যৌতুক ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ: সাংবাদিক স্বামীর বিরুদ্ধে নারী সাংবাদিকের মামলা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৪৮, মে ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৩, মে ১১, ২০২০

 

সাংবাদিক পারুলের স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা এজাহার

যৌতুক দাবি, নির্যাতন ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ এনে সাংবাদিক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক নারী সাংবাদিক। সোমবার (১১ মে)  রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় দৈনিক সমকাল পত্রিকার সাংবাদিক সাজিদা ইসলাম পারুল তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছেন। অভিযুক্তের নাম রেজাউল করিম প্লাবন। তিনি দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত চলছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২ এপ্রিল পারুল-প্লাবনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই যৌতুক দাবিতে নির্যাতন শুরু করেন প্লাবন। ২৯ এপ্রিল বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন প্লাবন। প্রণয়ের বিয়ের পরে যৌতুক কেন দাবি করা হচ্ছে প্রশ্ন তুললে প্রচণ্ড মারধরের শিকার হন পারুল। সেদিন ঢাকার বাসায় অসুস্থ পারুলকে রেখে মায়ের অসুস্থতার কথা বলে মোটরসাইকেল চালিয়ে গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারিতে চলে যান প্লাবন।

এজাহারে পারুল উল্লেখ করেন, শাশুড়ির অসুস্থতার কথা জেনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সহায়তায় একটি অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করে অসুস্থ শরীর নিয়েই গত ৫ মে কুড়িগ্রামের চিলমারিতে স্বামীর বাড়ি যান পারুল। কিন্তু, সেখানে তাকে তো গ্রহণ করা হয়ইনি উল্টো প্লাবনের শাশুড়ি ও পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসময় শাশুড়িকে অসুস্থ দেখেননি এবং তিনিসহ তার পরিবার সদস্যরাও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে এজাহারে সে তথ্যও উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী। স্বামী প্লাবন সেখানে তার সঙ্গে দেখাও করেনি বলে দাবি পারুলের।

সাংবাদিক প্লাবনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে এজাহারে বলা হয়েছে, ‘ঢাকায় ফিরে আমি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ি। এরইমধ্যে আমার গর্ভের ভ্রুণটি নষ্ট হয়ে যায় এবং চলাচলের শক্তি হারাই। যৌতুকের দাবিতে স্বামীর উপর্যুপরি নির্যাতন এবং মানসিক অশান্তির কারণে আমার গর্ভের সন্তানটি নষ্ট হয়েছে। আমি আমার স্বামী রেজাউল করিম ওরফে প্লাবনের বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য নির্যাতন এবং ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ আনছি। আমাদের অনাগত সন্তানটি তার নির্যাতনে পৃথিবীর মুখ দেখতে পায়নি। ’

এসব অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক রেজাউল করিম প্লাবন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। বিয়ের পরপরই ৬ এপ্রিল করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা বিষয়ক একটি বিশেষ কাজে কুড়িগ্রাম আসেন। সে কাজ প্রাথমিকভাবে শেষ করে ২০ এপ্রিল ঢাকায় ফেরেন। ২১ এপ্রিল সাজিদা ইসলাম পারুল তার বাসা গিয়ে ওঠেন। ২৯ এপ্রিল তিনি আবারও আগের কাজটি শেষ করার জন্য কুড়িগ্রামে ফিরে যান। ফলে ৯/১০ দিনের সংসারে ভ্রুণ নষ্টের ঘটনাটি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও পারুল তার আগের বিয়ের তথ্য গোপন করায় তাকে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান প্লাবন। কুড়িগ্রামে তার বাড়িতে পারুলকে মারধরের কোনও ঘটনাও ঘটেনি বলে দাবি করেছেন তিনি। 

/আরজে/টিএন/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ