ড. আনিসুজ্জামানকে জাতি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে: শোকাহত রাজনীতিকরা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৫৮, মে ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:২৪, মে ১৫, ২০২০

ড. আনিসুজ্জামান






জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষনেতারা। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকালে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট সম্মিলিত সামরিক হাসপতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা এই লেখক-শিক্ষক। রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ভাষা আন্দোলন থেকে অদ্যাবধি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। একইসঙ্গে কেবল স্বদেশেই নয়, প্রতিবেশী ভারতেও তাকে সম্মানিত করা হয়েছে।  জাতি তার অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশের কিংবদন্তিতুল্য এই বিশিষ্টব্যক্তির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনগুলোর শীর্ষনেতারা শোক প্রকাশ বিবৃতিও দিয়েছেন।



অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শোকবানীতে বলেছেন, ‘তাঁর মতো বিদগ্ধ ও জ্ঞানী মানুষের মৃত্যুতে দেশের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’  

সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ শোক-বিবৃতিতে বলেন, ‘'৫২ এর ভাষা আন্দোলন,উনসত্তরের গণঅভ্যুত্তান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা অধ্যাপক আনিসুজ্জামান শিক্ষা, শিল্প - সাহিত্য, সাংগঠনিক দক্ষতাসহ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে যে অবদান রেখেছেন জাতি তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ আজ এক বরেণ্য গুণীজন ও পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক হারালো।’ বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব মামুন হাসান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে মরহুম আনিসুজ্জামানের বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা এবং শোক- সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান রওশন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এক শোকবাণীতে বলেন, ‘শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ড. আনিসুজ্জামান এর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের একজন যোগ্য অভিভাবক হিসেবে তিনি অপরিসীম ভূমিকা রেখেছেন। তিনি স্বীয় প্রতিভা এবং যোগ্যতায় স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক এবং বাংলা একাডেমী পদকসহ অসংখ্য পদক অর্জন করেছেন। শুধু বাংলাদেশ নয় প্রয়াত আনিসুজ্জামানকে শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য ভারত সরকার পদ্মভূষণ পদকে সম্মানিত করেছেন।’

এই জাতীয় অধ্যাপকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আবদুর রব, ড. আবদুল মঈন খান, মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী , ড. রেজা কিবরিয়া, অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী। ফ্রন্টের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু স্বাক্ষরিত শোকবার্তায় বলা হয়েছে, ‘একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত এই গুণী শিক্ষাবিদের মৃত্যুতে জাতি এক কৃতি সন্তানকে হারালো।’

শিল্প-সাহিত্যে নানা অর্জনের জন্য খ্যাত ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। শিক্ষায় অবদানের জন্য তাকে ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে ভারত সরকার তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ পদক প্রদান করে। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে।

গণফোরামের পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শিক্ষা ক্ষেত্রে এই গুণী ব্যক্তিত্বের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তার বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান, প্রগতিশীল ভাবনা ও চিন্তক হিসেবে দেশে-বিদেশে সম্মানিত ছিলেন। বাংলাদেশের জন্য তিনি সম্মান বয়ে এনেছেন। তার মৃত্যুতে মুক্তবুদ্ধির চর্চার একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটলো। জাতি তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি বলেন, ‘অধ্যাপক আনিসুজ্জামান জাতির ওপর পরিচালিত ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করে জাতির ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সঙ্গে মিলে ঐতিহাসিক গণআদালত প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন। ব্যক্তিগত কোনও চাওয়া-পাওয়া-লোভ-মোহ-স্বার্থের হিসেব করে সত্য কথা বলা বা সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলা থেকে এক মুহূর্তের জন্য বিরত ছিলেন না।’

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছিলেন জাতির বাতিঘর উল্লেখ করে শোক বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। শোকবিবৃতিতে তারা বলেন, ‘তিনি জাতির বিবেকও ছিলেন। তার চিন্তা, চেতনা বাঙালি জাতিকে সমৃদ্ধ করেছে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ইতিহাস নির্মাণ করে নিজেই ইতিহাস হয়ে গেছেন।’

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে  সাবেক এমপি ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল বলেন, ‘অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, চিত্রকলাসহ সাহিত্যের নানা প্রসঙ্গে তার রচনা পুরো বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য অনন্য সংযোজন। করোনাভাইরাসের এই বিশেষ সময়ে তার মৃত্যু বাংলাদেশকে অভিভাবকহীন করে দিলো।’

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে তিনি বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। পাকিস্তানি আমলে শাসকগোষ্ঠীর বাংলা, বাঙালি সংস্কৃতি ও সাহিত্য বিরোধী যে কোনও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার কন্ঠ ছিলেন। তিনি সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে গেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য লেখক ফিরোজ আহমেদ বলেছেন, ‘ভালো থাকবেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান-- বহু ক্ষেত্রেই জাতির বিবেকের ভূমিকা পালন করেছেন আপনি। আমাদের প্রত্যাশা, অভিযোগ এবং আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে আপনি এখন। এই সব কিছু ছাপিয়ে আপনি ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের ইতিহাসের অংশ। সেইখানে আপনি দিনশেষে একজন শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবেই থাকবেন।’

আমার বাংলাদেশ পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মনজু শোকবার্তায় বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান রচনায় তার ভূমিকা এবং সংবিধানের বাংলা অনুবাদে তার অবদানের জন্যও স্মরণে থাকবেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।’

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত শোকবিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাতিঘর, দেশের গণতান্ত্রিক, সম্প্রীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আমৃত্যু লড়াকু সৈনিক, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামান। আনিসুজ্জামান আমৃত্যু লড়ে গেছেন মানুষের পক্ষে। তাঁর চলে যাওয়া জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে-যা কখনোই পূরণ হবার নয়।’

বরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যু গভীর শোক প্রকাশ করেছে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ।

সামাজিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক, সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান ও ড. বদিউল আলম মজুমদার এক বিবৃতিতে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধকালে প্রথমে তিনি শিক্ষক সমাজকে সংগঠিত করেছেন এবং পরবর্তীতে প্রবাসী সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ধর্মান্ধতা, মৌলবাদবিরোধী নানা আন্দোলনে তিনি সোচ্চার ছিলেন। দেশ একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারালো।’


এছাড়াও জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

‘নেতাকর্মীরা যখন-তখন এসে বঙ্গবন্ধুর কাজের অনেক ক্ষতি করেছিল’

/এসটিএস/টিএন/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ