যেসব কারণে প্রবাসী কর্মীরা পাবেন না বিমার টাকা

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ১১:২০, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৬, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

প্রবাসী কর্মীপ্রবাসী কর্মীদের জন্য চালু হচ্ছে বিমা সুবিধা। ১৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে বিমা পলিসি হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকালে প্রবাসীদের বিমা সুবিধা চালুর লক্ষ্যে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সঙ্গে জীবন বীমা করপোরেশনের এক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বিদেশগামী সব কর্মীর ক্ষেত্রে বিমা বাধ্যতামূলক হলেও এর সুবিধা (বিমার অর্থ ফেরত) পাবেন না সাত ক্যাটাগরির কর্মী। স্বাভাবিক মৃত্যু ও দুর্ঘটনাজনিত কারণে অঙ্গহানির ক্ষেত্রেও বিমার টাকা ফেরত পাবেন তারা।

প্রবাসী কর্মী বিমা নীতিমালা থেকে জানা যায়, প্রবাসীদের জন্য বিমা পলিসির দুটি প্ল্যান রয়েছে। একটি ২ লাখ টাকার অপরটি ৫ লাখ টাকার। ২ লাখ টাকার ইনস্যুরেন্স প্ল্যান অনুযায়ী প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৯০ টাকা এবং ৫ লাখ টাকার প্ল্যানের প্রিমিয়াম ২ হাজার ৪৭৫ টাকা। দুটি প্ল্যানের ক্ষেত্রেই ৫০০ টাকা করে প্রিমিয়াম দেবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, বাকি টাকা বিদেশগামী কর্মীকে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে দিতে হবে। ১৮-৫৮ বছর বয়সী প্রবাসী কর্মীরা ২ বছরের জন্য এই পলিসি নিতে পারবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রবাসী কর্মীরা বিমার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন। এক্ষেত্রে কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে পরবর্তী ২ বছর অন্তর অন্তর বিমাপত্রটি নবায়ন করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগে নবায়ন করা হলে বিমাগ্রাহককে প্রিমিয়ামের ওপর ২ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। বিমার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ৩০ দিন পর বিমাপত্রটি নবায়ন করা হলে, বিমা গ্রাহককে অবিরাম ভালো স্বাস্থ্যের ঘোষণা দিতে হবে।

তবে সাত ক্যাটাগরির প্রবাসী কর্মী বিমা সুবিধা পাবেন না। কোন কর্মী বিমার ঝুঁকি গ্রহণের ১২ মাসের মধ্যে আত্মহত্যা অথবা নিজের ক্ষতি করলে; এইডস কিংবা এইচআইভি সর্ম্পকিত রোগে মারা গেলে অথবা অসুস্থ হলে; উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন খেলা অথবা দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড যেমন- মোটররেসিং, মুষ্টিযুদ্ধ, স্কুবা ডাইভিং, হ্যান্ড গ্লাইডিং, প্যারাস্যুট চালানো, ঘোড়ার রেস, পর্বতারোহণ ইত্যাদির কারণে মারা গেলে; ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের সদস্য হওয়ার আগেই শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে; মাদকাসক্তির কারণে মৃত্যু হলে; যুদ্ধ অথবা দাঙ্গা অথবা নাগরিক আন্দোলন অথবা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের কারণে মৃত্যু হলে এবং গুরুতর অপরাধে আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা বিমার অর্থ ফেরত পাবেন না।

এই ক্যাটাগরির কর্মীরা কেন অর্থ ফেরত পাবেন না জানতে চাইলে জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, এসব ক্যাটাগরির জন্য আলাদা বিমা পলিসি আছে, যার প্রিমিয়াম অনেক উচ্চ।

এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, ইনস্যুরেন্স যেটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সবার জন্যই করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবেই কিন্তু যুদ্ধের এলাকায় গেলে ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম অনেক উচ্চ হিসেবে গণ্য করা হয়। যেকোনও বিপদজনক এলাকার জন্য আমি আলাদা করে বিমা পলিসির কথা চিন্তা করতে বলবো।

বিমা নীতি অনুযায়ী, বিমার মেয়াদকালে স্বাভাবিক মৃত্যু হলে অথবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে বিমার মেয়াদকালে অথবা মেয়াদোত্তীর্ণের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে মৃত্যু হলে বিমা গ্রহীতা শতভাগ সুবিধা পাবেন। আবার দুর্ঘটনার মাধ্যমে অঙ্গহানি হলেও শতভাগ বিমা সুবিধা পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে কোনও প্রবাসী কর্মীর যদি দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট অথবা কব্জির ওপর থেকে উভয় হাত কাটা/খোয়া অথবা গোড়ালির ওপর থেকে উভয় পা কাটা/খোয়া যায় তবে বিমা সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া কব্জির উপর থেকে এক হাত এবং গোড়ালির ওপর থেকে এক পা কাটা/খোয়া অথবা এক চোখ এবং কব্জির উপর থেকে এক হাত নষ্ট/কাটা/খোয়া অথবা এক চোখ এবং গোড়ালির ওপর থেকে এক পা নষ্ট/কাটা/খোয়া গেলে বিমা গ্রহীতা শতভাগ সুবিধা পাবেন।

এছাড়া এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাওয়া অথবা কব্জির ওপর হতে এক হাত কাটা বা খোয়া যাওয়া অথবা গোড়ালির ওপর থেকে এক পা সম্পূর্ণ কাটা বা খোয়া গেলে বিমা গ্রহীতা ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন।

উরুসন্ধি হতে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত সম্পূর্ণ কাটা বা খোয়া অথবা এক পা কাটা বা খোয়া অথবা নিচের চোয়াল সরে যাওয়া অথবা বৃদ্ধাঙ্গুলিসহ হাতের চার আঙুল সম্পূ‌র্ণ কাটা পড়লে বিমা গ্রহীতা ২৫ শতাংশ সুবিধা পাবেন।

হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি সম্পূর্ণরূপে কাটা বা খোয়া অথবা পায়ের সকল আঙুল কাটা বা খোয়া যাওয়া অথবা তর্জনী আঙুল কাটা বা খোয়া যাওয়া অথবা মাঝের আঙ্গুল সম্পূর্ণরূপে কাটা বা খোয়া গেলে ১৫ শতাংশ সুবিধা পাওয়া যাবে।

এছাড়া, অনামিকা আঙুল পুরোপুরি কাটা বা খোয়া অথবা ছোট আঙুল সম্পূর্ণরূপে কাটা বা খোয়া অথবা পায়ের বড় আঙুল ছাড়া যেকোনও একটি কাটা বা খোয়া অথবা পায়ের বড় আঙুলসহ চার আঙুল সম্পূর্ণরূপে কাটা বা খোয়া অথবা পায়ের বড় আঙুল সম্পূর্ণ কাটা বা খোয়া গেলে বিমা গ্রহীতা ১০ শতাংশ সুবিধা পাবেন।

তবে আংশিক স্থায়ী অক্ষমতা/পঙ্গুত্বর কারণে মৃত্যু হলে মৃত্যু দাবি (বিমা অঙ্ক) থেকে আংশিক স্থায়ী অক্ষমতা/পঙ্গুত্ব জনিত প্রদেয় দাবি বাদ দিয়ে অবশিষ্ট বিমা অঙ্ক বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

প্রবাসীরা কীভাবে বিমার আওতাভুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা করবেন জানতে চাইলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস বলেন, বিদেশগামী কর্মীর বিএমইটি ডেটাবেজে সব ধরনের তথ্য জমা থাকবে। আমাদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের একটি রুমে প্রয়োজনীয় উপকরণসহ বিমা প্রতিনিধি থাকবেন। সেখানে তারা কাজ করবেন, কর্মীদের বিমা পলিসি তৈরি করবেন। পলিসির হার্ডকপি আমরা সংরক্ষণ করবো, সফট কপি চাইলে কর্মী সেখান থেকেও নিতে পারবে অথবা অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকেও প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। টাকার জন্য কিংবা পলিসির জন্য কর্মীকে জীবন বীমা করপোরেশনে যেতে হবে না।

প্রবাসীদের বিমা প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য যখন একজন কর্মীর কাগজপত্র বিএমইটির কাছে জমা দেওয়া হয়, তখন কল্যাণ ফিও জমা দেওয়া হয়। সেখানে সাড়ে ৩ হাজার টাকার জায়গায় এখন থেকে প্ল্যান অনুযায়ী আরও ৪৯০ টাকা অথবা এক হাজার ৯৭৫ টাকার ব্যাংক ড্রাফট জমা দিতে হবে। তারপরের কাজ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের প্রিন্ট কপি নেওয়া, সেটি যেকোনও জায়গা থেকে নেওয়া যাবে। বিমার কাজের জন্য কর্মীর কোনও অতিরিক্ত ঝামেলা পোহাতে হবে না বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
প্রবাসীরা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে যেসব সুবিধা পান

মৃত প্রবাসী কর্মীর পরিবারকে যেসব সুবিধা দেয় সরকার


মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী কর্মীদের অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি চাইলো বাংলাদেশ

 

/টিটি/

লাইভ

টপ