X
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩
১৬ মাঘ ১৪২৯

দুবাইয়ের ভিসা দিয়ে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস, এরপর...

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০১ নভেম্বর ২০২২, ১৪:৪৯আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২২, ১৪:৪৯

কাজ করার জন্য বিদেশ যেতে চেয়েছিলেন মো. সফিকুল ইসলাম। এই ইচ্ছে নিয়ে মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়েন তিনি। লিবিয়া ও সিরিয়া হয়ে ইতালিসহ ইউরোপের যে কোনও দেশে তাকে পাঠানোর আশ্বাস দেয় পাচারকারীরা। পরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাইয়ে ভিসা দিয়ে চক্রটি তাকে বাংলাদেশ থেকে বের করে নিয়ে যায়।দুবাই থেকে সিরিয়া ও পরে লিবিয়া নিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তিপণ আদায় করা হয়। নিরুপায় হয়ে সফিকুলের পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযোগ করলে তাকে লিবিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়। এদিকে বাংলাদেশে পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এই তথ্য জানান। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গত ২৮ অক্টোবর সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে রাজধানী যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- বাদশা (৩১) ও রাজিব মোল্লা (৩৫)। ব্রিফিংয়ে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ

ডিবি প্রধান বলেন, ভিকটিম মো. সফিকুল ইসলামকে গ্রেফতারকৃত বাদশা ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অক্টোবরে ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে দুবাই পাঠায়। পরে গ্রেফতারকৃত রাজিবের আত্মীয় ও সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের সদস্য সবুজ দুবাই এয়ারপোর্টে ভুক্তভোগীসহ আরও ২০ জনকে রিসিভ করে একটি বাসায় নিয়ে যায়। দুবাই থেকে সিরিয়া হয়ে লিবিয়ার মিসরাত এলাকার একটি ক্যাম্পে গ্রেফতারকৃত বাদশা ও রাজিবের বোন জামাই সুলতানের নেতৃত্বে ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

সফিকুলকে নির্যাতন করে মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে কান্না শুনিয়ে ৫ লাখ টাকা টাকা দাবি করে পাচারকারীরা। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার নিরুপায় হয়ে গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগে সহযোগিতা চায়। এরপর যাত্রাবাড়ী থানায় মানবপাচার আইনে গত ২৭ অক্টোবর একটি মামলা করা হয়।

ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তেঁজগাও বিভাগ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের বাংলাদেশি দুই সদস্য বাদশা ও রাজিব মোল্লাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা সরঞ্জাম ও টাকা

গ্রেফতারকৃতদের মাধ্যমে লিবিয়ায় অবস্থান করা সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের অন্যতম সদস্য সুলতানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিকটিম মো. সফিকুল ইসলামকে লিবিয়া থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে ভিকটিম মো. সফিকুল ইসলাম চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানায়, আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের সদস্য বাদশা ও রাজিব দেশের বেকার যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকদের ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার করে থাকে। সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের বিদেশে অবস্থান করা অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে ভিকটিমদের অপহরণ করে ক্যাম্পে আটক রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে ভিকটিমদের পরিবারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে থাকে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম সবুর, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আনিচ উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

 

/এএইচ/এফএস/
সর্বশেষ খবর
সংবাদ প্রকাশের পর কুমিল্লার হাইওয়ে হোটেলে অভিযান
সংবাদ প্রকাশের পর কুমিল্লার হাইওয়ে হোটেলে অভিযান
ভাড়াটে খুনি দিয়ে ভাতিজাকে খুন করান সাইফুল
ভাড়াটে খুনি দিয়ে ভাতিজাকে খুন করান সাইফুল
অভিনেত্রী আঁখির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক
অভিনেত্রী আঁখির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক
শীতপ্রবণ তেঁতুলিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে বদলে যাওয়া জীবনের গল্প
শীতপ্রবণ তেঁতুলিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে বদলে যাওয়া জীবনের গল্প
সর্বাধিক পঠিত
এসআইবিএল থেকে মাহবুব-উল-আলমের পদত্যাগ
এসআইবিএল থেকে মাহবুব-উল-আলমের পদত্যাগ
এনআইডি’র সঙ্গে সমন্বয় করে পাসপোর্ট সমস্যা দ্রুত সমাধানের সুপারিশ
এনআইডি’র সঙ্গে সমন্বয় করে পাসপোর্ট সমস্যা দ্রুত সমাধানের সুপারিশ
রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে প্রস্তুত ন্যাটো?
রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে প্রস্তুত ন্যাটো?
অভিনেত্রী আঁখির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক
অভিনেত্রী আঁখির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক
আলাদা ইউনিট করে রাজউকই পূর্বাচলে নাগরিক সেবা দেবে
আলাদা ইউনিট করে রাজউকই পূর্বাচলে নাগরিক সেবা দেবে