X
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২
১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় সরকারের উদাসীনতা দায়ী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৪ নভেম্বর ২০২২, ২১:৩৪আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২, ২১:৩৪

২৫ বছরেও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় সরকারের উদাসীনতা দায়ী বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নারীদের প্রতি সহিংসতা দিন দিন বাড়ছেই। এ ছাড়া তাদের ভূমি দখলসহ এমনকি গুম-হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) ডেইলি স্টার সেন্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সইয়ের ২৫ বছর পূর্তি সামনে রেখে ‌‘চুক্তির বাস্তবায়নে সরকারের উদাসীনতা: পাহাড়ি আদিবাসী ও নারীর নিরাপত্তা সংকট’ বিষয়ক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন, এএলআরডি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও কাপেং ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই সভা আয়োজিত হয়।

আলোচনা সভায় খুশী কবির বলেন, ‌‘এ দেশের নাগরিক হিসেবে সবার জানা দরকার, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫ বছর পরও কেন চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে না? অনেক আলাপ-আলোচনার পর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ২৫ বছর পরও তা বাস্তবায়নের এই অবস্থা হয়, তাহলে সেটা পাহাড়ের আদিবাসীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’

ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫ বছর অতিবাহিত হলেও চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি ভাষ্যমতে, চুক্তির ৭২টির মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অপর ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু চুক্তি অপর পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মতে, ৭২টির মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। অবশিষ্ট ১৮টি ধারার আংশিক এবং বাকি ২৯টি ধারা সম্পূর্ণভাবে অবাস্তবায়িত রয়েছে বলে জেএসএসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।’

রাজনৈতিক দলের সদস্যদের মিথ্যা মামলার আড়ালে গ্রেফতার, জেলগেট থেকে পুনরায় আটক, এমনকি গুম-হত্যার ঘটনাও ঘটছে উল্লেখ করে রানী য়েন য়েন বলেন, ‘আদিবাসী নারীদের প্রতি সহিংসতা দিন দিন বাড়ছেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সারা দেশে নারীর সহিংসতা বাড়ছে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী নারীদের প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে ভিন্ন মাত্রা হয়েছে বিশেষ করে সেখানকার ভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাস, নারীকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো, সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় আধিপত্য ও সাম্প্রদায়িকতা। নারীর প্রতি সহিংসতার ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে রয়েছে, ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পাচারের জন্য বিয়ে ও অপহরণ ইত্যাদি।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে না পারা। এ দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে দুষ্কর্ম, অপকর্ম যতটা দ্রুত ও সাহসের সঙ্গে করা যায়, ভালো কাজের বেলায় রাষ্ট্র ততটাই দ্বিধায় ভোগে। পার্বত্য চট্টগ্রামে গেলেই বোঝা যায় যে পার্বত্য চুক্তি সঠিক পথে হাঁটেনি।’ সম্মিলিত নাগরিক জোট গঠনের মাধ্যমে আদিবাসী-বাঙালি ও প্রশাসনের মধ্যে আস্থা নির্মাণের কাজ শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।

ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘ভূমি সমস্যা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। পর্যটনের নামে ভূমি বেদখল চলছে। পাহাড়িদের মধ্যে ঐক্য না থাকলে ভূমি বেদখল আরও বাড়বে।’

গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নাগরিক প্রতিনিধি ও নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

/জেডএ/এনএআর/
পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে চান না বাইডেন
পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে চান না বাইডেন
কানায় কানায় পরিপূর্ণ ঈদগাহ মাঠ
বিএনপির গণসমাবেশকানায় কানায় পরিপূর্ণ ঈদগাহ মাঠ
ভারতীয় সেনাবাহিনী যুক্ত হওয়ায় কোন পথে এগোয় যুদ্ধ
ভারতীয় সেনাবাহিনী যুক্ত হওয়ায় কোন পথে এগোয় যুদ্ধ
অনুশীলনে প্রাণবন্ত এক আর্জেন্টিনা
অনুশীলনে প্রাণবন্ত এক আর্জেন্টিনা
সর্বাধিক পঠিত
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী
রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আবিরের মা-বাবা
আয়াত হত্যারিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আবিরের মা-বাবা