দুর্গা মায়ের বিদায় বেলা সন্নিকটে, সন্ধি পূজায় বেড়েছে ভক্তদের আগমন

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ২১:২৩, অক্টোবর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৩, অক্টোবর ২৪, ২০২০

ষষ্ঠীতে দেবীর অধিবাস হলেও ভক্তরা কিছুটা উদাস ছিলেন। কারণ করোনার মহামারির কারণে সীমিত পরিসরে মন্দিরে প্রবেশে বিধি-নিষেধ। সপ্তমীতেও মন্দির প্রাঙ্গণ প্রায় ভক্তশূন্য থাকলেও অষ্টমীতে বেড়েছে। তিথি অনুযায়ী অষ্টমীতে সন্ধি পূজা করা হয়। এবার দুপুর পৌনে ১২ টা থেকে শুরু হয়ে পৌনে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে সন্ধি পূজা। সন্ধী পূজা জানান দেয় মায়ের বিদায় বেলা সন্নিকটে। দেবী এসেছেন এবার দোলায় করে এবং আর একদিন পর দশমীতে বিদায় নেবেন গজে চড়ে। শনিবার ( ২৪ অক্টোবর) রাজধানীর কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে তাই ভক্তদের আনাগোনার এক অন্যরকম দৃশ্য দেখা যায় ।
দেবী দুর্গার শক্তির বন্দনা আর অসুর বধের প্রত্যয়ে অষ্টমীর দিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়। তবে অষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ঢাকায় কুমারী পূজা হয়নি। রীতি অনুসারে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া ভক্তরা অঞ্জলি দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অষ্টমীর দিন পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের কথা থাকলেও এবার শুধু পুষ্পাঞ্জলির ব্যবস্থা সীমিত আকারে মন্দিরে করা হয়েছে। আর প্রসাদ হিসেবে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়নি এবার।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনসহ কয়েকটি স্থানে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এবার ঢাকায় তা হয়নি। কুমারী পূজায় রামকৃষ্ণ মিশনে ৩০-৩৫ হাজার ভক্তের সমাগম হতো এবং প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা থাকতো। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার তা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হতো। এবার তাও বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সবার জন্য প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি।


কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন বলেন, সন্ধি পূজা তিথি অনুযায়ী হয়ে থাকে । তাই এবার দুপুর পৌনে ১২ টা থেকে পৌনে ১ টা পর্যন্ত সন্ধি পূজা হয়েছে।
শাস্ত্রমতে, চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধ না হওয়ায় সপ্তমীতে দেবী ত্রিনয়নী চামুণ্ডা রূপ ধারণ করেন। এই চামুণ্ডা রূপেই মা দুর্গা চন্দ ও মুণ্ডের মাথা কেটে নেন। দেবীর এই চামুণ্ডা রূপের আরাধনা করা হয় সন্ধিপূজায়। দুই অসুর বধ করার ঘটনাকে স্মরণীয় করতেই করা হয় সন্ধিপূজা।
সন্ধিপূজার কারণে শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভক্তদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তাতে বেশ জনসমাগম হতে দেখা যায় মন্দির প্রাঙ্গণে। নতুন পোশাক আর মুখে মাস্ক পড়েই আসছেন তারা। ভক্তরা মোমবাতি আগরবাতি প্রজ্বলন করে পূজায় সামিল হন। অঞ্জলি দেওয়া হয় দূর থেকেই।
মন্দিরে আগত ভক্তরা জানান, দুর্গা মাকে একবার দর্শন করতেই পরিবারসহ এসেছেন। মন্দিরে আগত দর্শনার্থী মানবেন্দ্র নাথ বলেন, পূজার শুরু থেকেই পরিবারসহ বাড়ি ছিলাম। টিভিতে অঞ্জলি দেখেছি। একদিন পর মা চলে যাবেন , তাই পরিবারসহ এসেছি সন্ধিপূজায় সামিল হতে।
শুধু ভক্তরা নয় মন্দিরে এসেছিলেন দর্শনার্থীরাও। এমন এক দর্শনার্থী রাজীব জানান, প্রতিবারই অনেক উৎসবের সঙ্গে দুর্গাপূজা পালিত হয়। প্রতিবারই আসা হয়। এবার অন্যান্যবারের মতো আয়োজন নেই। প্রতিবার যেহেতু আসি তাই এবারও এলাম বন্ধুদের নিয়ে।


করোনা মহামারির কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে এ বছর বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখতে হবে বিধায় এবারের দুর্গোৎসবকে ‘দুর্গাপূজা’ হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সন্ধ্যায় আরতির পরই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পূজামণ্ডপ। থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আরতি প্রতিযোগিতা। জনসমাগমের কারণে স্বাস্থ্যবিধি যাতে ভঙ্গ না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই দুর্গাপূজায় আগেই প্রসাদ বিতরণ ও বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চণ্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। রোববার সকালে বিহিত পূজার মাধ্যমে মহানবমী পূজা এবং সোমবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।


ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এসও/এমআর/

লাইভ

টপ