‘স্যার ফজলে হাসান আবেদের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৫৪, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৯, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২০

 

ফজলে হাসান আবেদের স্মরণে এক স্মরণসভায়

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ এমনই একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন যেখানে তিনি সবার সমস্যার কথা সরাসরি শুনতেন। তার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল—বলে মন্তব্য করেছেন তার ছেলে শামেরান আবেদ। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে ফজলে হাসান আবেদের স্মরণে এক স্মরণসভায় আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের শিক্ষক ড. মার্থা চেন। সভায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পাঠানো বিবৃতি পড়ে শোনান জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো। স্যার ফজলের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন তার মেয়ে তামারা আবেদ ও ছেলে শামেরান আবেদ।

স্মরণসভার শুরুতেই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের শাহজাহান কবিতাটি আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা স্মৃতিচারণ করে বলেন, স্যার ফজলে হাসান আবেদ তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে শুধু ব্র্যাকের মতো একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই গড়ে তোলেননি, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন। ব্র্যাক কিংবা বৃহত্তর উন্নয়ন অঙ্গনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই অসংখ্য নেতৃত্ব তৈরি করেছেন তিনি। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নই তার জীবনের ব্রত ছিল।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করা এনজিওগুলোর একটি মোর্চা গঠনকল্পে স্যার ফজলে হাসান আবেদ গণসাক্ষরতা অভিযান গঠন করেছিলেন। আজ ২৩২টি এনজিও এর সদস্য। এর পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন  প্রভৃতি ক্ষেত্রেও তিনি উন্নয়নকর্মীদের কাছে ছিলেন বটবৃক্ষের মতো। আমরা তার চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো।

ড. ইউনূস বলেন, বিশ্বজুড়ে এনজিও সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকেই পাল্টে দিয়েছিল আবেদ। তার হাত ধরেই এনজিও এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। তাই আলোচনাসভা বা কয়েকটি বই প্রকাশ করেই আবেদকে স্পর্শ করা যাবে না। বিশেষ করে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আবেদের স্বপ্ন ও চিন্তা-ভাবনাকে ধরার চেষ্টা করতে হবে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অনেক জনসেবামূলক কাজে আবেদ ভাই অকুণ্ঠচিত্তে সহায়তা করেছেন। আমরা একটি কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার গড়ে তুলতে যাচ্ছি, যাতে বছরে ১ হাজার ট্রান্সপ্লান্ট করা সম্ভব হবে। সেই সেন্টারটির নাম আমরা রাখতে চাই স্যার ফজলে হাসান আবেদের নামে।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে স্যার ফজলেকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে শোনান বিশিষ্ট শিল্পী অদিতি মহসিন এবং শামা রহমান। সবশেষে আগতদের ধন্যবাদ জানিয়ে স্যার ফজল হাসান আবেদের স্বপ্নকে সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করেন ব্র্যাক গ্লোবাল বোর্ডের চেয়ারপারসন আমিরা হক।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, সাবেক পরররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার, অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনের চার্জ  দ্য অ্যাফেয়ার্স পেনি মর্টন, ডিএফআইডি-র বাংলাদেশ প্রধান জুডিথ হার্বার্টসন, বিশিষ্ট আইনবিদ ড. কামাল হোসেন, বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ড. মঈন খান, অধ্যাপক মো. ইব্রাহিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত যাদুশিল্পী জুয়েল আইচসহ আরও অনেকে।

/এমআর/এসও/

লাইভ

টপ