X
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২
১৬ আশ্বিন ১৪২৯

জেএমবি এখন কতটা সক্রিয়?

নুরুজ্জামান লাবু
১৬ আগস্ট ২০২২, ২৩:৩০আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ২৩:৩০

সারা দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর পার হতে যাচ্ছে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির সেই হামলায় দু’জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছিল। প্রায় দেড় যুগ পর সেই জঙ্গি সংগঠন জেএমবির এখন কী অবস্থা? কতটা সক্রিয় আছে জেএমবি? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের মতো সেই শক্তি এখন আর জেএমবির নেই। আগে নমনীয় ভাব থাকলেও সিরিজ বোমা হামলার পর কিছুটা নড়েচড়ে বসে তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকার। একে একে গ্রেফতার করা হয় শীর্ষ জঙ্গিদের। এরপর থেকে নেতৃত্ব শূন্য হয়ে জেএমবির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভাটা পড়েছে।

তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তার ভাষ্য, ধারাবাহিক অভিযানে বাংলাদেশে অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের মতো জেএমবি কিছুটা কোনঠাসা হলেও একেবারে নির্মূল হয়ে যায়নি। ভারতে পলাতক থেকে জেএমবির শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন সালেহীন এই সংগঠনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। এক বছর আগে এই সালাউদ্দিন সালেহীনের মনোনীত জেএমবির বাংলাদেশের আমির রেজাউল হক রেজা ওরফে তানভীর মাহমুদ শিহাব নামে এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এছাড়া কারাগারে বসে জেএমবির শীর্ষ অনেক নেতা সংগঠনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। মাঝে মধ্যেই জেএমবি জঙ্গিদের ডাকাতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

১৯৯৮ সালের এপ্রিল মাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করলেও ২০০১ সালে হামলার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে জেএমবি। শায়খ আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে জেএমবি শুরুতে বিভিন্ন বিদেশি এনজিওগুলোতে ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ করতো। ২০০১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার একটি সিনেমা হলে প্রথম বোমা হামলা করে তারা। ২০০২ সালের ১ মে নাটোরের একটি সিনেমা হলে এবং ৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে একযোগে বোমা হামলা করে জেএমবি।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ব্যাপক কর্মকাণ্ড চালালেও তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকার জেএমবিকে আড়ালে রেখে হামলাগুলোকে রাজনৈতিক প্রলেপ মাখিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করেছে। এমনকি ২০০৪ সালে রাজশাহীর বাগমারা, নওগাঁর আত্রাই ও রানী নগর এলাকায় চরমপন্থী নিধনের নামে জেএমবির অন্যতম শুরা সদস্য সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ-জেএমজেবি নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এসব ঘটনাকে ‘মিডিয়ার সৃষ্টি’ বলেও দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা হামলার পর নড়েচড়ে বসে সরকার।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ২০০৬ সালের ২ মার্চ জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা আমির শায়খ আব্দুর রহমানকে সিলেটের সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে গ্রেফতার ও এক বছরের মাথায় বিচার শেষে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ শীর্ষ ৬ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এর মাধ্যমে জেএমবির প্রথম অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, জেএমবির প্রথম অধ্যায় সমাপ্ত হলেও নতুন নেতৃত্বে আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে তারা। ২০১০ সালে জেএমবির তৎকালীন আমির মাওলানা সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে জেএমবিতে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ২০১৪ সালে একটি অংশ আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের অনুসারী হিসেবে নব্য জেএমবি নামে নিজেদের পরিচয় দিতে থাকে। তবে ওই বছরেরই ২৩ ফেব্রুয়ারি জেএমবির মূলধারার শীর্ষ তিন নেতা সালাউদ্দিন সালেহীন, হাফেজ মাহমুদ ও বোমা মিজানকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকায় প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয় সংগঠনের সদস্যরা। এরপর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হাফেজ মাহমুদ মারা গেলেও বাকি দুজন পালিয়ে ভারতে চলে যায়। এর মধ্যে বছরচারেক আগে ভারতে গ্রেফতার হয়েছে বোমা মিজান। সালাউদ্দিন সালেহীন এখনও পলাতক। সে-ই এখন জেএমবিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

পুলিশের জঙ্গি প্রতিরোধে বিশেষায়িত ইউনিট ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) গত বছরের এপ্রিলে জেএমবির বাংলাদেশ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত আমির রেজাউল হক রেজা ওরফে  তানভীর মাহমুদ শিহাবকে গ্রেফতার করে। সেসময় জিজ্ঞাসাবাদে শিহাব জানিয়েছে, সালেহীনের নির্দেশে সে জেএমবিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল। তার মূল কাজ ছিল দাওয়াহ শাখার মাধ্যমে সদস্য রিক্রুট করা ও অর্থ তহবিল গঠন করা। তারা সাংগঠনিকভাবে নতুন করে  আর হামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রহমত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জেএমবির হামলা করার সাংগঠনিক শক্তিও এখন নেই। তারা দাওয়াহ শাখা পরিচালনার মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ আমিরকে গ্রেফতারের পর এখন তাদের সাংগঠনিক কাঠামোও নেই। বিচ্ছিন্নভাবে অনলাইনভিত্তিক কিছু কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে জেএমবি।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গত বছরের প্রথম দিকে রাজধানীতে অন্তত ছয়টি ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এর সঙ্গে জেএমবির সম্পৃক্ততা খুঁজে পান তারা। জেএমবির একজন মধ্যম সারির নেতা আনোয়ারুল ইসলাম হৃদয় এসব ডাকাতিতে নেতৃত্ব দেয়। কাশিমপুর কারাগারে থাকা আরেকজন জেএমবি জঙ্গির নির্দেশনা অনুযায়ী হৃদয় ডাকাতি করে সংগঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহ করছিল। হৃদয়ের সহযোগীদের গ্রেফতারের পর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিম বেশ কিছু নথিপত্রও উদ্ধার করেছিল।

জঙ্গি প্রতিরোধে গঠিত পুলিশের আরেক বিশেষায়িত ইউনিটের পুলিশ সুপার (ইন্টেল) হাসানুল জাহিদ বলেন, ‘জেএমবির আগের মতো তৎপরতা বা সক্ষমতা কিছুই নেই। এই সংগঠনের পলাতক জঙ্গিরা কিছুটা তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করে। তবে আমরা নিয়মিত তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি। গত এপ্রিলেও সানোয়ার ওরফে রউফ নামে জেএমবির মৃত্যুদণ্ড পাওয়া একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ধনেপাতা কিনতে না কিনতেই পচে যাচ্ছে?
ধনেপাতা কিনতে না কিনতেই পচে যাচ্ছে?
আজ মহাষষ্ঠী, দেবীর বোধন কলকাতার বাড়ির পুজোয়
আজ মহাষষ্ঠী, দেবীর বোধন কলকাতার বাড়ির পুজোয়
প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে যাচ্ছেন : কৃষিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করে যাচ্ছেন : কৃষিমন্ত্রী
এ বিভাগের সর্বশেষ
কবে যাবে বর্ষা?
কবে যাবে বর্ষা?
তোয়াব খানের দাফন সোমবার
তোয়াব খানের দাফন সোমবার
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাড়ানোর তাগিদ পূজা উদযাপন কমিটির
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাড়ানোর তাগিদ পূজা উদযাপন কমিটির
পরিবারের দাবি নিঃশর্ত মুক্তি, পিবিআই বলছে আগে তদন্ত
রহিমা বেগম নিখোঁজ মামলাপরিবারের দাবি নিঃশর্ত মুক্তি, পিবিআই বলছে আগে তদন্ত
‘৪৯ একর জমি দখল হয়ে গেলো, ওয়াসা দেখলো না কেন’
‘৪৯ একর জমি দখল হয়ে গেলো, ওয়াসা দেখলো না কেন’