ঢাকার পার্কগুলোতে জনদুর্ভোগ

Send
ফজলুর রহমান রাজু
প্রকাশিত : ১৭:২১, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৯, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭

নয়াটোলা পার্কের একাংশজুড়ে বর্জ্যের ডাম্পিং স্টেশন (ছবি- মেহেদী হাসান)নয়াটোলা থেকে মগবাজারের দিকে যেতে রাস্তা পারাপারের সময় দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক চেপে ধরতে হয়। যারা ওই রাস্তায় নিয়মিত চলাচল করেন তাদের এই দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয়। সমস্যাটি মূলত গত বছর থেকেই শুরু। যখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নয়াটোলা পার্কের এক তৃতীয়াংশ জায়গা অধিগ্রহণ করে এবং সেখানে বর্জ্যের ডাম্পিং স্টেশন তৈরি করে। এমনকি ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ পার্কের বাইরেও বর্জ্য পরিবহনে ব্যবহার করা ট্রাকগুলো ফেলে রাখে। ফলে ওই পার্কটি এখন বর্জ্য স্টেশন ছাড়া আর কিছুই নয়।

নয়াটোলা পার্কের পাশে বসবাসকারী মুনির হোসেন বলেন,‘আজকাল আমরা বা আমাদের সন্তানরা আর পার্কে যাই না। কারণ, সেখানে বর্জ্যের ডাস্টবিনগুলো রাখায় প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি আছেন, যারা পার্কে নির্মাণ সামগ্রী সংরক্ষণের স্থান হিসেবে ব্যবহার করেন। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষও কোনও ব্যবস্থা নেয় না।

জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে ২২টি পার্ক আছে। এর বেশিরভাগেরই বেহাল দশা। বছরের পর বছর ধরে অব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে পার্কগুলোর এ অবস্থা হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকার কয়েকটি পার্কে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ পার্কই আবর্জনায় ভরা অথবা অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। ফলে পার্কের মধ্য দিয়ে চলাচলে পথচারীরা অনিরাপদ বোধ করেন। মূলত ধারাবাহিক অব্যবস্থাপনার কারণে নগরবাসী এখন আর পার্কে যেতে আহগ্রী হন না। যদিও তারা আগে নিয়মিত পার্কে যেতেন।

নয়াটোলার বাসিন্দা আরিফুর রহমান আরিফ (১৩) নামের এক শিশু জানায়, তারা আগে পার্কের মধ্যে ছোট পরিসরে ক্রিকেট (মিনি ক্রিকেট) খেলতো। কিন্তু এখন সেখানে খেলার মতো কোনও জায়গাই নেই।

সে আরও জানায়, আগে অনেক লোক এই পার্কের মধ্যে জগিং (ব্যায়াম) করতে পছন্দ করতো। কিন্তু এখন প্রায় কেউই পার্কে আসেন না।

মালিবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, বাড্ডা এবং গুলিস্তানের উদ্বিগ্ন কয়েকজন অভিভাবক জানিয়েছেন, তারা নিজেরাও পাশের কোনও পার্কে যান না। এমনকি তাদের সন্তানদেরও পার্কে যেতে নিষেধ করেছেন।

এ সময় তারা পার্কগুলো পুনরুদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বেইলি রোড, রমনা, শান্তিনগর এবং এর আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা এখনও সকালে ও বিকালে রাজধানীর রমনা পার্কে যান। কিন্তু এই পার্কে যেতেও অনেকেই অস্বস্তি বোধ করেন। পার্কগুলোতে পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা না থাকার সমস্যা তো আছেই, ছিনতাইয়ের ভয়সহ নানা কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পার্কে যেতে উৎসাহ পান না সাধারণ মানুষ।

পরীবাগের বাসিন্দা আফরিন জানান, তিনি কারও সঙ্গে রমনা পার্কে যেতে অস্বস্তি বোধ করেন।

গুলস্তান পার্ক (ছবি- মেহেদী হাসান)মালিবাগের বাসিন্দা মরিয়ম আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে বাসার বাইরে খেলতে যেতে পছন্দ করে। কিন্তু আমি তাকে রমনা পার্কে যেতে দিতে চাই না।’

গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্কটি এলাকার প্রভাবশালীরা নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ আছে। পার্কটি ভ্রাম্যমাণ পণ্য বিক্রেতা ও ফল বিক্রেতাদের দখলে থাকে। প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদাও আদায়ের অভিযোগও আছে।

এছাড়াও পার্কের ভেতরে জাতীয় শ্রমিক লীগের একটি অস্থায়ী কার্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে, যা মাদক কারবারীদের জন্য একটি প্রিয় জায়গায় পরিণত হয়েছে।  এমনকি অন্ধকারে সেখানে কোনও নিরাপত্তাকর্মীর দেখাও মেলে না।

গুলিস্তানের দোকানদার আলী হোসেন বলেন, ‘নিরাপত্তা শঙ্কায় সন্ধ্যার পর কেউই পার্কের মধ্যে দিয়ে চলাচল করেন না। পথচারীরা এ সময়ে পার্কের মধ্যের রাস্তাটি এড়িয়ে চলেন।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল খালেক বলেন, ‘অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে যৌনকর্মীরা বেরিয়ে আসে। এ সময় পার্কের মধ্য দিয়ে যারাই চলাচল করে যৌনকর্মীরা তাদের সঙ্গী হতে চায়। ফলে মানুষ অস্বস্তি রোধ করেন।’

বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, হাতিরঝিল প্রকল্প সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ। যেখানে নগরবাসী প্রশান্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেন। কিন্তু সেখানে অপরিকল্পিতভাবে রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে, যা সেখানের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। কিন্তু এক হাতিরঝিল অন্য পার্কগুলোর চাহিদা পূরণ করতে পারবে না।

সৌজন্যে: ঢাকা ট্রিবিউন

আরও পড়ুন: 

পুরান ঢাকায় নেই খেলার মাঠ

/এসএনএইচ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ