X
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২
১৭ আশ্বিন ১৪২৯

ছাদবাগান বাড়ছে, মিলছে ১২ মাস ফলমূল-শাকসবজি

মাহফুজ সাদি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:০০আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:০০

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে উপজেলা শহরেও ক্রমেই বাড়ছে ছাদবাগান। ফলে শহরাঞ্চলের প্রায় সর্বত্রই ছোট-বড় ভবনগুলোর চূড়ায় সবুজের সমারোহ চোখে পড়ছে। পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছে এই ছাদবাগান। সঙ্গে ১২ মাস মিলছে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বিভিন্ন প্রজাতির তরতাজা ফলমূল ও শাকসবজি।

তবে অপরিকল্পিতভাবে ছাদবাগান গড়ে ওঠায় এর রয়েছে কিছু ঝুঁকিও। মশার বিস্তার, মশাবাহিত ডেঙ্গু, চিনকগুনিয়ার বিস্তার, দুর্গন্ধ ছড়ানোসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছাদ থেকে কিছু খসে পড়লে পথচারীর জন্য জীবনের ঝুঁকিও হতে পারে।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গুলশান-বনানী-ধানমন্ডি-বেইলি রোডের মতো অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে বাসাবো-মানিকনগর-মিরপুরের মতো মধ্যবৃত্তদের বসবাসের এলাকায় প্রচুর ছাদবাগান রয়েছে। পুরান ঢাকার গিঞ্জি এলাকা থেকে উত্তরার মতো পরিকল্পিত এলাকায়ও এমন বাগান চোখে পড়ার মতো। ব্যতিক্রম দৃশ্য কেবল নিম্নবৃত্তদের আবাসস্থলগুলো।

পরিবেশবিদরা বলছেন, শহরায়নের কারণে শহর অঞ্চলে কংক্রিটের পরিমাণ বাড়ছে। প্রকৃতিতে গাছপালাসহ সবুজের পরিমাণ ক্রমাগতভাবে কমছে। এটি পরিবেশ-প্রতিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও তৈরি করছে। এ নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে একধরনের সচেতনতা তৈরি হয়েছে। ফলে দিনকে দিন ছাদবাগান বাড়ছে। তা ছাড়া শৌখিনতার কারণে বা শখের বশেও অনেকে এমন বাগান করছেন।

ছাদবাগানের মালিকরা জানান, ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের ছাদবাগান গড়ে উঠছে দেশে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ছোট-বড় বাগানের সংখ্যাই বেশি। এসব বাগান তৈরির পেছনে অনেকগুলো উদ্দেশ্য কাজ করে। তার মধ্যে অন্যতম ভবনের শোভাবর্ধন, সবুজ পরিবেশের কাছাকাছি থাকা, তাজা ফলমূল ও শাকসবজি পাওয়া ইত্যাদি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার ছাদবাগানগুলোতে মূলত দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ফলের গাছ, বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ এবং শোভাবর্ধনের গাছপালাই সবচেয়ে বেশি। উল্লেখযোগ্য গাছের মধ্যে রয়েছে আম, পেয়ারা, লেবু, কদবেল, মাল্টা, কমলা, পেপে, কুল, ডালিম, শরিফা, সফেদা, আমলকী, কামরাঙ্গা, জামরুল ও করমচা। বিদেশি ফলের মধ্যে আছে- ড্রাগন, কাঁঠাল, বিদেশি কাঁঠাল, থাই মিষ্টি কামরাঙা, মিশরীয় ডুমুর, সিডলেস মিষ্টি আঙুর, থাই মিষ্টি জামরুল, পেয়ারা, পিচ ফল ও থাই মিষ্টি তেঁতুল।

ছাদবাগান বাড়ছে, মিলছে ১২ মাস ফলমূল-শাকসবজি শাকসবজির মধ্যে রয়েছে বেগুন, টমেটো, ঢ্যাঁড়স, ক্যাপসিকাম, শিম, বরবটি, কুমড়া, শসা, করলা, লাউ, ধুন্দল, লালশাক, ডাঁটাশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, ব্রকলি ও মুলা।

মসলার মধ্যে আছে মরিচ, গোলমরিচ, ধনেপাতা, বিলাতি ধনিয়া, পুদিনা, কারিপাতা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও পাম।

ফুলের মধ্যে রয়েছে গোলাপ, বেলি, জুঁই, গন্ধরাজ, জবা, টিকোমা, জারবেরা, শিউলি, এলামন্ডা, বগুনভিলা ও বিভিন্ন মৌসুমি ফুল। আর ঔষধির মধ্যে থাকছে অ্যালোভেরা, তুলসী, থানকুনি, চিরতা, স্টিভিয়া ও গাইনোরা।

রামপুরার বনশ্রী এলাকায় নিজের পাঁচতলা বাড়ির ছাদে বাগান করেছেন আতাউর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, একটা সময় ছাদবাগানকে অভিজাতদের শৌখিন বা শখের ব্যাপার মনে করা হতো। এখন যে কেউ এটি করতে উৎসাহিত হচ্ছেন। আমার মতো অনেকেই ছাদবাগান করছেন। এর ফলে সবুজ প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার পাশাপাশি আমরা ১২ মাস স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি খেতে পারছি।

মিরপুর ১০ নম্বরের বসবাস করা নাসিরুল ইসলাম বলেন, তার ছাদবাগানে বেশ কিছু ফলের গাছ এবং কিছু শাকসবজি চাল করেছেন। ফুল গাছের প্রতি খুব একটা আগ্রহ নেই। নির্ভেজাল ফলমূল খেতে ছাদবাগানের দিকে ঝুঁকেছেন তিনি। এর সঙ্গে বায়ুদূষণের এই শহরে কিছুটা হলেও প্রকৃতির স্বাদ পাচ্ছে পরিবারের সদস্যরা।

তবে কৃষিবিদরা বলছেন, ছাদবাগানের মালিক পরিবারগুলোর তাজা ফলমূল ও শাকসবজির চাহিদা মেটানো, বাড়ির ওপরের ফ্লোর শীতল রাখে, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখে, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে টব, ড্রাম ও ছাদের অংশবিশেষে চাষাবাদ করায় বেশ কিছু ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। মশার বিস্তার, মশাবাহিত ডেঙ্গু, চিনকগুনিয়ার বিস্তার, দুর্গন্ধ ছড়ানোসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নিরাপদ ছাদবাগানের জন্য তাদের পরামর্শ হলো, ছাদের কার্নিশ বা ব্যালকনিতে পট বা টবে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে এগুলো পড়ে বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টের নিচের পথ দিয়ে চলাচলকারীরা দুর্ঘটনার শিকার না হন। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, বাগানের পরিচর্যা করা, পোকামাকড় হলে ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিএস টু ডিজি) আরিফ মোহাম্মদ মোজাক্কের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ছাদবাগানের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে তিন বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, সেটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে নার্সারির বিভিন্ন উপকরণ প্রদানসহ দিয়ে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এটি একটি সফল প্রকল্প ছিল। সে কারণে আরেকটি নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তবে এই ধরনের বাগান পরিকল্পিত হওয়া জরুরি। সে জন্য আমরা আগ্রহীদের নিকটস্থ কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং তাদের পরামর্শ নিয়ে করার অনুরোধ করে থাকি।

ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও জেলা ও পৌর শহরে দালানকোটার সংখ্যা বাড়ায় ছাদবাগানও ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি পরিকল্পিত ছাদবাগান গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।
এ ছাড়া কৃষি তথ্য সার্ভিসের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অনলাইন কৃষি সহায়তা পোর্টাল এবং সবার জন্য উন্মুক্ত ১৬১২৩ নম্বরে ফোন করে এ-সংক্রান্ত সহযোগিতা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

/এনএআর/
সম্পর্কিত
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বিশ্ব শিশু দিবস ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের কর্মসূচিতে যা থাকছে
বিশ্ব শিশু দিবস ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের কর্মসূচিতে যা থাকছে
দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিশ্বমানে উন্নীতে কাজ চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিশ্বমানে উন্নীতে কাজ চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আসিফ-লগ্নজিতার প্রেমে পড়ার গল্প (ভিডিও)
আসিফ-লগ্নজিতার প্রেমে পড়ার গল্প (ভিডিও)
বৈষম্য ঘোচাতে চাকরি জাতীয়করণের দাবি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের
বৈষম্য ঘোচাতে চাকরি জাতীয়করণের দাবি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের
এ বিভাগের সর্বশেষ
ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে ২ ব্যাংক কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ
ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে ২ ব্যাংক কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ
মিডিয়া পাড়ায় দেবীর পদধ্বনি
মিডিয়া পাড়ায় দেবীর পদধ্বনি
রাসায়নিক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আলোচনা
রাসায়নিক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আলোচনা
বিদেশফেরত যাত্রীদের অজ্ঞান করে সবকিছু লুটে নিতো তারা
বিদেশফেরত যাত্রীদের অজ্ঞান করে সবকিছু লুটে নিতো তারা
যশোরের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ঢাকায় গ্রেফতার
যশোরের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ঢাকায় গ্রেফতার