আর্থিক সংকটে ঢাবির করোনা ল্যাব চালু রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা

Send
সিরাজুল ইসলাম রুবেল
প্রকাশিত : ১৭:৩০, মে ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৩, মে ২৭, ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা পরীক্ষার ল্যাব চালু রাখতে আর্থিক সংকটে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই এই ল্যাবটি কতদিন পরিচালনা করা যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।   ইতোমধ্যে আর্থিক সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার সহায়তা না করলে এই ল্যাব বেশি দিন চালু রাখা সম্ভব হবে না।   

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেয়ে গত ৫ মে করোনার নমুনা পরীক্ষার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাবটি চালু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাবির সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস (কারস) ভবনে এই ল্যাব স্থাপন করা হয়। শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কিট, পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক খরচে  চলছে করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম। ল্যাব পরিচালনায় আর্থিক সহযোগিতা না পেলে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে এটি পরিচালনা করা কঠিন হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা এও বলছেন, ৩১ মে’র পর আর এই ল্যাব চালানো যাবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম এ মালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের যা সক্ষমতা আছে তা দিয়ে হয়তো ৩১ মে পর্যন্ত ল্যাব চালাতে পারবো। কারণ, ফাইন্যান্সের বিষয় আছে, স্বেচ্ছাসেবীদের বিষয় আছে। আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি আমাদের অন্য ডিপার্টমেন্ট থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের যে গবেষণা ছিল সেগুলো ব্যাহত হচ্ছে। হয়তো শিগগিরই তাদের প্রতিষ্ঠান চালু হয়ে যাবে, অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠানে ল্যাব চালানো খুব কষ্টসাধ্য।’ তিনি বলেন, ‘যদি এটা চালাতে হয়, তাহলে হয়তো স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে কোনও সমঝোতা স্মারক করে করা যেতে পারে। কারণ, এখানে তো স্বেচ্ছাসেবীদের জোরপূর্বক কাজ করানো যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে যে, ৩১ তারিখ পর্যন্ত আমরা চালাবো। আমাদের ফ্যাকাল্টিগুলো এতদিন সহায়তা করেছে বলে চালানো গেছে। এরপর হয়তো আর সম্ভব হবে না। যদি সরকার সহায়তা করে তাহলে হয়তো দীর্ঘ সময় ধরে চালানো সম্ভব হতে পারে।’  

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করোনা ভাইরাস রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শরীফ আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ল্যাব পরিচালনা করতে প্রতিমাসে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার আর্থিক খরচ হচ্ছে, যা বহন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কঠিন এবং বাড়তি চাপ।’

তিনি বলেন, ‘করোনা টেস্টিং ল্যাব পরিচালনায় কিছু আর্থিক খরচ আছে, যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেয় না। এ কারণে আর্থিক চাপ পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর এসে পড়ে। আমরা আপদকালীন সময়ে এই সেবা চালু করেছি। তাছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় তো হাসপাতাল না বা স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার কোনও প্রতিষ্ঠানও না। সুতরাং, সেখানে কোনও সেবা প্রদান করতে গেলে আর্থিক খরচ রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুধু টেস্টিং কিট প্রদান করছে। কিন্তু এটা পরিচালনার সঙ্গে আরও  অনেক খরচ আছে।  প্রতিমাসে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আর্থিক সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছি। তারা এটাতে এখনও সাড়া দেয়নি৷ এতদিন যাবৎ যে খরচ লেগেছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই বিভিন্নভাবে বহন করেছে। পলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে যায়৷ ড. শরীফ আখতারুজ্জামান জানান, যারা ল্যাব পরিচালনার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছা শ্রম দিচ্ছেন, তাদের আইসোলেশনে থাকতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রণোদনার আওতায় আনা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়াও ঈদের পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অফিস সীমিত আকারে খোলা হতে পারে৷ আমাদের ল্যাবটির যন্ত্রাংশ পর্যাপ্ত ছিলে না৷ যার কারণে বিভিন্ন বিভাগ থেকে ইকুইপমেন্ট আনা হয়েছে৷ যার কারণে অনেক শিক্ষকের গবেষণা কাজের ব্যাঘাত ঘটছে৷ সবকিছু মিলিয়ে সরকারের সহযোগিতা যদি না পাওয়া যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এটি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে৷ যদিও আমরা এখনও বন্ধ করে দিইনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখরুজ্জামান বলেন, ‘কিটের কোনও সংকট নেই৷ ঈদের জন্য অল্প কয়েকদিন ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে৷ বুধবার থেকে (২৭ মে) থেকে আবারও চালু করা হচ্ছে। এটি সম্পর্কে ভালো তথ্য দিতে পারবেন টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা।’

আর্থিক সহায়তা চেয়েও মন্ত্রণালয় থেকে সাড়া না পাওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কোভিড-১৯ বিষয়ক মিডিয়া সেলের প্রধান মো. হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদের বন্ধে সবাই কাজ করলেও এই বন্ধ কিছুটা প্রভাব ফেলেছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে। আর  চিঠিটা তারা (ঢাবি) মন্ত্রণালয়ের কোথায়, কার হাতে দিয়েছে, সেটা জানতে পারলে হয়তো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারবো, যদি একটা কপি আমি হাতে পাই। যদিও এই বিষয়টি আমি দেখি না। যারা দায়িত্বে আছেন তাদের দৃষ্টিতে ঠিকমতো এনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমি অনুরোধ করবো।’

 

/জেএ/এসও/এপিএইচ/

লাইভ

টপ