রাজধানীর ভাটারার একটি ওয়ার্কশপ থেকে নম্বর প্লেটবিহীন একটি নিশান জিটিআর স্পোর্টস কার জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।
গত ৮ ডিসেম্বর কারটি জব্দ করা হলেও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
শুল্ক ও গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতর সূত্র জানায়, গোপন সংবাদ আসে, সেদান কার এর একটি চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর ব্যবহার করে একটি স্পোর্টস কার সংযোজন করা হচ্ছে। এ খবর পাওয়ার পর অধিদফতরের একটি নিবারক দল বারিধারার কন্টিনেন্টাল ওয়ার্কস লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে নিশান জিটিআর (স্পোর্টস কার) নামীয় গাড়িটি নম্বর প্লেটবিহীন অবস্থায় আটক করে। যার প্রদর্শিত চেসিস নম্বর- JNICCUA33Z0-170480.
সূত্র জানায়, পরবর্তীতে মারজান অটো নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাস্টমস গোয়েন্দার নিবারক দলের কাছে কিছু দলিল উপস্থাপন করেন। তাতে দেখা যায়, কৌশিক আহমেদ নামের এক ব্যক্তি নিলামের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে উক্ত গাড়িটি চীনা অ্যাম্বাসি থেকে ৬০ হাজার টাকায় কিনেন। মারজান অটো কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে জানান, তারা কৌশিক আহমেদের কাছ থেকে গাড়িটি কিনেছেন। নিবারক দলের আটক করা গাড়িটি দুই দরজা বিশিষ্ট নিশান স্পোর্টস কার। দূতাবাস হতে নিলামে কেনা ক্যাফরিও এর চেসিস নম্বর: JNICCUA33Z0-170480 অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রতিটি গাড়ির চেসিস নম্বর স্বতন্ত্র হয়ে থাকে। এছাড়া0 দাখিলকৃত দলিলে কিছু অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। গাড়িটি আমদানির সময় ২০০২ সাল হলেও (বিল অব এন্ট্রি সি-০৫৩৮৩, তারিখ-০১.০৮.২০২২ খ্রিঃ) এর উৎপাদন সাল ২০০৮ উল্লেখ রয়েছে, যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া, একই গাড়িটিকে আবার ফ্রান্স দূতাবাসের বিপরীতে ট্যাক্স এক্সেমশন সনদ দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে, এমন একটি চিঠির কপি মারজান অটো দাখিল করেছে। অর্থাৎ মারজান অটোর দাখিলকৃত তথ্যগুলো সাংঘর্ষিক এবং অনিয়মের বিষয়টি এতে স্পষ্ট।
সূত্র আরও জানায়, মারজান অটোর পক্ষে থেকে বিআরটিএ এর কাছে রেজিস্ট্রেশনের আবেদনপত্রে গাড়িটির ব্র্যান্ড নিশান সেফিরো দিয়ে আবেদন করলেও বিআরটিএ হতে গাড়িটিকে কীভাবে স্পোর্টস কার হিসাবে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে তা বোধগম্য নয়। এসব ঘটনায় প্রাথমিকভাবে এটা নিশ্চিত যে, চীনা দূতাবাসের কাছ থেকে নিশান ক্যাফরিও গাড়িটি নিলামে ক্রয় করলেও পরবর্তীতে মিথ্যা ঘোষণায়/শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্পোর্টস কার গাড়িটি এনে/সংযোজন করে তাতে অবৈধভাবে ক্যাফরিও গাড়ির চেসিস নম্বর ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে এবং এতে নিশ্চিতভাবে শুল্ক কর ফাঁকি হয়েছে।
এ বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়।