পরিহিত পিপিইর কারণেই ধরা পড়েন প্রকৌশলী সেলিম

Send
রাফসান জানি
প্রকাশিত : ২৩:৩১, মে ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৬, মে ২১, ২০২০

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী সেলিমগাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় সঙ্গে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার তিন জনের একজন নিহত দেলোয়ার হোসেনের সহকর্মী সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিম। তিনি দেলোয়ার হোসেনকে তার বাসার সামনে থেকে গাড়িতে করে অপহরণের সময় পিপিই পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। পরে পিপিই পরিহিত ব্যক্তিকে খুঁজতে গিয়ে ঘটনাস্থল ও আসামি আনিসুর রহমান সেলিমের বাসার সামনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করা হয়।

এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার বাকি দু’জন- সিটি করপোরেশের গাড়িচালক হাবিব ও ভাড়াটে খুনি শাহিন হাওলাদার।

গত ১১ মে বিকাল ৪টায় উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে ফাঁকা জায়গায় অজ্ঞাতনামা একটি লাশ পাওয়া যায়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে জানা যায় নিহত ব্যক্তি দেলােয়ার হােসেন (৫০)। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (অঞ্চল-৭)। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মােছা. খােদেজা আক্তার (৪২) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে তুরাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে ১০ মে দেলোয়ার হোসেনের বাসার সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।

উত্তরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শচীন মৌলিক জানান, হত্যা মামলাটি তদন্তকালে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (অঞ্চল-৭) সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিমসহ প্রকৌশলী রাশেদ ও প্রকৌশলী সুফিয়ানকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ভিকটিমের বাসার রাস্তার আশপাশ এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করতে থাকেন তদন্ত কর্মকর্তা। ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভিকটিমের বাসার অদূরে একটি হায়েস মাইক্রোবাসে একজন সাদা পিপিই পরা ও একজন শার্ট-প্যান্ট পড়া ব্যক্তি অপেক্ষা করছেন। হঠাৎ তারা একটি রিকশাওয়ালাকে থামিয়ে তার মোবাইলফোন থেকে কাকে যেন কল করেন। কিছুক্ষণ পর রিকশাওয়ালার ওই ফোনে ফিরতি কল আসলে তারা দ্রুত ভিকটিমের বাসার দিকে গাড়ি নিয়ে রওনা দেন। ঘটনাস্থলের সাদা পিপিই পরিহিত ব্যক্তির সঙ্গে সহকারী প্রকৌশলী সেলিমের দেহের আকৃতির মিল পাওয়া যায়। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে ওই রিকশাওয়ালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ওই কিরশাচালক জানান, পিপিই পরিহিত ব্যক্তি আর প্রকৌশলী সেলিম একই ব্যক্তি। সেলিমের সঙ্গে আরও একজন ব্যক্তি ছিলেন। মোবাইলফোন থেকে কল করে মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ১০০ টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান রিকশাচালক।

প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনএ বিষয়ে উত্তরা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামরুজ্জামান সরদার জানান, গ্রেফতার সেলিমের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় সাদা পিপিই ও কালো জুতা পরিহিত একজন ব্যক্তি বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। উক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পিপিই, জুতা ও দেহের আকৃতির সঙ্গে ঘটনারস্থলে থাকা পিপিই পরিহিত ব্যক্তির হুবহু মিল পাওয়া যায়। এসব বিষয় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশ্চিত হয়ে প্রকৌশলী সেলিমকে সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে জানালে তিনি এক পর্যায়ে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। সেলিম জানান দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের কারণে দেলোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে।

উপ-পুলিশ কমিশনার কামরুজ্জামা আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম জানিয়েছেন নিহত প্রকৌশলী দেলোয়ার ও প্রকৌশলী সেলিম একই অফিসে সহকর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তাদের মধ্যে বনিবনা হতো না। হত্যাকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে শাহিন ও মাইক্রোসহ ড্রাইভার হাবিবকে সঙ্গে নেন সেলিম। ঘটনার দিন সেলিম ও তার অন্য দুই সহযোগী মাইক্রোবাস নিয়ে প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে গাড়িতে ওঠান। গাড়িটি রূপনগর বেড়িবাঁধে পৌঁছালে সেলিমের ইশারায় মাইক্রোর পেছনে থাকা শাহিন দেলোয়ারের গলায় রশি দিয়ে পেঁচিয়ে টান দেন এবং সেলিম তাকে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর মৃতদেহটি ১৭ নম্বর সেক্টরের খালি জায়গায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় দেলোয়ারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দিয়াবাড়ির তিন নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন লেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার তিন আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরমধ্যে সিটি করপোরেশের গাড়িচালক হাবিব ও ভাড়াটে খুনি শাহিন হাওলাদার দু’জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামি সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

 

আরও পড়ুন:

প্রকৌশলী দেলোয়ারের সহকর্মীর ৫ দিনের রিমান্ড, চালকসহ ২ জনের জবানবন্দি

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ