শেখ হাসিনার আমল ইতিহাসের অনন্য অধ্যায়: শ ম রেজাউল করিম

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:২৬, অক্টোবর ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৮, অক্টোবর ০১, ২০২০

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘সমকালীন বিশ্বে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ও ক্ষমতায় থাকা আমল একটা স্বর্ণালী অধ্যায়। এ অধ্যায় কেউ কোনোদিন স্পর্শ করতে পারবে না। বাঙালি জাতির পরিত্রাণদাত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শাসক হিসেবে আদর্শ, রাজনীতিক হিসেবে আদর্শ। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় অতিক্রম করে তিনি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন। শেখ হাসিনার আমল ইতিহাসের অনন্য অধ্যায় হিসেবে সূচিত।’

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ফিরে না এলে ইতিহাসের স্বপ্ন ভঙ্গ হতো। কারণ, শেখ হাসিনা ফিরে আসার পর ইতিহাস পরিচ্ছন্নভাবে বিকশিত হওয়া শুরু করেছে। রক্তে যার বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উত্তরাধিকার তাকে পরাভব মানানো যায় না। দেশে ফিরে দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমি ফিরে এসেছি বাংলাদেশের সব মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে পরিপূর্ণ করার জন্য। আমার ব্যক্তিগত কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা তলাবিহীন ঝুঁড়ির বাংলাদেশকে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসায় উন্নত বাংলাদেশে পরিণত করেছেন। অধঃপতিত, পাঁচ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া রাষ্ট্রকে তিনি উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। এজন্য তাকে বলা হয় উন্নয়নের ম্যাজিশিয়ান।’

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘এদেশটা অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিলে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিলে এ দেশে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে আবারও পূর্ব পাকিস্তান কায়েম করা হয়েছিলে। শেখ হাসিনা ফিরে এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ফিরিয়ে এনেছেন। কলঙ্কিত অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশকে আজ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে এসেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচারের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করে তিনি  প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন।’

তিনি আরেও বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে আজ বলা হয় বিশ্বের সেরা সৎ ও পরিশ্রমী প্রধানমন্ত্রী। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার প্রবীণতম রাজনৈতিক নেতা। তিনি সেই নেতা, যার কারণে কোভিড-১৯ এর সময়ে দেশে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। সংকট মোকাবিচলায় বিশ্বের মধ্যে শেখ হাসিনা সেরা ব্যবস্থাপক। ৬৭ বছরের ছিট মহল সমস্যার সমাধান করে, সমুদ্র সীমায় বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় সমপরিমাণ জায়গায় অধিকার প্রতিষ্ঠা করে শেখ হাসিনা পরিণত হয়েছেন সেরা কূটনীতিকে। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪০টির অধিক সম্মাননা পেয়েছেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতিচ্ছবি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কেন্দ্রিকতা। অসাম্প্রদায়িকতার নিউক্লিয়াস। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসায় সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার শেষ আশ্রয়স্থল তিনি। একারণে আমাদের শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, বিনম্রতায়, কাজের মধ্যে সবসময় তাকে স্মরণ করতে হবে।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান কাজী হাসান আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবদুল জব্বার শিকদার, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার ও মেরিন ফিশারিজ অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন এম এইচ আহমেদ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ মো. ইমদাদুল হক, সুবোল বোস মনি, শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও মো. তৌফিকুল আরিফসহ মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দফতর-সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

 

/এসএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ