স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে বাস, ভাড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ২৩:১৪, জুন ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৮, জুন ০৩, ২০২০

স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজধানীতে বাস চলাচল করেছে দ্বিতীয় দিনেও।

দেশে করোনা সংক্রমণের মধ্যে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী গণপরিবহন চালু হওয়ার দ্বিতীয় দিন আজ। টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে রাজধানীতে চলাচল শুরু করেছে বাস। স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে পরিবহন চালানোর নির্দেশনার পাশাপাশি সীমিত যাত্রী বহনের নির্দেশনা দিয়ে ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বাসভাড়া। বাসে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের প্রশ্ন তেমন না থাকলেও, মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে। 

সোমবার (২ জুন) সকাল থেকে কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বাসেই আসনের চেয়ে যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। সকালবেলা অফিসগামী যাত্রীদের চাপ থাকলেও বাসের ভেতরে সেই চাপ দেখা যায়নি। মিরপুর থেকে মতিঝিলগামী বাস কিংবা আজিমপুর থেকে উত্তরাগামী কোনও বাসেই অতিরিক্ত যাত্রী দেখা যায়নি। এসময় বাসচালককে মাস্ক মাথায় ক্যাপ এবং দরজায় চালকের সহকারীকে (হেলপার) হাতে স্যানিটাইজার নিয়ে বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যাত্রী ওঠানোর সময় স্প্রে করতেও দেখা যায় তাদের। কিছু কিছু বাসের সিটে আলাদা প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে রাখতে দেখা যায়। যদিও বিভিন্ন স্টপেজে রাস্তায় দাঁড়ানো অনেক যাত্রী দেখা গেছে।

স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী বাস চলাচল করেছে দ্বিতীয় দিনেও। ট্রাফিক পুলিশ দেয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।

মিরপুর থেকে মতিঝিলগামী ট্রান্স সিলভা পরিবহনের চালক জানান, মালিকের নির্দেশেই সিটে আলাদা প্লাস্টিক লাগানো হয়েছে। সব যাত্রী নেমে যাওয়ার পর পুরো বাস স্প্রে করা হয়। তাছাড়া সরকার নির্ধারিত রেটেই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির কারণে বাসে এক সিট খালি রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী তোলার নির্দেশনা দিয়ে গত ৩১ মে রাষ্ট্রপতির আদেশে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এতে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লা রুটে বাস বা মিনিবাস চলাচলের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে ২০১৬ সালের ৩ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে যে বাসভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল (যাত্রী প্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ১.৪২ টাকা) সেই বিদ্যমান ভাড়া সারাদেশে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইভাবে রাজধানী ও চট্টগ্রাম মহানগরীরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভাড়ার ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়।

বাসে মানা হয় স্বাস্থ্যবিধি

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাস বা মিনিবাস চলাচলের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে প্রজ্ঞাপনে যাত্রীদের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি কিলোমিটারে যথাক্রমে ১ দশমিক ৭০ টাকা ও ১ দশমিক ৬০ টাকা। আর বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হছিল যথাক্রমে ৭ টাকা ও ৫ টাকা। সব ক্ষেত্রেই এই ভাড়ার ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে সরকারি ওই নির্দেশনায়। সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস উভয় ক্ষেত্রে ভাড়ার হার মাথা পিছু প্রতি কিলোমিটারে ১.৬০ টাকা ছিল। যাত্রী প্রতি এই ভাড়াও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে ।

বাসে ওঠার সময় যাত্রীর হাতে স্যানিটাইজার স্প্রে করছেন একজন বাস সহকারী (হেলপার)।

এদিকে, করোনা সংকটের সময় সীমিত আসনে বাস ভাড়া বাড়ানো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সাভার থেকে প্রতিদিন কলাবাগান আসেন অশোক। তিনি সন্তোষজনক কণ্ঠে জানান, আগে সাভার থেকে এখানে আসতে ভাড়া লাগতো ৪০ টাকা, ৬০ শতাংশ বাড়ানোর পর ৬৬ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ভাড়া সরকার নির্ধারিত রেটের বেশি নিচ্ছে না। এছাড়া বাসের ভেতর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে বসানো হচ্ছে, স্প্রে করছে।

তবে মিরপুরগামী আরেক যাত্রী ফারুক বলেন, ভাড়া একটু বেশি মনে হচ্ছে। তবে যাত্রী কম আর স্টপেজ কম থাকায় সময় একটু কম লাগছে। ভাড়া একটু কম হলে ভালো হতো। কারণ, সবার পক্ষে তো এই ভাড়ায় প্রতিদিন চলাচল করা সম্ভব না। ভাড়া বেড়েছে কিন্তু বেতন তো বাড়েনি। বরং অনেকের বেতন হচ্ছে না। ঈদে বোনাসও হয়নি। আর্থিক সংকটে আছে অনেকেই। তাই ভাড়া কমিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে পরিবহন চলাচল নিশ্চিত করলে আরও ভালো হতো। 

দ্বিতীয় দিনে।

বিভিন্ন রুটে গিয়ে আরও কয়েকজন বাসযাত্রীর সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে সবার কাছেই এই দুটি মত। এখন যর‌্যন্ত যাত্রীসেবায় সন্তুষ্ট তারা। এদের বেশিরভাগই বাসাভাড়া একেবারে বেশি বাড়ানো হয়েছে এমন মত দিচ্ছেন। তবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীসেবা দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তাদের কাছে ভাড়াটা সহনশীল মনে হয়েছে।  

 

/এসও/টিএন/

লাইভ

টপ