ব্যক্তি উদ্যোগে জীবাণুনাশক ছিটানোর আহ্বান

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২২:৪০, মার্চ ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৯, মার্চ ৩১, ২০২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিশ্বের বড় বড় শহরে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য, প্রাণঘাতী এই ভাইরাস যেন বেঁচে থাকতে না পারে। তবে রাজধানী ঢাকায় এই কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিক উদ্যোগই হতে পারে এর সমাধান। প্রত্যেকে যদি তার নিজের বাড়ির সামনের রাস্তায় জীবণুনাশক ছিটিয়ে দেয়, তাহলে সবার সম্মিলিত এই প্রচেষ্টায় কোভিড-১৯ রুখে দেওয়া সম্ভব।

এ কারণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে নিজেদের বাড়ির সামনে জীবাণুনাশক ছিটানোর আহ্বান জানাচ্ছেন পরিবেশবিদরা। তবে তারা বলছেন, জীবণুনাশক ছিটাতে হবে পরিমিত মাত্রায়, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তাদের সাধ্যমতো জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছে। রাজধানীর মগবাজার, বেইলি রোড, রাজারবাগ, শাহবাগ, পান্থপথ, কলাবাগান, ধানমন্ডি-২৭, সার্কিট হাউজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই ছিটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। রাস্তার মাঝখান দিয়ে গাড়িতে করে জীবাণুনাশক মেশানো পানি ছিটানো হলেও দু’পাশে তা যাচ্ছে না। ফুটপাতেও ছিটানো হচ্ছে না। আবার প্রধান সড়কগুলোতে ছিটানো হলেও অলিতে-গলিতে হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইচ্ছা থাকলেও সীমিত সামর্থ্যের কারণে এটা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক বড় সড়কেও এই কর্মসূচি এখনও শুরুই হয়নি। অবশ্য এমন সরু গলিও রয়েছে যেখানে গাড়ি ঢোকে না। আবার রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে লেকসিটির মতো বড় আবাসিক এলাকার প্রধান সড়কটিও এই কর্মসূচির এখনও বাইরেই রয়ে গেছে। এমন অনেক এলাকাতেই এই কর্মসূচি নেই।

সরকারের বিপুল ত্রাণ সাহায্যের উদ্যোগের সঙ্গে নাগরিকরাও গরিব-দুস্থদের খাবার দিয়ে সহায়তা করছেন। সুরক্ষা পোশাক (পিপিই) বা মাস্ক কিনে দিচ্ছেন কেউ কেউ। কিন্তু শহর পরিচ্ছন্ন করায় এখনও নাগরিক উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

সাধারণত ক্ষারযুক্ত সাবান পানিতে করোনাভাইরাস বাঁচতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের বাইরের আবরণ চর্বির হওয়ায় ক্ষারের সংস্পর্শে এলে ওই আবরণ ভেঙে ভাইরাসটি মারা যায়। এজন্য ৩০ মিনিট পর পর সাবান পানি নিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে বাসাবাড়ির চারপাশে সাবান পানি বা ব্লিচিং পাউডারযুক্ত পানি ছিটালে ভাইরাসটি বংশবিস্তার করতে পারবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকা শহরে প্রায় ৫ লাখ আবাসিক ভবন আছে। এসব ভাবনের সামনের ও পেছনের জায়গা আমরা নিজেরা যদি জীবাণুনাশক পানি দিয়ে ধুয়ে দিই, তাহলে সরকারের পাশাপাশি আমরাও এই কাজে অংশ নিতে পারি। এর ফলে শুধু করোনাভাইরাস নয়, ডেঙ্গুও প্রতিরোধ করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বহু দেশের মানুষ সপ্তাহে একদিন নিজেদের বাসার আশপাশের জায়গা পরিষ্কার করেন। আমরা উন্নত বিশ্বে প্রবেশ করছি। আমাদেরও এসব অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. আব্দুল মতিন বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের উচিত বড় রাস্তাগুলোতে জীবাণুনাশক মেশানো পানি ছিটানোর সময় আরও বেশি করে পানি দেওয়া। কারণ, রাস্তার শুধু মাঝে ভিজছে। ফুটপাত বা ফুটপাতের পাশের বাড়ির গেট বা দোকান বা দেয়ালগুলোতেও পানি দেওয়া দরকার। রাস্তায় থাকা সব জিনিসই ধুয়ে দিতে হবে। তাহলেই তাদের উদ্যোগ কার্যকর হবে।’

তিনি বলেন, ‘বড় রাস্তায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জীবাণুনাশক দেওয়া হচ্ছে, ঠিক আছে। কিন্তু অলিগলি বা বড় রাস্তার পাশের বাসাগুলো থেকেও যদি জীবাণুনাশক পানি দিতে পারি তাহলে নিজেদের বাড়ির সামনের জায়গা নিজেরাই পরিষ্কার রাখতে পারবো।’

পবা চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে, যাতে অলিগলিও বাদ না পড়ে। রাস্তায় পানি দেওয়ার সময় পাশের ফুটপাত আর ড্রেনে অবশ্যই জীবাণুনাশক দিতে হবে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক এই উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও কাজ করতে হবে।’ তবে পরিবেশের বিষয়টি মাথায় রেখে সেটি পরিমিত আকারে হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আব্দুল মতিন বলেন, ‘কেউ হয়তো না বুঝে অতিরিক্ত ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিলো, এতে পরিবেশের ক্ষতি করবে। এটিও আমাদের চিন্তা করতে হবে।’

/এইচআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ