উপকূল অতিক্রম করছে গভীর নিম্নচাপ, জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৩৪, অক্টোবর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৩, অক্টোবর ২৩, ২০২০

উপকূলবঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে।  এর প্রভাবে খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে নদীবন্দর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান বলেন, ‘গভীর নিম্নচাপটি খুলনা উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। এটি আজ শুক্রবার বিকাল নাগাদ অতিক্রম শেষ করবে। এখন নিম্নচাপের কাছে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার।’ 

আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে।

সতর্ক বার্তায় বলা হয়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ একটানা ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।  এ কারণে দেশের চার সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম,  কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে গভীর সাগরে বিচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।সাগর উত্তাল (ছবি: ফোকাস বাংলা)

নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা,  খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর,  পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ এর আশপাশের দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী অর্থাৎ ৪০ থেকে ৮৮ মিলিমিটার থেকে অতি ভারী অর্থাৎ ৮৯ মিলিমিটারের চেয়েও বেশি বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশেই তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে।

এদিকে আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নদীবন্দরগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী,  পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর,  কুষ্টিয়া,  যশোর,   খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বদিকে থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।  এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বরিশাল বিভাগের খেপুপাড়ায় ২৫৪ মিলিমিটার।  এছাড়া ঢাকা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে মাদারীপুরে ৫৪, ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে নেত্রকোনায় ২২, চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে হাতিয়ায় ১৮৯, সিলেটে শ্রীমঙ্গলে ২৪, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে ঈশ্বরদীতে ৩৬, রংপুর বিভাগে সামান্য এবং খুলনা বিভাগের মধ্যে মোংলায় ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

/এসএনএস/এফএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ