ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতেই ডুবে যায় রাজধানী, সমাধান নেই?

জুবায়ের আহমেদ
১২ জুলাই ২০২৪, ১৩:৩৭আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৪, ১৬:১৮

গানে সুরে বলা হয় ‘জাদুর শহর ঢাকা’। তবে টানা বৃষ্টি হলে সেই সুর বদলে হয়ে যায় ‘জলাবদ্ধতার শহর ঢাকা’। রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বললেও ভারী বা টানা বর্ষণে এই শহর ডুবে যায় চোখের পলকে। বৃষ্টি শেষ হলেও দীর্ঘ সময় সড়ক থেকে সরে না পানি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।

ঢাকাবাসীর অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে তেমন কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেই নগরের মেয়রদের। অন্যদিকে নগর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, জনগণের অসচেতনতায় এই দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল ৬টা থেকেই প্রায় ১০টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদফতরের সূত্রে বলা হয়, এদিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টায় পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৬০ মিলিমিটার। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৃষ্টি নিয়ে অগ্রিম বার্তা দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদফতর।

বৃষ্টির অগ্রিম বার্তা পাওয়ার পরও সড়কের পানি সরাতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজধানীবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিদ্রূপও করছেন অনেকেই। সড়কে চলাচলকারী পথচারীরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা দিতে বের হওয়া চাকরিপ্রত্যাশীরা। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পানি জমে খালে পরিণত হওয়া সড়কগুলো দিয়ে রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলারও অবস্থা ছিল না। এতে অনেকে নানা ভোগান্তি নিয়ে যেমন পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছান, অনেকে আবার নিয়োগ পরীক্ষা অংশগ্রহণের জন্য যেতেই পারেননি।

এ ছাড়া ঢাকায় বৃষ্টির কারণে সকালের দোকানপাট খুলতে দেরি হয়েছে। তার ওপর সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে কার্যক্রম পরিচালনা করতেও অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। অনেকের দোকানের সামনের রাস্তায় পানি জমে থাকায় ক্রেতারাও ফিরে অন্য দোকানে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ কারও কারও।

ছবি: নাসিরুল ইসলাম

মিরপুর ২-এর বাসিন্দা তৌহিদা সুমি সকাল ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়েও মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি জলাবদ্ধতার কারণে।

সুমি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলাম কিন্তু বাসার সামনেই পানি থইথই করছিল। কোন রিকশাও পাওয়া যাচ্ছিল না। পানি মাড়িয়ে কিছু দূর যাওয়ার পরও কোনও গাড়ি পাচ্ছিলাম না। পরে দেরি হয়ে যায় দেখে বাসায় ফিরে আসছি।

মিরপুর ১১-এর মার্কেটের দোকানিরা সকালে দোকান খুলে রাখলেও কোনও ক্রেতা পাননি বলে জানান।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

মুন্না স্টোরের মালিক মো. মুন্না বলেন, দোকান খুলতে দেরি হয়েছে। শুক্রবার সবার ছুটি থাকে। এদিন সবাই বাজার-সদাইয়ের জন্য আসেন। কিন্তু আজ কোনও কাস্টমারের দেখা নাই। দেখেন না বাজারের ভেতর দিয়ে ঝরনার মতো পানি বয়ে যাচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টিতে রিকশা নিয়ে বের হয়েও সুবিধা করতে পারেননি বলে জানান রুহুল আমিন নামে একজন চালক। তিনি বলেন, সকাল থেকে তিনটা ট্রিপ দিতে পেরেছি। বেশির ভাগ সময় বসেই ছিলাম। মিরপুর ঝুটপট্টি দিয়ে তো পানির কারণে যাওয়ায় যায় না। রিকশা ডুবে যায় এমন অবস্থা।

শহরে জলাবদ্ধতার বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে জানানো হয়, বৃষ্টি শেষে যেন দ্রুত পানি সরে যায়, তার জন্য আওতাধীন ১০টি অঞ্চলের জন্য আলাদা করে ১০ থেকে ১২ জনের টিম তৈরি করে দেওয়া হয়। যারা বৃষ্টির মাঝেও যেখানে যেখানে ময়লা জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, সেখান থেকে ময়লা সরিয়ে পানি যাওয়ার ব্যবস্থা করে।

ছবি: নাছির আহমেদ

এ বিষয়ে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছেন, আগের মতো এখন আর দিনব্যাপী জলাবদ্ধতা থাকে না। যেহেতু খালগুলো আমরা ভরাট করে ফেলছি, দখল করছি, এ ছাড়া যেখানে-সেখানে পলিথিন, বোতল, আবর্জনা ফেলছি, যেগুলো গিয়ে ড্রেনে পড়ছে, সেগুলো পানি নামা বাধাগ্রস্ত করছে। পানির প্রবাহ নষ্ট হয়ে যেতে না পেরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সেই পানি নেমে যেতে সময় লাগছে, সেই সময় তো দিতে হবে।

তিনি আরও বলেছেন, খাল উদ্ধারে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ড্রেন নির্মাণ করে তারপর রাস্তা নির্মাণ হবে। আগে কখনও পরিকল্পিতভাবে ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ হয়নি।

এদিকে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের নির্দেশে প্রকৌশল বিভাগ, বর্জ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ভোর থেকে কাজ করছে। জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয় নগর ভবন থেকে।

ছবি: নাছির আহমেদ

ডিএনসিসির প্রত্যাশা, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা বাড়লে জলাবদ্ধতা আর থাকবে না। জলাবদ্ধতার জন্য জরুরি সেবা লাইনে ফোন দেওয়ারও অনুরোধ জানায় দুই সিটি। রাজধানীর কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জরুরি সেবার হটলাইনে ফোন দিয়ে জানানো যাবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জরুরি সেবা নম্বরটি হলো ১৬১০৬। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জরুরি সেবা নম্বর ০১৭০৯৯০০৮৮৮।

আরও পড়ুন

ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, বিপাকে কর্মজীবী মানুষ

যানবাহন বিকল হয়ে সড়কে যানজট, যা বললো ডিএমপি

তিন ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি, পানির নিচে অনেক সড়ক

ঢাকায় মুষলধারে বৃষ্টি, সড়ক-অলিগলি ডুবে ভোগান্তি

/এনএআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
দিয়াবাড়ি অস্থায়ী পশুর হাটে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ডিএনসিসির কমিটি গঠন
খসে পড়ছে পলেস্তারা, তার ভেতরে নাগরিক সেবা
‘নিবন্ধন-লাইসেন্সের আওতায় আসবে রাজধানীর রিকশা-অটোরিকশা’
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম