গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে গুম-খুনের ‘আয়নাঘর’কে সমর্থন করা বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটকে ইগনোর (উপেক্ষা) করা হলে গোটা দেশের আবারও জেগে উঠবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আজ সংবিধানের লাইন ধরে ধরে যদি আমাদের চলতে হতো, তাহলে আমাদের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির মঞ্চে যেতে হতো না। সংবিধান যদি আমাদের রক্ষা করতে পারতো, তবে ৭২-এর সংবিধানের আলোকে আজ আমাদের এখানে থাকার কথা ছিল না। আমি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, আমার এখন জেলখানায় থাকার কথা ছিল।”
তিনি বলেন, “সংবিধান মানতে হলে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে থাকার কথা, উনার দেশের বাইরে থাকার কথা না। জুলাই বিপ্লবের পর যে গণভোটের দাবি উঠেছে, তাকে উপেক্ষা করার কোনও সুযোগ নেই। আপনারা ৫১ শতাংশের দোহাই দিলেও প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। এই ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছাকে অবজ্ঞা করলে জাতি আবারও জেগে উঠবে।
নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে এই এমপি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ৩৫০টি মামলা দেওয়া হয়েছিল। সাড়ে চার বছর আমি জেল খেটেছি। তিনবার রিঅ্যারেস্ট করা হয়েছে এবং দু’বার গুম করা হয়েছিল। ডিজিএফআই থেকে আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, মন্ত্রিত্ব ও দেশ পরিচালনার ভাগ নেওয়ার জন্য। শর্ত ছিল, শেখ হাসিনার নীতি ও ৭২-এর সংবিধান মেনে নিতে হবে। কিন্তু আমরা আপস করিনি।”
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্ট বলেছিলেন, সুযোগ পেলে আমরা এই (৭২-এর) সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেব। অথচ, আজ বর্তমান সরকারি দলের মধ্যে সেই সংবিধানের প্রতি কেন এত প্রেম জাগ্রত হয়েছে, তা দেশের মানুষ জানতে চায়।”
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “জুলাই সনদকে যদি আজ ইগনোর করা হয়, তবে আমাদের আবার সেই গুম-খুনের আয়নাঘরের দিকে ধাবিত করা হবে। গণভোটের বিরোধিতা করা মানে হচ্ছে ৭০ শতাংশ মানুষকে ধিক্কার জানানো। গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে আয়নাঘরকে সমর্থন করা। আমরা যদি এই গণভোট কার্যকর না করি, তবে ১৭ বছরের সেই জেল-জুলুমের জায়গায় আমাদের ফিরে যেতে হবে। যদি জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়, তবে গোটা বাংলাদেশ আবার জেগে উঠে গণভোটের রায়কে কার্যকর করবে।”








