সরকারি হাসপাতাল থেকে নিজের ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে আনতেন তিনি  

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৩৭আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৩৯

পর্যাপ্ত আইসিইউ চিকিৎসা সেবা রয়েছে, এমন আশ্বাস দিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতাল থেকে নিজের ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে আনতেন গোলাম সারোয়ার (৫৭)। তিনি ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। একটি শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারের সময় গোলাম সারোয়ারের মালিকানাধীন হাসপাতালটির বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান র‌্যাব সদস্যরা।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল  মঈন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল’ থেকে দাবি করা টাকা দিতে না পারায় আয়েশা আক্তার নামে এক নারীর দুই যমজ সন্তানকে এনআইসিইউ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি টাকা দিতে না পারায় ওই নারীকে শারীরিকভাবে হেনস্তাও করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সারোয়ার। পরে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন আয়েশা আক্তার এবং ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ওই হাসপাতালের ফার্মেসির বিল পরিশোধ করেন। এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে যমজ দুই শিশুর মধ্যে একজন মারা যায়। এই ঘটনার পরপরই শিশুটির মা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। অপর শিশুকে তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিক্যালের এইচডিইউতে ভর্তি করান। বর্তমানে শিশুটি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ আছে।’

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত গোলাম সারোয়ার জানিয়েছেন, ১৯৯২ সালে তিনি প্রাণিবিদ্যায় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০০০ সাল থেকে প্রায় ৬টি (রাজারবাগ, বাসাবো, মুগদা, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকায়) হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে শ্যামলীতে ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা শুরু করেন। আগের অভিজ্ঞতা থেকে এই হাসপাতালের সঙ্গেও দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তিনি।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম সারোয়ার জানান, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের ফুসলিয়ে এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হতো। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে যখনই তদারকি এবং মনিটরিংয়ের জন্য লোকজন আসতো, তখন বাইরে থেকে  চিকিৎসক ও নার্স এনে সবকিছু ঠিকঠাক করে রাখা হতো। অন্যান্য সময় হাসপাতালটি  ফাঁকা পড়ে থাকতো। চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও থাকতো না।

র‌্যাব জানায়, হাসপাতাল পরিচালনার বিধি অনুযায়ী সার্বক্ষণিক ৩ জন চিকিৎসক ডিউটিরত থাকার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র একজন চিকিৎসক ডিউটিতে থাকতো। হাসপাতালটিতে ২টি আইসিইউসহ ৩০টি বেডের অনুমোদন রয়েছে। তবে এই হাসপাতালে ৬টি আইসিইউ রয়েছে। অর্থাৎ ৪টি আইসিইউ বেশি। এছাড়া ভেন্টিলেটর রয়েছে ২টি। ৯টি এনআইসিইউ থাকলেও ইনকিউভিটর আছে মাত্র ১টি। ১৫টি সাধারণ বেড রয়েছে। মূলত আইসিইউ-কেন্দ্রিক ব্যবসার ফাঁদ তৈরি করে তিনি অবৈধ ব্যবসা করে আসছিলেন বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:

‘এনআইসিইউ থেকে বের করে দেওয়ার’ পর শিশুর মৃত্যু, হাসপাতাল মালিক আটক

/আরটি/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের