এবার কারাগারে হবে না ঈদের জামাত

Send
জামাল উদ্দিন
প্রকাশিত : ১৭:৪৬, মে ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৫, মে ২৪, ২০২০

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, ছবি: সংগৃহীতএবার কারাগারের ভেতরে খোলা জায়গায় ঈদের জামাত হবে না। তবে বন্দিরা চাইলে নিজ নিজ সেলে নিজেরা ঈদের জামাত আদায় করতে পারবেন। স্বজনদের দেওয়া খাবার সরবরাহ ও সাক্ষাৎ বন্ধ থাকবে। তবে কারাগারের বাইরে কারা মসজিদগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারারক্ষী ও স্টাফরা ঈদের জামাত আদায় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে একঘণ্টা ব্যবধানে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হতে পারে। কারা অধিদফতর থেকে কোলাকুলি ও হ্যান্ডশেক না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদফতরের মুখপাত্র ও এআইজি প্রিজনস মুহাম্মদ মনজুর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের ঈদের জামাত সাধারণত কারাগারের ভেতরে খোলা জায়গায় এবং বাইরে কারা মসজিদগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়। বাইরে কারারক্ষী এবং স্টাফদের জন্য ঈদের জামাত হয়। আর ভেতরে বন্দিদের জন্য ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘বাইরের কারা মসজিদগুলোতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা মেনে। প্রয়োজনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আর ভেতরের বন্দিদের যে জামাতটা খোলা জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়, সেটা এবার হবে না। বন্দিরা নিজেদের সেলের মধ্যেই নিজেরা ঈদের নামাজ পড়ে নেবে। ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি ও হ্যান্ডশেক না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে এবার কারারক্ষী ও স্টাফদের ঈদ শপিংয়ে না যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এআইজি প্রিজনস মুহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা-সাক্ষাৎ আগে থেকেই বন্ধ আছে। ঈদ উপলক্ষে এমনিতেই দেখা-সাক্ষাতের চাপ বেড়ে যায়। সে কারণে এবার ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ থাকবে। ইতোমধ্যে দেশের সব কারাগারে এই বিষয়ে নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রতিবছর স্বজনদের কাছ থেকে বন্দিদের জন্য যে খাবার পাঠানো হয়, সেটা দেওয়া বন্ধ থাকবে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টি চিন্তা করে। ঈদের দিন কারাগারের পক্ষ থেকে উন্নত খাবার দেওয়া হয়। সেজন্য ওইদিন স্বজনদের পক্ষ থেকে খাবার না দিলেও চলবে।’

তিনি বলেন, ‘এবার ঈদের পরের দিনও বন্দিদের ভালো ও উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা হবে। আর যারা কারাগারের বাইরে হাসপাতালগুলোর প্রিজন সেলে আছেন, তাদের খাবার সরবরাহ করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।’

মনজুর হোসেন বলেন, ‘কারাগারে খাবার বিতরণের সময় যে লাইন হয়, সেই লাইনে প্রত্যেককে ছয় ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে খাবার নিতে হবে। আর যারা বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থ তাদের ওয়ার্ডেই খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে।’

তিনি জানান, সকালে মুড়ির সঙ্গে পায়েস অথবা সেমাই দেওয়া হবে। ছোট কারাগার হলে দুপুরে পোলাও, গরু ও খাসির মাংস দেওয়া হয়। বড় কারাগার হলে এই খাবার বিকালে দেওয়া হয়। আর রাতের খাবার হিসেবে সাদা ভাতের সঙ্গে আলুর দম ও মাছ দেওয়া হবে।

 

/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ