‘৯০ শতাংশের বেশি পরিবহন শ্রমিকের সাপ্তাহিক ছুটি নেই’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৪ মে ২০১৯, ১৬:৩৬ আপডেট : ০৪ মে ২০১৯, ১৭:৫৯

 

 

‘৯০ শতাংশের বেশি পরিবহন শ্রমিকের সাপ্তাহিক ছুটি নেই’

দেশের ৯০ শতাংশের বেশি পরিবহন শ্রমিকের কোনও সাপ্তাহিক ছুটি নেই। ৯৮ শতাংশ শ্রমিক সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার (৪ মে) দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আইএলও কনভেনশন-১-এর শতবর্ষ পূর্তি এবং বাংলাদেশে কর্মঘণ্টার বর্তমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে গবেষণার এই ফল তুলে ধরা হয়।
বিলসের তথ্য বিভাগের উপপরিচালক ইউসুফ আল মামুন জানান, নিরাপত্তাকর্মী, পরিবহন খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ, রি-রোলিং মিল ও হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার— এ পাঁচটি প্রচলিত বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের ওপর এ গবেষণা চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫০ শতাংশ শ্রমিক দৈনিক ১৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। ২০ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক কোনও কর্মবিরতি ছাড়াই কাজ করেন। ৯০ শতাংশের বেশি পরিবহন শ্রমিকের সাপ্তাহিক ছুটি নেই। ৯৮ শতাংশ শ্রমিক সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করেন। দূরপাল্লার চালকরা যেন ৫ ঘণ্টার বেশি একটানা গাড়ি না চালান, তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা, তার প্রতিফলন পাওয়া যায়নি বিলসের গবেষণা প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক-চতুর্থাংশ নিরাপত্তাকর্মী দৈনিক ১৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। ৫০ শতাংশ কর্মী কোনও কর্মবিরতি পান না। প্রায় ৬৬ শতাংশ নিরাপত্তাকর্মীর সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারিত নেই। সরকারি ছুটির দিনে কাজ করেন ৮৬ শতাংশ কর্মী।

বিলসের প্রতিবেদন বলছে, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কাজ করা প্রায় ৯৮ শতাংশ শ্রমিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। প্রায় ১৪ শতাংশ শ্রমিক ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। কর্মবিরতি ছাড়া কাজ করেন ২৬ শতাংশ শ্রমিক। ৮০ শতাংশের বেশি শ্রমিকের কোনও সাপ্তাহিক ছুটি নেই।
রি-রোলিং খাতে ৯২ শতাংশ শ্রমিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। প্রায় ১৬ শতাংশ দৈনিক ১৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করেন। ৯৬ শতাংশ শ্রমিককে দৈনিক একাধিক শিফটে কাজ করতে দেখা যায়। এছাড়া ৪৪ শতাংশ শ্রমিক দৈনিক গড়ে দুটি কারখানায় কাজ করেন। রি-রোলিং খাতের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শ্রমিককে দৈনিক গড়ে তিনটি কারখানায় কাজ করতে দেখা গেছে বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘১৯৭২ সালে বাংলাদেশ আইএলও’র সদস্য হলেও এতদিনেও আইএলও কনভেনশন বাস্তবায়ন করছে না। শ্রম আইন থাকলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’
বিলসের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের মহাপরিচালক শিবনাথ রায় বলেন, ‘দেশে পাঁচ কোটি ৮৭ লাখ শ্রমিকের জন্য শ্রম আইনের সব ধারা আমরা পরিপূর্ণ করতে পারিনি। শ্রমিকদের বেশি কাজ করালে তার জন্য ন্যায্য মজুরি পরিশোধ করতে হবে।’
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজের অধ্যাপক জাকির হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একেএম নাসিম, বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান শুক্কুর মাহমুদ, ইন্ডাস্ট্রি অব বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন প্রমুখ।

/এসও/এইচআই/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
জেলেনস্কি নামক ‘দুর্ভাগ্যজনক ছোট সমস্যাটি’র সমাধান করতে ট্রাম্পকে আহ্বান মেদভেদেভের
জেলেনস্কি নামক ‘দুর্ভাগ্যজনক ছোট সমস্যাটি’র সমাধান করতে ট্রাম্পকে আহ্বান মেদভেদেভের
ঘরের একপাশ ভেঙে স্বামীকে দাফন, অন্য পাশে থাকবেন স্ত্রী
ঘরের একপাশ ভেঙে স্বামীকে দাফন, অন্য পাশে থাকবেন স্ত্রী
কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু
কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা কতটা, সামনে যেসব শর্ত
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা কতটা, সামনে যেসব শর্ত
সর্বাধিক পঠিত
মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি
মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি
ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা ও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করা নারী আটক
ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা ও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করা নারী আটক
‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী থাকবে’ বলা এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার
‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী থাকবে’ বলা এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার
‘আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই’
‘আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই’
সাময়িকভাবে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন হুমায়ুন কবির, প্রজ্ঞাপন জারি
সাময়িকভাবে পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন হুমায়ুন কবির, প্রজ্ঞাপন জারি