বাংলাদেশে বর্তমানে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দেড় কোটিরও বেশি মানুষ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়ে এ সংখ্যা এক কোটি ৮০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় বাংলাদেশের সর্বশেষ ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) অ্যাকিউট ফুড ইনসিকিউরিটি অ্যানালাইসিস-এর ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের (এফপিএমইউ) নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মশালায় অংশ নেয় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), সেভ দ্য চিলড্রেন, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) এবং অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর অঞ্চল, নির্বাচিত উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও জনগণের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আইপিসির ফলাফল ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।’
তিনি বলেন, কার্যকর নীতি প্রণয়নে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, আইপিসির এই প্রতিবেদন নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী ও মানবিক সংস্থাগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠান একা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিকূল জলবায়ু, বন্যা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
কর্মশালায় জীবনরক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধি, সংকটকালে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি বলেন, ‘বিশেষ করে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এখন জরুরি। জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, টেকসই জীবিকা এবং স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।’
ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, আইপিসি বিশ্লেষণ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আগে থেকেই শনাক্ত করতে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে সংকটের আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।
কর্মশালার শেষে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন অংশীদাররা তাৎক্ষণিক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলা, ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।








