অর্থ পাচারের মামলায় রাশেদ চিশতীর জামিন স্থগিত থাকছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৪৭, মে ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৯, মে ২৮, ২০২০

হাইকোর্ট১৫৯ কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) উদ্যোক্তা পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীর জামিন নিয়মিত আদালত খোলা না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন।

এরআগে, ঢাকার একটি আদালত এ মামলায় রাশেদুলকে জামিন দেন। পরে গত ২০ মে সেই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৮ মে পর্যন্ত জামিন স্থগিত করেন। তবে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) শুনানি শেষে রাশেদুলের জামিন আদেশের বিষয়ে পুনরায় স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল এ মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যাংকিং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাহবুবুল হক চিশতী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্ত্রী, সন্তান ও নিজের নামে এবং নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২৫টি হিসাব খোলেন। পরে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সহায়তায় গ্রাহকদের হিসাব থেকে পাঠানো ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা ওই ২৫টি হিসাবে স্থানান্তর করেন। এসব টাকা নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের নামে কেনা শেয়ারের দাম পরিশোধ করেন।

এজাহারে বলা হয়, লেনদেনের একটি বড় অংশই হয়েছে গুলশান শাখা থেকে। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্সের চলতি হিসাবে গুলশানে প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা জমা হয়। এর পুরোটাই নগদে তুলে নেওয়া হয়। বাকি ২১ কোটি টাকা বিভিন্ন হিসাব থেকে লেনদেন হয়। মামলার পরপরই চিশতীসহ চার জনকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে দুদক। অন্য তিন জন হলেন চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকের এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খান। পরে ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর ফারমার্স ব্যাংকের ১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী), মাহবুবুল হক চিশতীর স্ত্রী রুজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ফারমার্স ব্যাংকের চাকরিচ্যুত এসভিপি জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও চাকরিচ্যুত ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন।

 

/বিআই/টিটি/

লাইভ

টপ