X
রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২
৩০ শ্রাবণ ১৪২৯

ভালো নেই খাঁচাবন্দি ওরা

জুবায়ের আহমেদ
০৫ আগস্ট ২০২২, ১৪:৩০আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২, ১৫:৩৫

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারও দর্শনার্থীর বিনোদনের খোরাক যোগায় মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাণীরা। কিন্তু পরিবেশ ও প্রতিবেশগত কারণে এসব প্রাণীর বিনোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, মানুষকে বিনোদন দেওয়া প্রাণীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বন্য পরিবেশ, তাদের বিনোদনের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে! এ জন্য চিড়িয়াখানার প্রাণীদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছে। ভালো নেই খাঁচাবন্দি ওরা

গত শুক্রবার (২৯ জুলাই) মিরপুর চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরম আর রোদের মধ্যে খাঁচার ভেতরে হাঁসফাঁস করছে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণীদের মাথার ওপর ছায়া দেওয়ার মতো গাছপালাও নেই খাঁচার ভেতর। খাঁচার পরিবেশও প্রাণীদের বেলায় অনেক সময় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তুলনামূলক ছোট আকারের পুরনো খাঁচায় রাখা হয়েছে বাঘ ও সিংহের মতো প্রাণীগুলোকে। খাঁচার মধ্যে রাখা ছোট গাছের গুড়ি থাকলেও নেই সবুজের ছোঁয়া। বানরের সবচেয়ে বড় খাঁচায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে একটি মাত্র টায়ার। ছোট একটি খাঁচায় তার চেয়েও ছোট টাইলস করা চৌবাচ্চায় হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে আছে বক। একই অবস্থা দেখা গেছে চিড়িয়াখানায় থাকা অন্য পশু-পাখিদের ক্ষেত্রেও। চুপচাপ ঝিমিয়ে সময় কাটে তাদের। মাঝে মাঝে অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের আওয়াজে বিরক্ত হয়ে সরে অন্য জায়গা গিয়ে শুয়ে থাকে তারা। ভালো নেই খাঁচাবন্দি ওরা

এ ছাড়া অনেক পশু-পাখিকে সঙ্গীবিহীন একাই একটি খাঁচায় সময় কাটাতে হচ্ছে। ফলে বেশিরভাগ প্রাণীর খাঁচা যেন কেবলই বন্দীশালা। বড় আকারের পাখিদের খাঁচায় পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। শকুনের মতো মত বড় পাখিরা দু’পাখা মেলে উড়তে পারছে না। তবে উন্মুক্ত স্থানে রাখা জিরাফ, জেব্রা, হরিণ, ঘোড়া, গাধাসহ আরও বেশ কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে কিছুটা গাছের ছায়া থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

পশু-পাখিদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হলেও চিড়িয়াখানায় প্রাণীদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আন্তরিকতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দর্শনার্থীরা। কর্মীরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, 'ঠিক মতোই খাবারদাবার দেওয়া হয় পশু-পাখিদের। আমরা যথাস্থানে নিয়মিত দিয়ে রাখি, তারা নিয়ে খায়।' ভালো নেই খাঁচাবন্দি ওরা

চিড়িয়াখানার প্রাণীদের পরিবেশের নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফিরোজ জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, চিড়িয়াখানা যে অবস্থায় প্রাণীদের রাখা হয়েছে তা প্রাণীদের অনুকূল কোনও পরিবেশ নয়। প্রথমেই যারা চিড়িয়াখানার পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা প্রাণীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে কাজটা করেনি বলেই আমার মনে হয়। যদিও দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে চিড়িয়াখানার একটি ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে, কিন্তু সেটা আর কত দূর!

সুন্দর এবং পরিকল্পিতভাবে চিড়িয়াখানা সাজানো হলে প্রাণী এবং সরকার উভয়ই উপকৃত হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘চিড়িয়াখানার প্রাণীদের প্রয়োজন অনুযায়ী যতটা সম্ভব বন্য পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া গেলে তাদের জন্মদান ক্ষমতা বাড়বে। আর এতে করে জন্ম নেওয়া প্রাণী বাইরে রফতানি করা কিংবা অন্য দেশের প্রাণীর সঙ্গে অদলবদল করা সম্ভব। মূলকথা চিড়িয়াখানায় জায়গাটার সঠিক ব্যবহার হলে সরকারের আয় বাড়বে। কিন্তু এদিকে কারও তেমন মনোযোগ নেই।'

চিড়িয়াখানার সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে বলেও জানান অধ্যাপক ফিরোজ জামান।

প্রাণীদের পরিবেশের বিষয়ে চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মদ রফিক তালুকদার বলেন, আমি সদ্য চিড়িয়াখানায় নিযুক্ত হয়েছি। আমার এখনও টেবিল ওয়ার্ক করা বাকি। তবে এইটুকু বলতে পারি সরকার চিড়িয়াখানাকে ঢেলে সাজানোর জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়েছে। আশা করি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষে বাংলাদেশের চিড়িয়াখানা পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম সুন্দর চিড়িয়াখানায় রূপান্তর হবে।

দর্শনার্থীদের ভোগান্তি

বনের প্রাণীদের কাছ থেকে দেখতে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন জাতীয় চিড়িয়াখানায়। তাদের মধ্যে এক বড় অংশ আসেন রাজধানীর বাইরের থেকে। দর্শনার্থীদের কৌতূহল মিটলেও চিড়িয়াখানার পশু-পাখির বিন্যাস জটিল মনে করেন অনেকে।

ফ্যামিলি নিয়ে চিড়িয়াখানা ঘুরতে আসা সাইদুল ইসলাম বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। বাচ্চারা সব সময় টিভিতে এসব পশু দেখে আসছে আজকে বাস্তবে দেখলো।

চিড়িয়াখানা ঘুরতে কোন সমস্যা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, 'চিড়িয়াখানাটা আরেকটু পরিকল্পিত হলে ভালো হতো। মাঝে মাঝে মনে হয় একই জায়গায় চলে আসছি। যদিও ম্যাপ দেওয়া আছে, কিন্তু সেটাতো একবার দেখেই মাথায় থাকে না।' ভালো নেই খাঁচাবন্দি ওরা

টাঙ্গাইল থেকে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসা আহমদ তার খালাতো ভাইকে নিয়ে এসেছে চিড়িয়াখানা দেখতে। তিনি বলেন, ‘এর আগেও অনেক আগে আসা হয়েছে। আগের পরিবেশ নাই। পশুগুলো কেমন জানি মনমরা। শুয়েই দিন কাটিয়ে দেয়।’
ভালো নেই খাঁচাবন্দি ওরা
পাবলিক টয়লেটগুলোর পরিবেশ অনেকটাই অস্বাস্থ্যকর বলে অভিযোগ করেছেন আরেক দর্শনার্থী। তিনি বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন নারী ও শিশুরা। বাইরের দর্শনার্থীদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য রাখা হয় অতিরিক্ত টাকা।

চিড়িয়াখানায় বাংলাদেশের পর্যটন করপোরেশনের খাবারের দোকানগুলোতে পানি ও চিপসের দাম গায়ের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ আছে। অন্যান্য খাবারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। তারপরেও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ অনেক দর্শনার্থীর।

/ইউএস/এমএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
নবজাতক জিম্মি করে বকশিশ আদায়, তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন আটক
নবজাতক জিম্মি করে বকশিশ আদায়, তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন আটক
জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত: হানিফ
জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত: হানিফ
চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই তাইওয়ানে মার্কিন আইনপ্রণেতারা
চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই তাইওয়ানে মার্কিন আইনপ্রণেতারা
খেলার মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্প, নির্মাণ কাজের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
খেলার মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্প, নির্মাণ কাজের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
এ বিভাগের সর্বশেষ
চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
মন্দা আবহাওয়াতেও চিড়িয়াখানায় ৩৫ হাজার
মন্দা আবহাওয়াতেও চিড়িয়াখানায় ৩৫ হাজার
খাঁচায় থাকবে না চিড়িয়াখানার প্রাণী
খাঁচায় থাকবে না চিড়িয়াখানার প্রাণী
জাতীয় চিড়িয়াখানা খুলছে কাল
জাতীয় চিড়িয়াখানা খুলছে কাল
মহামারির বন্ধে চিড়িয়াখানায় প্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে
মহামারির বন্ধে চিড়িয়াখানায় প্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে