কোরবানির হাটে ছাগলে ‘পাগলপ্রায়’ ব্যবসায়ীরা

এস এম আববাস
২৭ মে ২০২৬, ১৯:৩৯আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ১৯:৩৯

কোরবানির ঈদের সময় কম বিনিয়োগে বেশি লাভের আশায় ছাগল ব্যবসায়ীদের এবার মন খারাপ। সামান্য লাভ করেই ঘরে ফিরছেন অনেকেই, আবার লোকসানের আশঙ্কায়ও আছেন অনেকে। শরিয়তপুরের ষাটোর্ধ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝি বললেন, “ছাগল বেচতে এসে এবার আমিই ছাগল হয়ে গেছি। গত বছর ৪০টা ছাগল এনে ৭০ হাজার টাকা লাভ করেছিলাম। এবার লোকসান ঠেকাতে পাগল হয়ে যাচ্ছি।”

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং এলাকার প্রধান সড়কে ছাগল নিয়ে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকা আনোয়ার হোসেন মাঝি এ কথা বলেন বাংলা ট্রিবিউনকে। দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মো. আনিছুর রহমান জানান, কোনোটা দুই হাজার টাকা লাভ হয়েছে, কোনোটা আবার কেনা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে—ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুধু আনোয়ার মাঝি ও আনিছুর রহমানই নন, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিমনা গ্রামের মুক্তারুল, একই উপজেলার ধারঘরা গ্রামের আজিজুর, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ধানঘরা গ্রামের একরামুল হকসহ বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর মুখে প্রায় একই কথা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিংসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় ছাগলের হাট বসেছে। মোহাম্মদী হাউজিংয়ের ভেতরে ছোট আকারে গরুর হাটও রয়েছে। এবার এখানকার বেশিরভাগ গরু বিক্রি হয়ে গেছে। তবে বুধবার বিকাল পর্যন্ত ছাগলের বাজার ছিল জমজমাট।

কোরবানির হাটে ছাগলে ‘পাগলপ্রায়’ ব্যবসায়ীরা

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ধানঘরা গ্রামের একরামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গতবছর যে খাসি বিক্রি করেছি ২৪–২৫ হাজার টাকায়, এবার একই মানের খাসির দাম বলছে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকা। ঘরভাড়া ও অন্যান্য খরচ আছে।”

তিনি আরও জানান, গত বছর ঈদের এই সময়ে ২১টি খাসি এনে বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৭৪ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। এবার লাভ সীমিত, এমনকি লোকসানও হতে পারে। লোকসান ঠেকাতে অপেক্ষা করছেন। আজ বৃষ্টি নেই, দিন ভালো হলেও চাহিদা না থাকলে লোকসান ঠেকানো কঠিন হবে।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মো. আনিছুর রহমান জানান, এবার বাজার ভালো না। গত বছর ১৬টি বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। এবার ১১টি ছাগলে এ পর্যন্ত দুইটি ছাগল কেনা দামে বিক্রি করেছেন।

লাভের আশা ছেড়ে দিয়েছেন জানিয়ে রংপুরের পীরগাছা এলাকার মো. শাহেদ বলেন, “আসল তুলতে পারলেই বাঁচি।” দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিমনা গ্রামের মুক্তারুল ও একই উপজেলার ধারঘরা গ্রামের আজিজুরেরও একই ভাষ্য।

কোরবানির হাটে ছাগলে ‘পাগলপ্রায়’ ব্যবসায়ীরা

শরিয়তপুর থেকে আসা আনোয়ার হোসেন মাঝি জানান, ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি এই ব্যবসা করছেন। প্রতি বছর ঢাকায় ছাগল নিয়ে আসেন। গতবছর ৪০টি ছাগল এনে ৭০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। এবারও ৪০টি ছাগল এনেছেন। এবার লোকসান ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বড় ছাগলগুলো বিক্রি করে খরচ উঠেছে, কিন্তু ছোটগুলোতে খরচ উঠবে না। ভালো দাম না পেলে লোকসান হবে।

/এম/ 
সম্পর্কিত
২৩ দিন পর খুলেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকলেও আটকে আছে মাংস রফতানি
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
বরগুনা জেলা কল্যাণ ফোরামের নতুন কমিটি
বরগুনা জেলা কল্যাণ ফোরামের নতুন কমিটি
পল্লবীতে বিহারী ক্যাম্পে বিএনপি-জামায়াতপন্থিদের সংঘর্ষ
পল্লবীতে বিহারী ক্যাম্পে বিএনপি-জামায়াতপন্থিদের সংঘর্ষ
শাড়িকাণ্ড: পিবিআইর তদন্তে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি 
শাড়িকাণ্ড: পিবিআইর তদন্তে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি 
রবিবার সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে ১১ দলীয় ঐক্য
রবিবার সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করবে ১১ দলীয় ঐক্য
সর্বাধিক পঠিত
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী
সারা দেশে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর 
সারা দেশে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর 
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন আইরিন খান
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন আইরিন খান
‘এরা আমাকে মেরে ফেলবে’; মৃত্যুর আগে তরুণীর আকুতি, সন্তানসহ মৃত্যু
‘এরা আমাকে মেরে ফেলবে’; মৃত্যুর আগে তরুণীর আকুতি, সন্তানসহ মৃত্যু
খেলনা বন্দুক হাতে ভিডিও বানানো সেই দুই তরুণ আটক
খেলনা বন্দুক হাতে ভিডিও বানানো সেই দুই তরুণ আটক