মাসে ৬৬ হাজারেরও বেশি মামলা

মামলা-জরিমানায়ও ফিরছে না সড়কের শৃঙ্খলা, বেকায়দায় ট্রাফিক পুলিশ

রিয়াদ তালুকদার
১৬ মে ২০২৩, ১০:০০আপডেট : ১৬ মে ২০২৩, ১৪:৩১

দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ বাহিনী। আইনি যেকোনও সমস্যা, সংকট বা বিপদে নাগরিকদের প্রথম ভরসা বাংলাদেশ পুলিশ। নাগরিকদের নিরাপত্তায় শহর থেকে গ্রামে সবখানে দিনরাত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন পুলিশ সদস্যরা। ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে, পুলিশ আছে জনতার পাশে’ এই স্লোগান নিয়ে নানা ধরনের সেবা দিচ্ছে বাহিনীটি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশে সৃষ্টি করা হয়েছে নানা ধরনের ইউনিট। তবে যানবাহন, স্বাস্থ্য, জনবল ও লজিস্টিকসহ নানা সংকটে জর্জরিত বিশাল এই বাহিনী। সেসব সংকট নিয়েই বাংলা ট্রিবিউনের সিরিজ প্রতিবেদন ‘পুলিশের কষ্ট’।

রাজধানীতে নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। বিশেষ করে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অদক্ষ চালক, যত্রতত্র পার্কিং, চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা (হেলমেট ও সিট বেল্ট না পরা) নিশ্চিত না করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন কারণে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় তাদের। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আইন, রয়েছে জরিমানার বিধান। সে অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে মামলাও। ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে ৪৭ লাখ ৫৩ হাজার ৪০২টি মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। সেই হিসাবে গড়ে প্রতি মাসে ৬৬ হাজারেরও বেশি মামলা দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৮৬ কোটি ৫৪ লাখ ৪ হাজার ৪০৯ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যারমধ্যে ৩৪৬ কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৮৫৫ টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে। তারপরও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। 

ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় মামলা দেওয়া হচ্ছে। তারপরও একই ভুল করতে দেখা গেছে চালকদের। সেকারণে দ্বিতীয় দফার ভুলের জন্য দ্বিগুণ জরিমানা আদায় করা হয়। অবশ্য জরিমানা আদায় নিয়েও অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। চালকরা বিভিন্ন অজুহাত দেখানো থেকে শুরু করে অনেক সময় পেশীশক্তিও দেখানোর চেষ্টা করেন। তারপরও সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই দায়িত্ব পালন করতে হয়।

ট্রাফিক সার্জেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামলা নিয়ে প্রায়শই যানবাহনের চালক এবং মালিকদের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের তর্কাতর্কিও হয়। মামলা করলেই গাড়ির চালক ও মালিকের কাছে ‘খারাপ’ হতে হয়, না করলে ‘ভালো’। সড়কে পার্কিং করা গাড়ি সরাতে বললে উল্টো তারা পুলিশের কাছে পার্কিংয়ের জন্য জায়গা চান। বিত্তবান ও ক্ষমতাবানদের মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করাও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। গাড়ির চালক-মালিকের কাছে কাগজপত্র চাইলে তারা সময়ক্ষেপণ করেন, এতে স্বাভাবিক  দায়িত্বরত পুলিশের কাজ ব্যাহত হয়।

গত ছয় বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০, ২১ ও ২২ সালে মামলার সংখ্যা কম হলেও জরিমানার টাকার পরিমাণ বেড়েছে। যারাই সড়কে যানবাহনের মামলায় পড়েছেন তাদের নতুন আইনে বেশি জরিমানা দিতে হচ্ছে।

২০১৮ সালের সড়ক নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অপরাধের মামলায় জরিমানার পরিমাণ বেড়েছে। সড়কে কোনও ধরনের অনিয়ম ঘটালেই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা বড়-ছোট যে কোনও যানবাহনের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করছেন। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের (দক্ষিণ) যুগ্ম-কমিশনার মেহেদী হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। জরিমানা করার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন আইনে দ্বিতীয়বার জরিমানায় পড়লে তাকে দ্বিগুণ জরিমানা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ট্রাফিক বিভাগে ৪৭ লাখ ৫৩ হাজারটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় জরিমানা করা হয় ৩৮৬ কোটি ৫৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪০৯ টাকা। দায়ের করা মামলার মধ্যে ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৪টি মামলা নিষ্পত্তির পর জরিমানা আদায় হয় ৩৪৬ কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৮৫৫ টাকা।

গত ছয় বছরে বিভিন্ন গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হলেও ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৩৮টি মামলা এখনও চলমান। ৪০ কোটি ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫৪ কোটি জরিমানার টাকা এখনও পরিশোধ করেননি যানবাহন সংশ্লিষ্টরা। যেসব গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সেসব গাড়ির তথ্য প্রতিটি ট্রাফিক বিভাগে রয়েছে। বিভিন্ন সময় সেসব গাড়িকে চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলছে ট্রাফিক বিভাগ।

এ বিষয়ে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যেসব যানবাহনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ট্রাফিক বিভাগ থেকে মামলা দায়ের করা হয় সেসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত একটি তারিখ থাকে। নির্ধারিত তারিখ পার হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে ওয়ারেন্ট জারি হয়। পরবর্তী সময়ে সেসব মামলার বিষয়ে আদালত যে ধরনের নির্দেশনা দেন সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

/জেইউ/এমএস/ইউএস/
সম্পর্কিত
রাজধানীর দুই থানায় নতুন ওসি
বেনজীরের প্রত্যর্পণের নথিতে কী খুঁজছে দুবাই
শব্দদূষণ রোধে রাজধানীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযান
সর্বশেষ খবর
প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার না মানলে সরকার ও সংসদ অবৈধ: জামায়াত সেক্রেটারি
প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার না মানলে সরকার ও সংসদ অবৈধ: জামায়াত সেক্রেটারি
ভুলে চার মাস কারাভোগ, ৩০ লাখ টাকা পেলেন ভুক্তভোগী
ভুলে চার মাস কারাভোগ, ৩০ লাখ টাকা পেলেন ভুক্তভোগী
বন্যা-পরবর্তী নয়, বন্যার আগেই প্রস্তুতি: মিরপুরে ‘প্রজেক্ট প্রত্যাশা’র কার্যক্রম
বন্যা-পরবর্তী নয়, বন্যার আগেই প্রস্তুতি: মিরপুরে ‘প্রজেক্ট প্রত্যাশা’র কার্যক্রম
‘আমি শের, তোরে মেরেই ফেলবো’ বলে শিক্ষার্থীকে ‘পেটালেন’ ছাত্রদল নেতা
‘আমি শের, তোরে মেরেই ফেলবো’ বলে শিক্ষার্থীকে ‘পেটালেন’ ছাত্রদল নেতা
সর্বাধিক পঠিত
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
হত্যাকাণ্ডের শিকার সেই শিক্ষিকার চার সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবার
মুক্তি পেয়েই যে বার্তা দিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
মুক্তি পেয়েই যে বার্তা দিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক
‘সময় নষ্ট করবেন না’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে আবেদন নাকচ সুপ্রিম কোর্টের
‘সময় নষ্ট করবেন না’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে আবেদন নাকচ সুপ্রিম কোর্টের