X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

প্রাথমিকের শিক্ষায় ঘাটতি আছে: বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:১৫





প্রাথমিকের শিক্ষায় ঘাটতি আছে: বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন বাংলাদেশের প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের যা শেখানো হচ্ছে তা অপর্যাপ্ত। পঞ্চম শ্রেণির ৭৫ ভাগ শিক্ষার্থী গণিত পারে না। আর তৃতীয় শ্রেণির ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা পড়তে পারে না।
বিশ্ব ব্যাংকের ‘লার্নিং টু রিয়ালাইজ এডুকেশনস প্রমিজ - ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান এডো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে শিক্ষার্থীদের ১১ বছর পর্যন্ত লাগছে। যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তা মূলত সাড়ে ছয় বছরে পাওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের তুলনায় সাড়ে চার পিছিয়ে থাকছে বাংলাদেশের শিশুরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পঞ্চম শ্রেণির ১০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঠ্যবইয়ের সাধারণ গণিত পারে মাত্র ২৫ জন। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশ ঠিকভাবে বাংলা পড়তে পারে।
এসব সমস্যা সমাধানে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষার মান মূল্যায়ন, প্রাথমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা, শিক্ষকদের মান উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষের মান বৃদ্ধি এবং প্রাক-প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও শিক্ষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষায় সরকারি খরচ সবচেয়ে কম, যা মালয়েশিয়ার শিক্ষা ব্যয়ের অর্ধেকেরও কম।
বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রবাট জে সাম বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সব শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছে। এর মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। কিন্তু ক্লাসে যা শেখানো হচ্ছে তাতে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে থাকছে তারা। মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।’
শিক্ষা ব্যয় প্রসঙ্গে রবাট জে সাম বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় অনেক কম। এখানে মালায়শিয়ার চাইতে অর্ধেক ব্যয় করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বাজেটে শিক্ষা খাতে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তা দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গরিব পরিবারের শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করছে। ভিয়েতনামের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী যে পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে, জার্মানির শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক পর্যায়েই তা শিখছে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে শতভাগ স্কুলে ভর্তি শুরু হয়েছে। বর্তমানে আমরা মানসম্মত শিক্ষার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের জন্য সরকারি বিদ্যালয়গুলো আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। মেধাবীরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন। গত ৯ বছর ধরে সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে বই বিতরণ করছে। গত এক বছরে দুই লাখ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিগত আট বছরে শিক্ষা খাতে বাজেটে পাঁচ গুণ অর্থ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বাজেটে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা খাতে। মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে বাজেটে অর্থ বাড়ানো হবে। এছাড়াও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষা খাতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লিগো ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিস সারা বুচি, বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি হেলসি রোগাস্টাস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

 

/এসএমএ/এইচআই/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ
পাঞ্জাবকে হারিয়ে প্লে-অফের আশায় দিল্লি
আইপিএলপাঞ্জাবকে হারিয়ে প্লে-অফের আশায় দিল্লি
৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
এশিয়ান কাপ ফুটবল: ছিটকে গেলেন বাংলাদেশ গোলকিপার
এশিয়ান কাপ ফুটবল: ছিটকে গেলেন বাংলাদেশ গোলকিপার
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত