প্রান্তিক জনসংখ্যার ভিত্তিতে সরকারি ত্রাণ বরাদ্দের প্রস্তাব

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:০৯, মে ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৬, মে ২৬, ২০২০

অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ বরাদ্দ নিয়ে প্রস্তাবনা দেয় দুর্যোগ মনিটরিং কমিটিত্রাণ বরাদ্দ এবং দুর্যোগ পরিস্থিতির কোনও গুণগত পরিবর্তন হয়নি এমন দাবি করে পূর্বের প্রস্তাবের সঙ্গে আরও কয়েক দফা যোগ করে নতুন প্রস্তাবনা দিয়েছে দুর্যোগ সহায়তা মনিটরিং কমিটি। শনিবার (২৩ মে) অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন দুর্যোগ সহায়তা মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব রাখাল রাহা।

প্রস্তাবনার মধ্যে আছে, সব ধরনের বরাদ্দ হতে হবে প্রান্তিক জনসংখ্যার ভিত্তিতে। শারীরিক দূরত্ব, দুর্নীতিরোধ প্রয়োজন ইত্যাদি মাথায় রেখে বিবিএস-এর খানা জরিপের ভিত্তিতে যতদিন দুর্যোগ থাকবে প্রতি মাসে দরিদ্র এবং কর্মহীন প্রতিটি পরিবারকে একবারে ৩০ কেজি চাল এবং নগদ ১০ হাজার টাকা মোবাইলের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে হবে।

এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ভাসমান মানুষ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, যাদের অনেকেরই জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, যাদের তথ্য খানাজরিপেও নেই, তাদের কথা বিশেষভাবে ভাবতে হবে। দুর্যোগের কারণে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ দরিদ্রের কাতারে নেমে গেছে। তাদের বিবেচনায় নিতে হবে। ত্রাণ সহায়তা বিতরণে সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, দলপ্রীতি, স্বজনপ্রীতি দূর করতে হবে। এর জন্য মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর থেকে অন্যায় খবরদারি প্রত্যাহার করতে হবে, যাতে করে যেকোনও অনিয়মের চিত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পেতে পারে। এ সময় ধান, সবজি ও ফলের মৌসুম। এগুলোর উত্তোলন ও সরবরাহ চ্যানেল সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। দুধ-ডিম-পোলট্রির উৎপাদন ও সরবরাহ চ্যানেল স্বাভাবিক করতে হবে। ঘূর্ণিঝড় আম্পান, কারোনা দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষকে আরও বিপন্ন করেছে। সুতরাং, এ সময়ে সব বরাদ্দ এবং তার বণ্টনব্যবস্থা যথাযথ হওয়া প্রয়োজন। না হলে দেশ আরও সংকটগ্রস্ত হতে পারে, মানবিক সংকট আরও ঘণীভূত হতে পারে।

এ সময়ে মানুষের মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দুর্যোগ সহায়তা মনিটরিং কমিটি। মানুষের মৌলিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য সত্যিকারের উদ্যোগ নিতে হবে।

দুর্যোগ সহায়তা মনিটরিং কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আঞ্চলিক বৈষম্য একটা দেশের মধ্যে কী পরিমাণ অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে তার দৃষ্টান্ত আমরা পাকিস্তান আমলে দেখেছি। এর ভুক্তভোগী আমরা ছিলাম তখন প্রায় ৭ কোটি মানুষ। আজ ১৮ কোটি মানুষের দেশ স্বাধীন বাংলাদেশে এটা কাম্য নয়। রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে যেসব অঞ্চলের মানুষের প্রাধান্য রয়েছে, এর সঙ্গে বাংলাদেশের জেলাগুলোর দারিদ্র্যহার কম-বেশি থাকার একটা সম্পর্ক কম-বেশি দেখা যাবে। ত্রাণ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও এটার ছাপ কম-বেশি রয়েছে। যা দুর্যোগকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে বলে গত প্রতিবেদনের মতো এবারও আশঙ্কা প্রকাশ করছি। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

দুই দফায় হওয়া অনলাইন মিটিংটি সঞ্চালনা করেন দুর্যোগ সহায়তা মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব রাখাল রাহা। মিটিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন নাসির উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন আহমেদ, শহিদুল আলম, জাকির হোসেন, রাখাল রাহা, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, মোশাহিদা সুলতানা ঋতু, জাহেদ ইকবাল, গাওহর নঈম ওয়ারা, শামসুল হুদা, আনু মোহাম্মদ, হাসিব উদ্দিন হোসাইন, বাকী বিল্লাহ, হাসনাত কাইয়ূম, দীপক সুমন, চারু হক প্রমুখ।

/এসও/টিটি/এপিএইচ/

লাইভ

টপ