গণস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে ‘প্রটোকল’ না মানার অভিযোগ ওষুধ প্রশাসন ও বিএসএমএমইউ’র

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ২৩:৫৯, মে ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩০, মে ২৭, ২০২০

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষকদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস শনাক্তে ‘জিআর র‌্যাপিড ডট ব্লট’ কিটের সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিধিবদ্ধ প্রটোকল অনুসরণ না করার অভিযোগ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে আমাদের স্টাডি শেষ হয়নি। তারা প্রথমে বলেছিল ব্লাড থেকে টেস্ট করবে; এখন বলছে, সেলাইবা ( লালা) থেকে টেস্ট করবে। গত ২০ মে তারা অ্যান্টিজেনের কিট দিয়েছে। স্টাডি শেষ হবে কীভাবে?’ মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এসব কথা বলেন।

কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের কাছে এসবের অফিসিয়াল ডকুমেন্টস রয়েছে। অথচ তারা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কথা বলছে। রক্ত থেকে পরীক্ষার বদলে লালা পরীক্ষার কারণে পুরো প্রটোকল বদলাতে হবে, তারপরও দ্রুততার সঙ্গে আমরা সেটা করার চেষ্টা করছি। তাদের সঙ্গে প্রথম থেকেই গোপনীয়তার যে চুক্তি, সেটাও তারা বারবার ভঙ্গ করেছেন।’

বিএসএমএমইউ এর ভিসি বলেন, ‘সব কিছু শেষ হোক, আমরা আমাদের কথা বলবো। তারা যেভাবে কিট দিচ্ছে আমরা সেভাবেই করছি। আমরা এখন রিফিউজ করতে পারতাম, কিন্তু তাতে করে একটা ব্লেইম আসবে।’ রিফিউজ না করে চুপচাপ কাজ করছি মন্তব্য করে কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘তারা যা দিয়েছে তা দিয়েই কাজ হচ্ছে। রেজাল্ট যা পাই তাই পাবলিশ করে দেবো।’

গণস্বাস্থ্যের করোনা শনাক্তের কিটএ ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক মো. রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণস্বাস্থ্যের পারফরমেন্স স্টাডি হচ্ছিল। সেই স্টাডি সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। কিন্তু এই স্টাডিই মূল বিষয়। বিএসএমএমইউর ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্তা পরিষ্কার- গণস্বাস্থ্যকে বলা হয়েছিল বিএসএমএমইউর রিপোর্ট পাওয়ার পরই কেবল নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কিন্তু বিএসএমএমইউর রিপোর্ট ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পাইনি আমরা।’

বিএসএমএমইউ’র প্রতিবেদন পাওয়ার আগে গণস্বাস্থ্যের বর্তমান কার্যক্রম প্রসঙ্গে ওষুধ প্রশাসনের এই পরিচালক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাই নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন না হওয়া পর্যন্ত বা রেজিস্ট্রেশনবিহীন কিছু যেন ব্যবহার, পরীক্ষণ, সরবরাহ বা বাজারজাতকরণ থেকে আপাতত বিরত থাকা হয়। আর স্টাডি রিপোর্ট না আসলে তো রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া করা যাবে না।’

মো. রুহুল আমিন আরও বলেন, ‘ওষুধ প্রশাসন থেকে কাউকে থামিয়ে দেওয়া বা এ রকম কিছু আসলে করা হয়নি। মূলত তাদের কাজটিই শেষ হয়নি বিএসএমইউতে। আমরা যতদূর জানি, পারফরমেন্স স্টাডির কাজ চলমান রয়েছে। আর গণস্বাস্থ্যও কিন্তু বলেছে, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের অনুরোধে আমরা স্থগিত করেছি।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএসএমএমইউ’র কাজ পুরো শেষ হয়নি সেটা জানি। তিনশ’টি করেছে, আর কত করবে, করুক। আমাদের প্রতিষ্ঠান নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত করছে।’

 

 

/এসটিএস/এমআর/আইএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ