসব অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে সেগুলোর এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়াদি সম্মেলনে আলোচিত হয় বলে পত্রিকার খবরে প্রকাশ করা হয়। একপর্যায়ে সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী পাটের বিষয়েও আলোচনা করেন। গণভবনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় শিল্পমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিমান বাহিনীর প্রতি বাণী

বাংলাদেশের বিমান, স্থল ও নৌবাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও  অখণ্ডতা অক্ষত থাকবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ‘বিমান বাহিনী দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে আস্থা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু।  দেশপ্রেমের জন্য গর্বিত স্বাধীন দেশের বিমান বাহিনীর ‘বিমান বাহিনী দিবসের’ কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘‘২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাদের প্রথম ‘বিমান বাহিনী দিবস’ পালন করছে শুনে আমি বিশেষ গর্বিত। দেশমাতৃকার মুক্তির ডাকে সাড়া দিয়ে এক বছর আগে আমাদের নির্ভীক ও সাহসী সৈনিক যে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে, ইতিহাসের পাতায় তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’’

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী শক্তিশালী দেশ রক্ষা বাহিনী গড়ে তোলার কথা বলেন। রাষ্ট্রপ্রধান  বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য একটি সুসংগঠিত দেশরক্ষা বাহিনী গড়ে ‍তুলতে চান।’ আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপ্রধান একথা বলেন।

রাষ্ট্রপ্রধান আবু সাঈদ চৌধুরী  তার ভাষণে বিমানবাহিনীর গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, ‘বিমানবাহিনী শুধু নীল আকাশে আমাদের স্বাধীনতার পতাকা উড্ডীন রাখবে না, সব প্রকার বৈদেশিক হুমকি থেকেও আমাদের দেশ ও জাতিকে রক্ষা করবে।’ দেশের জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই।’

ইত্তেফাক

১২ অক্টোবরের আগেই

১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের অধিবেশন বসার দিন নির্ধারিত ছিল। এর আগে আওয়ামী লীগকে দুর্নীতিমুক্ত করা বিপ্লবী অভিযানের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আরও কয়েকজন দুর্নীতিপরায়ন গণপরিষদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে আওয়ামী লীগের ওপর মহল থেকে জানানো হয়। ১২ অক্টোবর গণপরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠানের আগেই তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে খবর প্রকাশ করা হয়।

দুর্নীতিপরায়ন এমসিএ-দের তদন্ত অনুষ্ঠানের জন্য গঠিত স্ক্রিনিং কমিটি এসব এমসিএ’র ব্যাপারে বর্তমানে তদন্ত করছে বলে জানা যায়। উল্লেখ্য, এর আগে বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে গণভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সভায় যেসব গণপরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রভৃতি কারণে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের তালিকা ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সম্প্রতি ঢাকা নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটির এক সভায় জনস্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে দলের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ঢাকা নগরের কয়েকটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের শাখা বাতিলেরও সিদ্ধান্ত হয়।

ইত্তেফাক ২৯ সেপ্টেম্বর

ঢাকায় যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শুরু

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন বাংলাদেশের সিলেট ও ভারতের কাছাড় জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। এই দিনে ঢাকায় কমিশনের দ্বিতীয় দফা বৈঠক শুরু হলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী আলাপ-আলোচনা চলে। প্রথমদিন বৈঠক শেষে একজন মুখপাত্র জানান, একটি যৌথ বন্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণের  পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন একটি যৌথ বিশেষজ্ঞ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 
 
 

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ