প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে আগুনবিজয়ের দিনে বার্ন ইনস্টিটিউটে উৎকণ্ঠিত স্বজনদের আর্তনাদ

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ১৯:২৩, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৩, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯

ডডডসারাদেশ ব্যাপী বিজয় আনন্দ, উৎসবের আমেজ। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউয়ে এক অন্যরকম শোকের পরিবেশ। সেখানে উৎকণ্ঠায় সময় কাটছে কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে দগ্ধ ব্যক্তিদের স্বজনদের। কিছু সময় সুনসান নীরবতা আবার কিছু সময় পর আর্তনাদ। কেউ কেউ চাপা কান্নায় দিন পার করছেন আইসিইউয়ের বাইরে। রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৯ জন। একটার পর একটা লাশ আইসিইউ থেকে বেরিয়ে আসার দৃশ্য স্বজনদের উৎকণ্ঠা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিজয় দিবসের দিন সকাল থেকে এখানে আইসিইউয়ের সামনে তেমন কোনও জটলা দেখা যায়নি। চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের কিছু স্বজন সেখানে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন। আইসিইউয়ের ভেতর থেকে কাউকে বের হতে দেখলেই উৎকণ্ঠায় দৃষ্টি ফেরান সেদিকে। আবার হঠাৎ করেই কেউ কেউ ডুকরে কেঁদে ওঠেন।

আইসিইউয়ের করিডোরে বিষণ্ন মনে বসেছিলেন ৭০ শতাংশ পোড়া ১৯ বছর বয়সী শাহাদুল ইসলামের বাবা নজরুল ইসলাম। শাহাদুলের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হবে না বলেই ডুকরে কেঁদে উঠলেন তিনি। ছেলের শারীরিক অবস্থা কী– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডাক্তাররা বলেন “চেষ্টা করছি,” বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’

দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন আঙ্গুরা বেগম। কেরানীগঞ্জের আগুনে ছোট ছেলেকে হারিয়েছেন, বড় ছেলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। মুখ দিয়ে তার কোনও কথা বের হচ্ছে না, শুধু আর্তনাদ করছেন কিছুক্ষণ পরপর। মেজ ছেলে সোহেল জানালেন, তার মা কিছুটা বাকশক্তি হারিয়েছেন। তার ভাইয়ের শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। 

বড় ছেলে সোহাগের স্ত্রী চম্পা জানালেন, দুই দিন আগে একবার আইসিইউতে তার স্বামীকে দেখেছিলেন। এরপর আর দেখতে পারেননি। মুখ-চোখ ঝলসে গেছে সোহাগের। পুরো শরীরে ব্যান্ডেজ, মেশিনের মাধ্যমে শ্বাস চলছে তার। হাত দুটি দুই দিকে বেঁধে মাথা উঁচু করে রাখা হয়েছে।   

BT New Tempকেরানীগঞ্জে দগ্ধ ফিরোজের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তার ইনহেলেশন সিস্টেম খুলেছেন চিকিৎসকরা। তার স্ত্রী নাজমা, বোন পারভিন আইসিইউয়ের করিডোরে উৎকণ্ঠায় বসে সময় পার করছেন। ফিরোজের ইনহেলেশন সিস্টেম খুলে চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ করছেন শুনে কিছুটা স্বস্তি বোধ করলেও শঙ্কা কাটেনি এখনও।

কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানায় লাগা আগুনে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। তাদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ১০ জনের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে শতভাগ পোড়া রোগীও ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে দেড়টার মধ্যে মারা যান আরও চারজন। এরপর শনি ও রবিবারে মৃত্যু হয় আরও সাতজনের। বর্তমানে চিকিৎসাধীন পাঁচজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন এই ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন। তবে ঢামেক বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আটজন আশঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি।

সামন্তলাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইসিউতে চিকিৎসাধীন পাঁচজনের মধ্যে ফিরোজের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তার ইনহেলেশন সিস্টেম আজ আমরা খুলেছি পর্যবেক্ষণের জন্য। কারণ বার্নের রোগীর অবস্থা যেকোনও সময় আবার খারাপের দিকে যেতে পারে। তবে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন কেউই শঙ্কামুক্ত নয়, এদের বেশির ভাগই মারাত্মক দগ্ধ। আবার বার্ন ইউনিটের আটজনই চিকিৎসাধীন আছেন। তারা শঙ্কামুক্ত। তাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন।’   

 

/এসও/এমএএ/

লাইভ

টপ