এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্রের মান ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর অবমাননাকর মন্তব্যের (ফার্মের মুরগি) প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, মিছিল করছেন পরীক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। দিনভর রাজধানীতে অবরোধের ফলে পুরো ঢাকা শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তবে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু। রাতে সংসদে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে নিজের মন্তব্যের দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর উত্তরা, সায়েন্স ল্যাব, মিরপুরের ইসিবি চত্বরসহ কয়েকটি এলাকায় তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ আট দফা দাবি জানান।
শিক্ষামন্ত্রীর কটূক্তির জেরে দিনভর আন্দোলন
মঙ্গলবার সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। সেখানে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ করেন। একই সময়ে সায়েন্স ল্যাব মোড়েও শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এছাড়া শাহবাগ ও মিরপুরসহ রাজধানীর আরও কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা। এর আগে শিক্ষামন্ত্রীর একটি কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে তাকে শিক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করতে শোনা যায়।
দিনভর আন্দোলনকারীদের মুখে ‘এক দফা এক দাবি, মিলনের পদত্যাগ’, ‘শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না’, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়। এ সময় তারা ‘আমি কে, তুমি কে—ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’ স্লোগানও দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন মন্তব্যও করা হয়েছে।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা জানান, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী পানি ও কাদা পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছেছেন। এতে পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরায় আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থী বলেন, একজন শিক্ষামন্ত্রী হয়ে উনি এমন করে কীভাবে বলতে পারেন। আমরা এক দফা এক দাবি দিয়ে স্বৈরাচারকে দেশছাড়া করেছিলাম। শিক্ষামন্ত্রীকে দেশছাড়া করতে কিন্তু সময় লাগবে না।
ঢাকার দুই পয়েন্ট অবরোধ, ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ উত্তরা
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে শুরু হওয়া উত্তরার অবরোধ ছিল দিনজুড়েই। শিক্ষার্থীরা রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক অবরোধ করে রাখে। বারবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও তারা অবরোধ চালিয়েই যান। তারা সেখানে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক এবং বিমানবন্দর সড়কে তীব্র জ্যাম সৃষ্টি হয়। দিনভর অবরোধের পর সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর পুলিশ শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।
এই প্রসঙ্গে উত্তরায় দায়িত্বরত সার্জেন্ট আশিকুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ৭টার কিছু পর শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি ও অসন্তোষ
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি জানানো হলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, যতদিন জলাবদ্ধতা, বন্যা পরিস্থিতি ও প্রতিকূল আবহাওয়া থাকবে, ততদিন পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল।
এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্নের মান নিয়েও আপত্তি জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল, যার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নম্বর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় বারবার পরিবর্তন ও ‘গবেষণা’ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ তৈরি করছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের সারা বছরের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনও ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব রাখা যাবে না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আট দফা দাবির মধ্যে প্রধান তিন দাবিগুলো হলো—পরীক্ষা গ্রহণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নম্বর প্রদান, শিক্ষামন্ত্রীকে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করা। তারা আরও দাবি করেন, দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নে যথাযথ পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি
সায়েন্সল্যাবে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষাবোর্ডের দিকে অগ্রসর হয়। এরপর তারা সেখানে গিয়ে শিক্ষাবোর্ড ঘেরাও করেন। এ সময় তারা মেইন গেট ভেঙে ভেতরের প্রবেশেরও চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে তারা সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান নেয়ার পর পুনরায় সায়েন্স ল্যাব এলাকায় চলে আসেন।
সায়েন্স ল্যাব থেকে সংসদ ভবন, বিকালে পুলিশের লাঠিচার্জ
সায়েন্স ল্যাব থেকে বিকালের দিকে সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল ৫টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পদত্যাগ করতে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। সায়েন্স ল্যাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন।
তিনি বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার অসংগতিপূর্ণ কথাবার্তার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। সোমবার (১৩ জুলাই) অস্বস্তিকর পরিবেশে যারা পরীক্ষা দিয়েছে এবং যারা পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাদের কথা বিবেচনা করে ওই পরীক্ষাটি পুনরায় নিতে হবে। একইসঙ্গে আগামীকালের (বুধবার) পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করতে হবে। প্রশ্নপত্রের মানদণ্ডও অবশ্যই শিক্ষার্থীবান্ধব হতে হবে।
এরপর তারা সংসদ ভবনের সামনে চলে যান। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা সেই বাধা উপেক্ষা করে সংসদ ভবনের মূল ফটকে চলে যান। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তৈরি হয় উত্তেজনা। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ শুরু করে। পরে তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ‘‘যেহেতু সংসদ চলছে। এ সময় এখানে কোনও ধরনের মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ। তারপরও শিক্ষার্থীরা এখানে এসেছে। আমরা ধৈর্য দেখিয়েছি। এরপর আমাদের পুলিশের ওপর তারা ইটপাটকেল ছুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করতে চেয়েছিল, আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।’’
আন্দোলনে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট
সড়ক অবরোধে মঙ্গলবার দিনভর কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। সন্ধ্যায় উত্তরা, ইসিবি চত্বর ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এর প্রভাব দেখা গেছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কও বন্ধ রয়েছে।’’
এদিকে গুলশান ট্রাফিক বিভাগ জানায়, উত্তরা বিএনএস টাওয়ারের সামনে এবং ইসিবি চত্বরের উভয় পাশে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এয়ারপোর্টমুখী অংশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। যানবাহনের দীর্ঘ সারি কুড়িল ফ্লাইওভার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
ট্রাফিক সার্জেন্ট আশিকুর রহমান বলেন, ‘‘অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিকেল ৫টার পর সীমিত আকারে যান চলাচল শুরু হলেও যানজট পুরোপুরি কাটেনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় নগরবাসীকে সম্ভব হলে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। একইসঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।’’
পড়ার টেবিলে ফেরার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
দিনভর আন্দোলনের পর বিকালে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা আবারও পর্যালোচনা করছি— যদি কোথাও আমাদের প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পর যদি পরীক্ষা না দিতে পেরে থাকে—এই জরিপটা আমাদের কাছে আসার পরে সেভাবে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষাও নিতে পারি। আমরা চিটাগাং বোর্ডে এই ব্যবস্থাটি করেছি এবং সেই অবস্থান আমাদের রয়েছে। সেজন্য আবারও অনুরোধ করবো, শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, তাদের চেয়ে আমরাই উদ্বিগ্ন। তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন যে কীভাবে—তাদের আমরা পরীক্ষা সঠিকভাবে নেবো। এই দুর্যোগ মোকাবিলা করবো।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি আবারও আশ্বাস দিচ্ছি, যেসব পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ধরনের ভুল-ত্রুটি হয়েছে, সেখানে রি-এক্সামিন নেওয়ার প্রভিশনও আমাদের রয়েছে। এরা আমাদের ভবিষ্যৎ। এদের আমরা কোনও অবস্থায় ডিপ্রাইভ করতে পারি না, করবো না। সেটাই আমি মহান সংসদের মাধ্যমে জাতিকে জানাতে চাচ্ছি।’’
রাতে দুঃখ প্রকাশ
বিকালে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বানের পর সংসদ অধিবেশন বিরতিতে যায়। এরপর পুনরায় অধিবেশন শুরু হলে রাত সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী সংসদেই দুঃখ প্রকাশ করেন তার মন্তব্যের জন্য।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও কেউ যদি আহত হয়ে থাকেন, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’’
বর্ষা মৌসুমের জটিলতা নিয়ে আলোচনা করার পরামর্শ
শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমাদের প্রতিবছরই জুলাই-আগস্ট মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হয়। পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে তো আর এটা ফ্লেক্সিবল হতে পারে না। সেই জায়গায় যে বিষয়টা হচ্ছে—এল নিনো বলে একটা বিষয় আছে, আবার ‘লা নিনা’ আছে। যেটা প্রশান্ত মহাসাগরের স্রোত ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর ফলে কখনও খরা বেশি হয়—কখনও বন্যা বৃষ্টিপাত বেশি হয়, লা নিনার প্রভাবে বৃষ্টিপাত বেশি হয়, এবার লালিনার বছর। আমাদের যারা আবহাওয়া নিয়ে কাজ করেন তারা জানেন যে এ বছর আমাদের বৃষ্টি-ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এগুলো অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে। সেই জায়গায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে যদি আমাদের এই পাবলিক পরীক্ষার রুটিনগুলোকে একটু রি-অ্যাডজাস্ট করা হয়—তাহলে পরীক্ষার্থীদের জন্য ভালো হয়। পরীক্ষার্থীরা যখন একটা রুটিন পায়, তাদের একটা মানসিক প্রস্তুতি থাকে, পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের এবং স্কুলের শিক্ষকদেরও প্রস্তুতি থাকে।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যালয়ের সেই প্রস্তুতির জায়গায় ওপরের ম্যানেজমেন্ট আছে, কিন্তু এক্সিকিউশন লেভেলে তো তারা আছে—তাদের ওই জায়গাটাকে ফ্যাসিলিটেট করার জন্য আবহাওয়া অধিদফতরের সাথে আমাদের মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগটা আরও দৃঢ় হওয়া দরকার বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।’’









